ঢাকা, শনিবার 18 August 2018, ৩ ভাদ্র ১৪২৫, ৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নানামুখী দুর্নীতি  

রংপুর অফিস : রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নানামুখী দুর্নীতি  এবং অনিয়মের অভিযোগে পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, সাব রেজিস্ট্রার সামসুজ্জামান সরদার পীরগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই এখানে অনিয়মের মাত্রা বেড়ে গেছে। একাধিক সুত্র জানায়, সাব রেজিস্ট্রার সামসুজ্জমান এবং একই অফিসের  অফিস সহকারী আবু বক্কর এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সংঘবদ্ধ দলিল লেখকচক্র  প্রতিটি দলিলের অনুকুলে বাধ্যতামুলকভাবে দুই হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন। এছাড়া হলফনামা মাত্র ১’শ টাকার স্থলে জোর পুর্বক ১ হাজার টাকা হারে আদায় করা হয়। যে কারনে প্রতিটি দলিল সম্পাদনে সরকারের নির্ধারিত ফি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র চাঁদাই দিতে হয় তিন হাজার টাকা। জানা গেছে, সাব রেজিস্ট্রার সামসুজ্জামান সরদার প্রতি সপ্তাহে ইচ্ছাকৃত সোম মঙ্গল ও বুধবার এই তিন দিন পীরগঞ্জে অফিস করেন। বাকি দিনগুলো তিনি ইচ্ছাকৃত কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় নিজ বাড়িতেই অবস্থান করেন। যে কারনে ঐ তিন  দিনে এখানে দলিলের পাহাড় জমে যায়। কোন কোন দিন ২/৩’শ দলিলও রেজিস্ট্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। এসব প্রতিটি দলিল সম্পাদনের জন্য সাব রেজিস্ট্রার সামসুজ্জামান সরদারকে ১ হাজার টাকা হারে নগদ নজরানা দিতে হয়। তা না হলে তিনি কোন দলিলে স্বাক্ষর করেন না। প্রতিদিন অফিস শেষে দলিল লেখকদের কাছে হিসেব কষে সাব রেজিস্ট্রারের এই টাকা আদায় করেন ওই অফিসের অফিস সহকারী আবু বক্কর। তিনিই ব্যাগ ভর্র্তি টাকা সহ রেজিস্ট্রারকে সাথে নিয়ে অফিস শেষে একসাথে রংপুরের উদ্দেশ্যে চলে যান। সুত্রটি দাবি করেছে, যে কোন দিন এ দু জনের দেহ তল্লাশী করলেই এই অফিসের থলের বিড়ার বেড়িয়ে পড়বে। জানা গেছে, এ বছরের ১৪ মে পীরগঞ্জে যোগদান করেই তিনি প্রতিটি দলিল সম্পাদন্যে ১ হাজার টাকা করে দাবি করেন। এতে দলিল লেখকগন বিপাকে পড়ে যান। প্রথম দিনেই দিনভর দলিল লেখা ও সম্পাদন কাজ বন্ধ থাকে। পড়ন্ত বিকেলে দলিল লেখক নেতৃবৃন্দের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আপাতত প্রতিটি দলিলে ১ হাজার টাকা হারে প্রদানের অলিখিত চুক্তি হলে সন্ধ্যার পুর্ব মুহুর্তে দলিল লেখা ও সম্পাদনের কাজ শুরু হয়। সেই থেকে আজ অবধি অলিখিত ঐ চুক্তিতেই চলছে দলিল সম্পাদন। দুর্নীতিবাজ এই সাব রেজিস্ট্রার মুজিব নগরের সনদে নিয়োগ প্রাপ্ত। সাব রেজিস্ট্রার সামসুজ্জামান সরদারের দাবিকৃত এই টাকা আদায়ের জন্য দলিল লেখকগণ সুযোগ বুঝে প্রতিটি দলিলে চাঁদা হিসেবে দুই হাজার এবং হলফনামার নামে ১ হাজারসহ মোট তিন হাজার টাকা করে বাধ্যতামুলক হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রত্যেক জমির ক্রেতাদের কাছে। যারা এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন তাদের জমি কোন ভাবেই রেজিস্ট্রি হচ্ছে না এখানে। উল্লেখ্য যে ,এই অফিসে প্রতি বছর গড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার দলিল সম্পাদন হয়। এ ব্যাপারে জমির ক্রেতা বিক্রেতা ও দলিল লেখকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সাব রেজিস্ট্রার শামসুজ্জামান সরদার ব্যস্ততার অজুহাতে পাশ কেটে যান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দলিল লেখক বলেন- আমাদের হাত-পা বাঁধা। প্রতিবাদ করলে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেয়া হয়। এলাকাবাসী এব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রয়োগকারি সংস্থার  হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ