ঢাকা, শনিবার 18 August 2018, ৩ ভাদ্র ১৪২৫, ৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ফার্মেসিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ‘পট কোম্পানি’র ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’

খুলনা অফিস : ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২-এর ১৪ (এ) (১) উপ-ধারায় বলা আছে, রেজিস্ট্রিবিহীন ওষুধ রোগীর ব্যবস্থাপত্রে কোনো চিকিৎসক লিখতে পারবেন না। তা সত্ত্বেও ফুড সাপ্লিমেন্ট লেখা হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ফার্মেসিতে বিক্রয় নিষিদ্ধ ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে।

ফার্মেসিতেও এসব ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। এসব বন্ধে খুলনা ওষুধ প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে পর অসাধু ব্যবসায়ী এসব নাম রাতারাতি পরিবর্তন করে বিক্রি করছেন।

জানা গেছে, সূত্র মতে, বিদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের ভেজাল ও নিম্নমানের ফুড সাপ্লিমেন্ট আমদানি করা হচ্ছে। অথচ সেগুলোই চকচকে মোড়কে ওষুধ হিসেবে নানা নামে বিক্রি করা হয় দেশের বাজারে। এগুলোর বেশির ভাগেরই গুণগতমান নিয়ে রয়েছে অভিযোগ। ওষুধ সেবনের পর রোগীর সমস্যা দেখা দেয়ার ঘটনাও ঘটছে। যদিও এতো ফুড সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজনীয়তা আসলেই আছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে খোদ চিকিৎসকদেরই।

জানা গেছে, প্রতিনিয়ত শত শত রোগী কথিত ‘পট কোম্পানি’র এইসব ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকের দেয়া প্রেসক্রিপশনের কারণে। কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকার কারণে একশ্রেণির চিকিৎসক অর্থের বিনিময়ে ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ নামে প্রেসক্রিপশনে এসব লিখে থাকেন। আর অতিরিক্ত লাভের আশায় ওষুধের দোকানগুলোতেও এসব বিপদজনক উপাদান অহরহ বিক্রি হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা ছাড়াও মহানগর ও উপজেলার অন্তত ৩শ’ ওষুধের দোকানে ‘পট কোম্পানি’র ( কৌটা বা পটে বিক্রি হয় বলে পট কোম্পানির ওষুধ নামে পরিচিত) ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ বিক্রি হচ্ছে। মেহেদী, গোপাল মাসিদ, হাসানুল হক বান্না, বুলবুল, আনিস, সুমন রায়, আল-আমিন, শাহিনসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী স্বাস্থ্য ভালো হওয়ার এইসব কথিত ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ক্যাপসুল স্টেভিট, ভিটা-৩, ইনজেকশন বন-৩, জয়েন্টেড আর, এমভি জেড, জয়েন্টরাইট, ট্যাকলোজেড, ওয়েল জয়েন্ট, নিউট্রেটজি, বনমিল, সিভাকল-ডি, রিভোন, রিমক্যাল-ডি, সিভা-গোল্ড, সীবন, অভা কেয়ার, অলিগো কেয়ার, কেলসিম্যাগ, ওলিগো, ওভাকেয়ার, রিভন, লিবেরিল, প্রেগনাকেয়ার, প্রিসজেল, হাইলন, এব্যানা, বিয়ন, ক্যাসপো, ভিএম ক্যাল, ভিএম-৩২, ডেভিড-৩, এসপি গোল্ড, প্রিমা-১০০০, মেগা-৩, গিংগুবা-১০০, বনক্যাল-ডি, ভিটা এক্সএল, অ্যামাইনো এনার্জি, অ্যামাইনো প্লাস, সি-জয়েন্টিন, বোন মিল, ইপো, এস্টাভিট, প্রোবায়েটিক-৪, এনডি ক্যাল, অর্থপ্লাস, বনগার্ড, ওনিক্স, রক্সেন, বিলোবা প্লাস, বোন ডি এস, সিনো-ই, জয়েন্ট বিল্যাক্স, ওমাল, জেলপ্লাস, ইভোনিয়া, মাল্টিজেন, এসডি প্লাস, স্টেনিন ই, বি- গোল্ড, ওলিগো, থ্রি-ম্যাক্স, থি-এমক্যাল, বিক্স, ফিলেট, একলেস, ভ্যানভাক্স, এ্যালটো-৪০০, মেগা-৩, টু ডেক্স, মাল্টিক্যাল, ম্যাক্স ভি, গ্রিন-ই, এস-ক্যালসহ প্রায় তিনশর মত আইটেম পাওয়া যাচ্ছে। এই সব কথিত ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ এর প্রতি পটের দাম ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।

হাফিজুর রহমান নামে এক রোগী সম্প্রতি সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে চর্ম রোগের চিকিৎসা নিতে যান। তিনি নগরীর সাতরাস্তা মোড় এলাকার বাসিন্দা। চিকিৎসক তার ব্যবস্থাপত্রে চারটি ওষুধের নাম লিখে দেন। যদিও এর মধ্যে দুটিই ছিল ফুড সাপ্লিমেন্ট। শুধু হাফিজুর নন, আরও অনেক রোগীর ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের পাশাপাশি ফুড সাপ্লিমেন্টের নাম লিখে দেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।

খুলনা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনের ব্যাপার। তাছাড়া আমার হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক লিখে থাকলে তাহলে দায়-দায়িত্ব তাদের। আর এ বিষয়ে আমাকে কেউ অভিযোগ করেনি, বলেওনি। যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে আমি আমার চিকিৎসকদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলবো।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর খুলনার ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মাদ আব্দুর রশীদ বলেন, এটা ওষুধ ফার্মেসিতে বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে। এছাড়া ডাক্তারকেও রোগীদের প্রেসক্রাইব করার জন্য ঢাকায় ডিজি অফিসে এ সংক্রান্ত একটি সেমিনারও করা হয়। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও অবৈধ ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রির দায়ে অনেক ওষুধ ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন ফুলবাড়িগেটে বাজারে বিকেলে ওষুধ ফার্মেসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। মোবাইল কোর্ট ফুড সাপ্লিমেন্ট, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ এবং লাইসেন্স না থাকায় বাজারের ইসলাম ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা এবং শেখ ফার্মেসিকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ