ঢাকা, শনিবার 18 August 2018, ৩ ভাদ্র ১৪২৫, ৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেড় মাস পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছে সাজেদার লাশ

স্টাফ রিপোর্টার: প্রায় দেড় মাস পর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের নৃশসংসভাবে খুন হওয়া সাজেদা ই বুলবুলের লাশ বাংলাদেশে এসেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ বিমান (বিজি-০৮৭) করে সাজেদার লাশ হজরত শাহজালাল আন্তজর্তিক বিমান বন্দরে পৌছে। সেখানে সাজেদার লাশ গ্রহণ করেন তার বোন খাদিজা পারভীন উপমা। পরে  পটুখালীর শহরের আদালত পাড়ায় রাতে জানাযা শেষ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। গত ৫ জুলাই স্ত্রীকে নৃশংস হত্যার পর লাশ লাগেজে ভরে ডোবার কাছে ফেলে দেয় ঘাতক স্বামী শাহজাদা। মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে শাহজাদা গ্রেফতারের পর হত্যার দায় স্বীকার করে । পরে সে দেশের নিন্ম আদালত তাকে মৃতুদন্ড দেয়।
সাজেদা ই বুলবুলের বোন উপমা জানান, প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং  এল এম পাশ করেন তার বোন সাজেদা। পটুয়াখালির মির্জাগঞ্জ সুবিধাখালীর  ঘটকের আন্দুয়া এলাকার সোহরাব ফকিরের পুত্র শাহজাদা সাজুর সাথে বিয়ে হয় সাজেদার। তাদের সংসারে মুগ্ধ নামের সাত বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। ঘাতক শাহজাদা তার স্ত্রীকে উচ্চতর পড়াশুনা করার প্রলোভন দেখিয়ে গত ২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর মালেয়েশিয়া নিয়ে যায়। সেখানে নিজে প্রতিষ্ঠিত সহলে তার স্ত্রীকে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ তৈরী করে দেয়নি।
উপমা ফারহান আরো জানান, নিয়মিত নির্যাতন করা হতো তার বোনের উপর। তাকে দুই তিন দিন পর পর খাবার দেয়া হতো। এসব ঘটনা সাজেদা তার বাবা মাকে মাঝে মাঝে জানাতো। এক পর্যায়ে  সাজেদার উপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে শাহজাদা।  বাংলাদেশ থেকে  নির্যাতনের জন্য শাহজাদাকে উস্কে দিতো তার মা মামা সহ  অন্যানরা।
নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে,শাহজাদার নির্যাতন সইতে না পেরে এক আত্মীয়ের বাসায় পলিয়ে যায় সাজেদা। সেখানে ২/৩দিন থাকার পর স্বামীর ঘরে ফিরে আসার পর পরই নৃশংস খুনের শিকার হয় সে।  ঘাতক শাহজাদা নৃশংসভাবে খুনের পর সাজের লাশ একটা লাগেজে ভরে জঙ্গলে ফেলে দেয়। সেখান থেকে মালয়েশিয়া পুলিশ লাগেজ ভর্তি লাশ উদ্ধার করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ