ঢাকা, শুক্রবার 17 August 2018, ২ ভাদ্র ১৪২৫, ৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নীলফামারীতে দুঃস্থের চাল বিত্তের পেটে ভিজিএফ বিতরণে তেলেসমাতি কারবার

নীলফামারী সংবাদদাতা : নীলফামারীতে ভিজিএফ এর দুঃস্থের চাল নিয়ে রীতিমতো চালবাজি শুরু হয়েছে গোটা জেলায়। কোথাও চলছে ট্রাক ভর্তি চাল পাচার। কোথাওবা টাকার বিনিময়ে কার্ড বিতরণ। কোথাও কোথাও অর্ধেক চাল দেয়ার শর্তে কার্ড প্রদান। কোথাও পরিমাণে কম দিয়ে দুঃস্থের চাল বিভিন্ন হাত গলিয়ে চলে যাচ্ছে বিত্তের পেটে। আবার কোথাওবা ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষ সহযোগীতায় চলছে চাল বিক্রি। চাল বিতরণ কেন্দ্রের পাশেই ফাঁদ পেতে বসে আছেন দালাল-ফড়িয়ারা। 

কার্ডধারী চাল হাতে পেতে না পেতেই দালাল-ফড়িয়াদের-দৌঁড়ঝাপ শুরু হচ্ছে। একই অবস্থা জেলার সব ইউনিয়নেই। যেন বিষয়টি দেখার কেউ নেই। জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে নীলফামারী জেলায় এবার ৪ লাখ ৪ হাজার ৩১৫ জন অসহায় দুঃস্থ মানুষের জন্য কার্ড প্রতি ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এদিকে চাল বিতরনের শুরু থেকেই ব্যাপক অনিয়ম আর কারসাজির অভিযোগ জেলাজুড়েই। গত ৯ আগষ্ট রাতে ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী বাজারে ভিজিএফ এর ২৪৬ বস্তা চালসহ একটি ট্রাক্টর আটক করে স্থানীয় লোকজন। আটককৃত ওই সব চাল জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের অসহায় দুঃস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দ ছিল। অভিযোগ উঠেছে, চাল বিতরনের আগেই খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করেই তা পাচার করার সময় ধরা পরে। ওদিকে ১২ আগষ্ট রাতে ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে ঝুনাগাছ চাপানী বাজারে মিছিল সমাবেশ করে ওয়ার্কাস পাটি। ওই ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ড ও চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেয়ায় অভিযোগ উঠেছে। ভিজিএফ কার্ড বিতরণের সময় চাল পেলে অর্ধেক (১০ কেজি) এই শর্তে কার্ড দেয়া হয়েছে অনেককে। একই অবস্থা ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, জলঢাকা উপজেলার কাঠালী, কৈমারী, নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম, মাগুড়া, নিতাই, পুটিমারী, ডোমার উপজেলার গোমনাতী, ভোগডাবুড়ী, মির্জাগঞ্জ, বোড়াগাড়ী, সোনারায়, পাঙ্গা-মটুকপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে। সরেজমিনে জেলার ডোমার উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে দেখা গেছে চাল বিতরনে হ-ষব-র-ল অবস্থা। সোনারায় ইউনিয়নে নাম তালিকাভুক্তি ছাড়া রেজিষ্টার খাতায় একজনের কাছে ৫ টি টিপসহি নিয়ে ১০০ কেজি চাল বিতরন করা হচ্ছে। জোড়াবাড়ী ইউনিয়নে ৫ টি আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা নিয়ে প্রতিজনকে দেয়া হচ্ছে ১০০ কেজি চাল। নেই কোন বিতরনের রেজিষ্টার। এ দৃশ্যগুলি প্রশাসন দেখলেও চোখ বুজে এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা জানান, যখন যেখানে অভিযোগ পাচ্ছি আমরা তা সমাধান করছি। সরকারী কর্মকর্তাদের এমন দাবী প্রত্যাখান করে স্থানীয়রা ভিজিএফ চাল বিতরণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে জেলা ত্রাণ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এরই মধ্যে কোথাও কোথাও অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিষয়টি স্বীকর করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ