ঢাকা, শনিবার 18 August 2018, ৩ ভাদ্র ১৪২৫, ৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভাঙ্গাগড়া কাজিপুরের চরাঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে আব্দুল মজিদ : ভাঙ্গাগড়া চরাঞ্চলের মানুষের যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রতিবছর বানের পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চরের ভাঙ্গনে শুরু হয়। নিমিষের মধ্যে জমি-জমা,বাড়ি-ঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বিশাল বাগান বাড়ির মালিকের থাকে না মাথা গোঁজার ঠাঁই। প্রতিবছর যমুনা নদীর ভাঙ্গনে পাল্টে যাচ্ছে কাজিপুর উপজেলার মানচিত্র। বসতভিটা, গাছপালা আর শত শত বিঘা ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চরাঞ্চলের মানুষ পানির আগমনের সাথে সাথেই আতংকে থাকে নদী ভাঙ্গনের। কেউ জানে না আগামি বছর বসতভিটায় তারা ছেলে মেয়ে নিয়ে বাস করতে পারবে কিনা, আবার কি তারা চাষাবাদ করতে পারবে তাদের ফসলি জমিতে। এই চিন্তায় দিন কাটায় নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ। প্রতিবছর কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলে নদী ভাঙ্গনে শত শত বাড়িঘর, বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদী ভাঙ্গন এত তীব্রতর হয় যে অনেক মানুষ তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সুযোগ পর্যন্ত পায় না। সুযোগ পায় না অনেক কষ্টে উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল ঘরে তুলতে। পাকা আধাপাকা ফসল নিয়ে যায় সর্বনাশা নদী। শত বিঘা জমির মালিক ভাঙ্গনের করাল গ্রাসের কবলে পড়ে হারায় জমিদারী। যাদের বাড়িতে প্রতিদিন খেটে খেয়ে বেঁচে যেত ৮/১০ পরিবার। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেসব জমির মালিক এখন দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এইসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই পরবর্তীতে পথের ভিখারী হয়ে যায়। এসব ভুক্তভোগী পরিবারের অনেকেই বিগত দুই যুগ ধরে বিভিন্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ও সিএন্ডবি রাস্তার ধারে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তাদের আজও পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি অন্যদিকে গত ২০ বছরে শত শত বছরের পুরনো অনেক জনপদ, হাট- বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাজার হাজার একর ফসলী জমি নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। তেকানী ইউনিয়নের দক্ষিন বুরুঙ্গি গ্রামের এক ভুক্তভোগী মোঃ ওসমান গনির সাথে কথা হলে তিনি জানান যে তার ৪০ বিঘা আবাদযোগ্য জমি ছিল। ছেলেমেয়ে নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল তার। বিগত ২০ বছর ধরে সর্বনাশা যমুনা নদী তার বসতভিটাসহ সবই কেড়ে নিয়েছে। এখন সে পরের জায়গায় বসবাস করছে। ওসমান গনির ২ মেয়ে ও ১ ছেলে স্ত্রীসহ তার,সংসারে ৫ জন সদস্য। বর্তমানে সে দিন মুজুরের কাজ করে মানবেতর জীবনযাপন করছে। চরাঞ্চলের এ রকম শত শত মানুষের চিএ প্রায় একই। কিন্তু এসব এলাকার লোকেরা হতাশ নয়। তবুও চর এলাকার লোকেরা চর ছাড়ে না। এখনও বুকভরা স্বপ্ন আছে এদের হ্রদয়ে। এদের মধ্যে আজও অনেকে আশাবাদী একদিন এসব জমি জেগে উঠবে। সে চরে গড়বে প্রচুর পলি। আবার মনের সুখে মাঠের পর মাঠ ধান বপন করবে। ধান কেটে ভরবে তাদের গোলা। কেটে যাবে অভাব নামক অভিশাপ। সুখে-শান্তিতে ছেলেমেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকবে এই আশায় সযতেœ রেখেছে জমির দলিলপত্র।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ