ঢাকা, সোমবার 19 November 2018, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কুরবানি যোগ্য ও অযোগ্য পশু চিনবেন যেভাবে

হাফেজ মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন:

জিলহজ মাস শরু হয়েছে। আর কয়েকদিন পরেই কুরবানির ঈদ। এরইমধ্যে কুরবানির হাট বসতে শুরু করেছে। কোন পশু কুরবানির যোগ্য তা কুরবানি দাতার জানা প্রয়োজন। এছাড়া এক পশুতে কয়জন শরিক হতে পারবে? আর পশুর ধরণ কী হবে অথবা কোন পশু কুরবানির যোগ্য তা জানা প্রয়োজন। সেরকম কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা তুলে ধরা হলো-

এক পশুতে শরীকের সংখ্যা কত?

ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দিয়ে শুধু একজনই কুরবানি দিতে পারবে। তাতে কয়েকজন  মিলে কুরবানি করা যাবে না। আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরিক হতে পারবে। সাতের অধিক শরিক হলে কারো কুরবারি সহি হবে না।(মুসলিম শরীফ ১৩১৮; মুয়াত্তায়ে মালেক ১/৩১৯)

কোনো অংশীদারের নিয়তে গলদ থাকলে

মাসআলা: যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কুরবানি না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কুরবানি করে তাহলে তাকে অংশীদার বানালে কারো কুরবানি হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরিক নির্বাচন করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮; কাযীখান ৩/৩৪৯)

কুরবানির পশুতে আকিকার অংশ

মাসআলা: কুরবারিন গরু, মহিষ ও উটে আকিকার শরিক হতে পারবে।(রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২)

খোড়া, রুগ্ন ও দুর্বল পশুর কুরবানির হুকুম

মাসআলা: যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না এমন পশুর কুরবানি জায়েজ নয়। অথবা এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানি করা জায়েজ নয়। (তিরমিজি শরীফ ১/২৭৫; আবু দাউদ শরীফ ৩৮৪; ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/২৯৭)

শিং ভাঙা, অন্ধ, কানা বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী

মাসআলা: যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কুরবানি জায়েজ নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙে গেছে কিংবা একেবারেই শিং উঠেনি সে পশু দ্বারা কুরবানি করা জায়েজ।(তিরমিজি শরীফ ১/২৭৬; আবু দাউদ শরীফ ৩৮৮) অথবা যে পশুর লেজ বা কোনো কান এক তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি কাটা সে পশুর কুরবানি জায়েজ নয়। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। (তিরমিজি শরীফ ১/২৭৫;মুসনাদে আহমদ ১/৬১০)

এছাড়া যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ  বা চোখ পুরো নষ্ট বা এক চোখের দৃষ্টিশক্তি একতৃতীয়াংশ বা তারও অধিক নষ্ট হয়ে গেছে সে পশু দ্বারা কুরবানি করা জায়েজ নয়। (তিরমিজি শরীফ ১/২৭৫; ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ২৯৭)

বন্ধ্যা পশু দিয়ে কুরবানি

মাসআলা: বন্ধ্যা পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫)

নিজের কুরবানি নিজেই জবাই করা

মাসআলা: কুরবানিদাতা যদি নিজেই পশু জবাই করেন সেটিই উত্তম। নিজে না পারলে অন্যকে দিয়েও জবাই করাতে পারবে। এক্ষেত্রে কুরবানিদাতা পুরুষ হলে জবাইস্থলে তার উপস্থিত থাকা ভালো।(মুসনাদে আহমদ,২২৬৫৭; ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩০০)

কুরবানির পশু থেকে কোনো সুবিধা আদায়

 মাসআলা: কুরবানির পশু কেনার পর বা নির্দিষ্ট করার পর তা দিয়ে উপকৃত হওয়া জায়েজ নয়। যেমন হাল চাষ করা,আরোহণ করা, পশম কাটা ইত্যাদি। সুতরাং কুরবানির পশু দ্বারা এসব করা যাবে না। যদি করে তবে পশমের মূল্য, হাল-চাষের মূল্য ইত্যাদি সদকা দিতে হবে।(মুসনাদে আহমদ ২/১৪৬; ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩০০)

কোনো শরিকের মৃত্যু ঘটলে

মাসআলা: কয়েকজন মিলে কুরবানি করার ক্ষেত্রে জবাইয়ের আগে কোনো শরিকের মৃত্যু হলে তার ওয়ারিসরা যদি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানি করার অনুমতি দেয় তবে তা জায়েজ হবে। না হয় ওই শরিকের টাকা ফেরত দিতে হবে। অবশ্য তার স্থলে অন্যকে শরিক করা যাবে। (আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬; কাযীখান ৩/৩৫১)

মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানি

মাসআলা: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবারি করা জায়েজ। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানি হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানির স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে এবং আত্মীয়-স্বজনকেও দিতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানির ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরাও খেতে পারবে না। গরীব-মিসকিনদের মাঝে সদকা করে দিতে হবে। (মুসনাদে আহমদ ১/১০৭; কাযীখান ৩/৩৫২)

কুরবানির গোশত জমিয়ে রাখা

মাসআলা: কুরবানির গোশত তিনদিনেরও বেশি সময় রেখে খাওয়া জায়েজ। (মুসলিম শরীফ ২/১৫৯; মুয়াত্তায়ে মালেক ১/৩১৮)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ