ঢাকা, শুক্রবার 17 August 2018, ২ ভাদ্র ১৪২৫, ৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোরবানীর ঈদ সামনে রেখে কামারশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছে

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, (ফটিকছড়ি) থেকে: আর কদিন পর মুসলমানদের অন্যতম র্ধমীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। কোরবানী পশু জবাই ও মাংস টুকরো করার জন্য দা ছুরী অপরিহার্য। আর এ দা ছুরী তৈয়ার করে কামারশিল্পীরা। পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ফটিকছড়িতে ব্যাস্থ সময় কাটাচ্ছে কামাররা। দম ফেলবারও যেন ফুসরত নেই তাদের। দিন রাত টুং টাং শব্দ আসছে কামার দোকান থেকে।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় হেয়াকো বাজার, কাজীর হাট বাজার, নাজিরহাট, বিবিরহাট, নানুপুর, আজাদীবাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা, চাবুক, বটি, ধামাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বানাচ্ছে কামাররা। এসব ব্যাবহার্য জিনিস স্থানীয় চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে  নিয়ে যাচ্ছে পাইকারী ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় বাজার থেকে লোহা কিনে সেগুলো আগুনে পুড়ে দা, চাবুক,বটি,দামাসহ বিভিন্ন জিনিস পত্র তৈরী করছে কামাররা। র্বতমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শীল্পের র্দুদিন চললেও পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে এ শিল্প। 

দা ছুরিতে শান দিতে আনা  মোহাম্মদ ইউছুফ বলেন,কদিন পর কামাররা আরো ব্যস্থ হয়ে পড়বে, তাই দা ছুরিতে শান দেওয়ার জন্য আগে বাগে নিয়ে আসলাম। তবুও দাম বেশি চাইছে কামাররা। 

নাজিরহাট বাজারের কামার শিল্পী মধাব বাবু বলেন এক সময় কামারদের যে কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রাদির প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হারাচ্ছে । হয়ত বা এক সময় এই পেশা আর থাকবে না। হেয়াকো বাজারের কামার গৈারাঙ্গ বলেন আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই কাজ করে আসছে সারা বছর তেমন কাজ হয় না কোরবান আসলে আমাদের ভাল কাজ হয় যাদিয়ে সারা বছর চলার জন্য কিছু আয় করে রাখি। নানুপুর বাজারের কামার শিল্পী নারায়ন বাবু বলেন এই পেশায় আমরা যারা আছি খুবই অবহেলিত। এই পেশায় সংসার চালাতে হিমশীম খেতে হয়। কোরবানের ঈদ আসলে কিছু টাকা আয় করতে পারি। সচেতন মহল মনে করেন কামারদের সরকার কিছু আর্থিক সহযোগীতা প্রধান করা দরকার  তা না হলে হয়ত এ শীল্প একদিন হারিয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ