ঢাকা, শনিবার 18 August 2018, ৩ ভাদ্র ১৪২৫, ৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এবারও মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি করা হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার: কুরবানির ঈদের আর মাত্র তিন দিন বাকি। ঈদ সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার মিয়ানমার থেকে ১১শ’ গরু-মহিষ নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। যেগুলো শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে রাখা হয়েছে। ঈদের আগে বৈধ পথে দেশটি থেকে আরও ১০ হাজার পশু আমদানির টার্গেট রয়েছে ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এর বাহিরেও অবৈধ পথে প্রতি দিন শত শত গরু আসছে।
গত বছরও মিয়ানমার থেকে গরু আমদানি করা হয়েছিল। নানা বাঁধার কারনে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা সমস্যা হচ্ছে। ভারত থেকে গরু আমদানি থেকে সমস্যা না হলেও মিয়ারমার থেকে আমদানি করা অনেক জটিলতা হচ্ছে। আর কারনেই বৈধ অবৈধ পথে ভারত থেকে গরু আমদানি করছে ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন দেখা যায়, গতকাল শুক্রবার সকালে মিয়ানমার থেকে সাগরপথে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে ১০টি ট্রলারে করে এক হাজার ১২৯টি গরু-মহিষ দ্বীপের জেটি ঘাটে এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭৭টি গরু এবং ৫২টি মহিষ। এসব গবাদিপশু আবদুল্লাহ মনির, ওমর ফারক, সোহেল রানা, মো. ইসলাম, মো. শাহীন, উলামং ও লাজুসহ ১০ জন আমদানিকারক নিয়ে এসেছেন।
জানতে চাইলে ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, কুরবানির মওসুমে ইতোমধ্যে মিয়ানমার থেকে পাঁচ হাজার গবাদিপশু আমদানি করা হয়েছে। এছাড়া কোরবানির আগে আরও এক হাজার গরু-মহিষ আমদানির টার্গেট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় গত দুদিন পশু আমদানি বন্ধ ছিল। গতকাল শুক্রবার আমদানি করা ১০৫টি গরু-মহিষ ভালো দামে বিক্রি করেছি। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর ব্যবসা ভালো হয়েছে বলেও জানান তিনি। মিয়ানমার থেকে নিয়ে আসা গরু শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় রাখা হয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, কুরবানি আসতে আর কয়েকদিন বাকি আছে, এরমধ্যে মিয়ানমার থেকে আরও ১০ হাজার গরু-মহিষ আমদানির টার্গেট রয়েছে ব্যবসায়ীদের। এছাড়া গতকাল শুক্রবার সকালে মিয়ানমার থেকে সাগরপথে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে ১০টি ট্রলারে করে এক হাজার ১২৯টি গরু-মহিষ দ্বীপের জেটি ঘাটে এসে পৌঁছে। এর আগের দিন (বৃহস্পতিবার) ৪৭টি গরু-মহিষ আমদানি করা হয়। তার বিপরীতে সরকার পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার টাকা রাজস্ব পাবে। এর আগে চলতি আগস্ট মাসের ১৩ দিনে পাঁচ হাজার ৬৭৬ গবাদিপশু আমদানি করা হয়েছিল। এরমধ্যে চার হাজার ৭৫টি গরং এবং এক হাজার ৪৭৯টি মহিষ। এতে সরকার ২৮ লাখ ৩৮ হাজার রাজস্ব পেয়েছে এবং জুলাই মাসে এসেছে ছয় হাজার ১০৬টি গরু-মহিষ। এ বছর মৌলভী বোরহান, আবদুল্লাহ মনির, ওমর ফারুক, সোহেল রানা, উলামং মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানির শীর্ষে রয়েছেন।
টেকনাফ শুল্ক স্টেশন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কুরবানির ঈদের বাকি মাত্র পাঁচ দিন। আমদানিকারকদের মিয়ানমার থেকে আরও বেশি পশু আমদানি করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের কথামতে, কোরবানির ভেতর আরও ১০ হাজার গবাদিপশু আনার কথা রয়েছে। পশু আমদানিতে রাজস্বে ব্যাপক ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দেশে পশুর চাহিদা পূরণে আমদানি অব্যাহত থাকবে। টেকনাফ উপজেলা পশু আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ মনির জানান, পশু আমদানি থেকে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও ব্যবসায়ীরা কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না।
 টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে গরু ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পশু সরবরাহের ক্ষেত্রে পথে যেন কোনো চাঁদাবাজি না হয় এবং পশুবোঝাই ট্রলারে করে যাতে কোনো মাদক ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে নজরদারি রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ