ঢাকা, শনিবার 18 August 2018, ৩ ভাদ্র ১৪২৫, ৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভারতের আসাম রাজ্যের ৪০ লক্ষ বাঙালীর নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার দাবি

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের আসাম রাজ্যের ৪০ লক্ষ বাঙালীর নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ ফোরাম বাংলাদেশ। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ ফোরাম বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়।
 মোঃ ইলিয়াসের সভাপতিত্বে বাচ্চু মিয়া সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক,জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মনিরুল কবির,গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি আলমগীর রনি,ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের বাংলাদেশ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম,জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা কামরুল হাসান, শ্রমিক জোটের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোসতাক আহমেদ,গৃহ শ্রমিক নেটওয়ার্ক এর নেতা মুক্তি বেগমসহ ইয়ুথ ফোরামের সহ-সভাপতি বেলাল বাঙালী কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন তালুকদার, মোঃ কাজল,রিফাত প্রমুখ।
বক্তারা বলেন,বিজেপি -আরএসএস এতদিন এন আর সি'র বিরোধী ছিলো কারণ নিখুঁত এন আর সি প্রকাশিত হলে দেখা যেতো যে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত হিন্দু অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা মুসলিমদের তুলনায় বহুগুণ বেশি। এখন ক্ষমতায় এসে তারা যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে,তখন যুক্তিসঙ্গত অভিযোগগুলির জায়গাতে তার নিজস্ব দক্ষিণপন্থী রাজনীতির রুপায়ণ ঘটাচ্ছে। আসামের ঘন ঘন প্রলয়ঙ্কারি বন্যা এবং ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষের বলি হয়ে বহুবার জনগণকে সর্বস্ব হারিয়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এসব প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট ঘটনায় জনগণ একদিকে যেমন তাদের জীবন, সম্পত্তি এবং বহু মুল্যবান নথিপত্র হারিয়েছেন, অন্যদিকে দেশ বিভাগের বলি হাজার হাজার অসহায় মানুষ গত পঞ্চাশ -ষাট বছর যাবত আসামসহ ভারতবর্ষের নানা প্রান্তে খাস জমি,বনাঞ্চল, বস্তি এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করে আসলেও তাদের হাতে কোনও ধরনের সরকারি নথি প্রদান করা হয়নি। আজ এতবছর পর জনগণের পক্ষে এসব নথি সংগ্রহ করা যে অসম্ভব তা জানা সত্ত্বেও সম্পুর্ণ পরিকল্পিতভাবে শুধু দলিলের ওপর ভিত্তিকরে নাগরিক পঞ্জী তৈরী করার আসল উদ্দেশ্য নাগরিকত্ব প্রদান নয় নাগরিকত্ব হরণের অপচেষ্টা মাত্র।
বক্তারা আরো বলেন,যেখানে অগপ-আশু'র উদ্দেশ্য হলো হিন্দু -মুসলিম নির্বিশেষে বাঙালী, সাওতাল,নেপালী,আদিবাসী চা-শ্রমিক এবং উত্তর ভারতীয় দিনমুজুর খেদানো। যে হিংস্র অসমীয়া উগ্র জাতীয়তাবাদের পিঠে চড়ে অগপ আসামের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করেছিলো,বিজেপি সেই জাতীয়তাবাদের উপর একটি উগ্র -মুসলিম বিদ্বেষের চাদর চড়িয়ে তাকে আরো জমকালো করে তুলেছে। বক্তারা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অবিলম্বে নিপীড়িত ৪০ লক্ষ নাগরিকের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে তাদের হয়রানি বন্ধের দাবী জানান এবং দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে নিপীড়িত মানুষগুলোর পাশে থাকার আহবান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ