ঢাকা, শনিবার 18 August 2018, ৩ ভাদ্র ১৪২৫, ৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরিষাবাড়ীতেহ পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে আহত ২০

জামালপুর সংবাদদাতা : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আলহাজ জুটমিলের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলন চলাকালে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সরিষাবাড়ী প্রেস ক্লাবে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ৫ সদস্য, শ্রমিক পথচারীসহ অন্তঃত ২০ জন আহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দফায় দফায় জুট মিল গেট থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ হয়ে স্টেশন রোড় সরিষাবাড়ী প্রেস ক্লাব চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে -সরিষাবাড়ী পৌর সভার প্রাণকেন্দ্রে আলহাজ জুট মিলটি শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে রাতের অন্ধকারে মালিক পক্ষ মিলটি বন্ধ ঘোষণা করে। এর পর থেকে মিলের শ্রমিকরা মিল খুলে দেয়াসহ বকেয়া বেতন ভাতার দাবি আদায়ের জন্য মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বুধবার মাইকিং করে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
কর্মসূচিতে সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি-ভুঞাপুর মহাসড়কে’র বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও কাঠের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় সড়কে ৪ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে পথচারী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বিঘিতসহ, সরিষাবাড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অগ্নিনির্বাপণে গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয়। এ দিকে আন্দোলনকারীদের ছাত্রভঙ্গ করতে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশের এ এস আই ফরহাদ ও শফিক শ্রমিকের ওপর লাঠিচার্জ করা শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশের উপর শ্রমিকরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকলে পুলিশও পাল্টা পাটকেল ছোড়ে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের তোপের মুখে পুলিশ পিছু হটে।অবশেষে পুলিশ আ রক্ষার জন্য দৌড়ে গিয়ে প্রেসক্লাব ও প্রেস ক্লাব সংলগ্ন সুলভ মিডিয়া সেন্টারসহ বিভিন্ন দোকানে আশ্রয় নিলে শ্রমিকরা লাঠি ও রেলের টুকরো পাথর দিয়ে বৃষ্টির মত ব্যাপক ডিল ছুটতে থাকে। এতে ওই সব প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় ছোড়া পাথরের আঘাতে পুলিশের এ এস আই ফরহাদ, শাহাদত হোসেন, ইয়াসমীন, পুলিশ সদস্য তাসলিমা আক্তার ও হ্যাপী, ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী, শ্রমিক আবুল হোসেন, জাহনারাসহ অন্তঃত ২০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পথচারীসহ এলাকাবাসী আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুন অর রশিদসহ উপজেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আজ শনিবার মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে আগামীকাল রোববার বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা আশ্বস্ত হয়ে সড়ক অবরোধ তুলে নেয়। এ ব্যাপরে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাজেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার থানা দারোগাসহ ৫ জন আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা কর্তৃক ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের আশ্বাসে তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ