ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রে খালেদা জিয়াও জড়িত: শেখ হাসিনা

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা ষড়যন্ত্রে খালেদা জিয়াও জড়িত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় শোক দিবস বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি একথা বলেন। 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের স্ত্রী (খালেদা জিয়া) জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদের ভোট চুরির মাধ্যমে জাতীয় সংসদে জায়গা করে দেন। এর অর্থ কী দাঁড়ায়? জাতির পিতা হত্যা ষড়যন্ত্রে শুধু জিয়াউর রহমানই নয়, খালেদা জিয়াও জড়িত। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুনিরা সব সময় খুনিই হয়। এরাই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। কাজেই এদের হাতে দেশের ক্ষমতা গেলে দেশের কি উন্নতি হবে, দেশের মানুষ কি ন্যায়বিচার পাবে?’

দেশে আর কোনো দিন খুনিদের রাজত্ব ফিরে না আসার ব্যাপারে দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুনিদের রাজত্ব এ দেশে আর আসবে না, আসতে দেওয়া হবে না। মুজিব আদর্শের প্রতিটি সৈনিককেই এ প্রতিজ্ঞা নিয়ে চলতে হবে, কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র দিয়েছে বলে অনেকে জিয়াউর রহমানকে বাহবা দেয়ার চেষ্টা করেছে। আমার প্রশ্ন, জিয়াউর রহমান কিভাবে ক্ষমতায় এসেছিলেন? অস্ত্রের মুখে বিচারপতি সায়েমকে হটিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করলেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন জিয়াউর রহমান। গুম আর হত্যা করাই তো ছিল তার কাজ। হাজার হাজার সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব এটাই আজকের দিনে আমার প্রতিজ্ঞা। এ প্রতিজ্ঞা আওয়ামী লীগের। মুজিব আদর্শের সৈনিক প্রত্যেককে এ আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া না, জাতির পিতার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করে আমরা ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’

সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিল। কারা তাদের উসকানি দিয়েছিল। ডিজিটাল বাংলাদেশ আমি করে দিয়েছি, সে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, মিডিয়া ব্যবহার করে তারা উসকানি দিয়ে, মিথ্যা কথা বলে, দেশে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তারা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।

তিনি বলেন, যারা এসব করেছে তাদের ভেতরে অনেকে নামিদামি জ্ঞানী অনেক কিছু তারা। অনেক বড় ইন্টেলেকচুয়াল। তাদের রক্তের সূত্রটা কোথায়? বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি সবুর খান। তার বোনের ছেলে ওই ধরনের যারা পাকিস্তানি চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী। তাদের বংশধর থেকে শুরু করে অনেকেই এর মধ্যে জড়িত। আবার তাদের ধরলে দেখি আন্তর্জাতিকভাবে খুব হইচই। কেন? যে যত বড়ই হোক না, কেউ যদি অন্যায় করে, কেউ যদি উসকানি দেয় ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ব্যবহার করতে চায়, তাদের কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তৃতীয়পক্ষ ঢুকেছিল একথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম ২/৩ দিন শিশুরা রাস্তায়। আপনারা দেখেছেন ধৈর্য দেখিয়েছে সবাই, পুলিশ বলেন, বিজিবি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতা বলেন বরং সব রকম সহযোগিতা করা হয়েছে।

আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, সাহারা খাতুন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শ ম রেজাউল করিম, কার্যনির্বাহী সদস্য সিমিন হোসেন রিমি ও আনোয়ার হোসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ