ঢাকা, শনিবার 18 August 2018, ৩ ভাদ্র ১৪২৫, ৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শিক্ষা : প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন

আবুল হাসান : নতুন বিশ্বব্যবস্থায় যে কাঠামো উঠছে, তাতে করে আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা উন্মেষের ফলে প্রতিরক্ষা সংস্থার গুরুত্ব অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে এবং তার স্থলে অর্থনৈতিক আঞ্চলিক সংস্থা গড়ে উঠেছে। এছাড়াও মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে কোন দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করা এবং প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানোর জন্য আঞ্চলিক জোটগুলোই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। একারণে বিভিন্ন সময়ে গঠিত হয় আসিয়ান, অ্যাপেক, সার্ক প্রভৃতি আঞ্চলিক সংস্থা।
বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬ জুন ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, শ্রীলংকা এবং থাইল্যান্ডকে নিয়ে একটি সংস্থা গঠন করা হয়। এই সংস্থার নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া-থাইল্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন বা বিস্টটেক (BISTEC) । একই বছরের ডিসেম্বরে মায়ানমার এই সংস্থায় যোগ দিল গ (এম) যোগ করে নতুন নাম হয় বিমসটেক BIMSTEC) । এই বছরের ফেব্রুয়ারি ২০০৪ প্রথম দিকে নেপাল এবং ভুটান এই সংস্থায় যোগ দেয়। ফলে বিমসটেকের নাম বার বার পরিবর্তিত হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। ৩১ জুলাই ২০০৪ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের গরহরংঃৎু ড়ভ ঋড়ৎবরমহ অভভধরৎং- এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে এই সংস্থার নাম পরিবর্তন না করে নামের অর্থের পরিবর্তন করা হয়। পাচঁটি দেশের আদ্যাক্ষরের বদলে নতুন নামকরণ হয় Bay of Bengal (B) Initiative (I) for Multi (M) Scetoral (S) Technical (T) and Economic (E) Co-operation (C) এতে সংক্ষিপ্ত নাম বিমসটেক BIMSTEC অপরিবর্তিতই থাকল। আগে মূলত অর্থনৈতিক বিষয়টির কথা উল্লেখ্য করা হলেও তখন থেকে এর প্রেক্ষিত হচ্ছে বহুমুখী।
এই সংস্থার সদস্যপদে আগ্রহী রাষ্ট্রগুলোর আঞ্চলিক অবস্থান ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য ও পরিবহনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যারা অবদান রাখছেন তারাই কেবল সদস্যপদ গ্রহণের জন্য বিমসটেকের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করতে পারবেন। BIMSTEC সকল সদস্যের অনুমোদনক্রমে নতুন কোন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, নেপাল ও ভুটান এই ৭টি দেশ বিমসটেকের সদস্য। বিমসটেকভুক্ত সাতটি দেশের মিলিত আয়তন ৫০ লাখ বর্গ কি.মি. এবং এ অঞ্চলের লোক সংখ্যা ১৩০ কোটি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যের আদান-প্রদানের পরিমাণ মাত্র ৭৩০ কোটি মার্কিন ডলার। যা মোট বাণিজ্যের চার ভাগ মাত্র।
গত বিশ বছরে বিমসটেকের ৪টি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি ব্যাংকক, থাইল্যান্ড। দ্বিতীয়টি পুখেকট, মালয়েশিয়া। তৃতীয়টি ভারতে ১৩ নভেম্বর ২০০৬ এবং চতুর্থটি মায়ানমার ১২ ডিসেম্বর ২০০৯। BIMSTEC এর মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হচ্ছে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পারস্পরিক সহযোগিতার চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলো বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পর্যটন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবহন ও যোগাযোগ, ঔষধ, বস্ত্র, চামড়া, কৃষি প্রভৃতি খাতে সুর্নিদিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করা। ২০ বছর পূর্বে যাত্রা শুরু করলেও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখনো কার্যকর অর্থনৈতিক ভূমিকা গড়ে উঠে নাই। মাত্র ৪টি শীর্ষ সম্মেলনই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্র সমূহে আদিবাসী জনগোষ্ঠী প্রাধান্য লক্ষণীয়। আদিবাসীরা আত্মনির্ভরশীল। নিজস্ব রীতি, সংস্কৃতি যাপনের ধারা আকঁড়ে এ জাতিগোষ্ঠীর মানুষগুলোর বেড়ে ওঠা, বেঁচে থাকা। বিমসটেকের দেশসমূহে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। সংখ্যাগতভাবে এরা বিমসটেকের জনসংখ্যার মাত্র ১০ শতাংশ হলেও মোট দারিদ্র হারের ১৫ শতাংশ।
সময় এসেছে বিমসটেকের আদিবাসী অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেয়ার। আদিবাসী সংস্কৃতি, অর্থনীতি, ভূমি ও চাষাবাদ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ও মৌলিক অধিকার তথ্য তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ব্যতিরেকে বিমসটেকের সফলতা এবং প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রক্রিয়াগুলো প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাবে। জীবনযাপনের ধারা থেকে নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর জীবনবোধের প্রতি এ মানুষগুলোর অনুগামিতা ও আন্তরিকতা অনুসরণযোগ্য। প্রকৃতির সাহচর্যে বেড়ে ওঠার কারণে এরা কর্মঠ, স্বনির্ভর। এ জাতিগোষ্ঠীর সার্বিক বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সাংগঠনিক রূপরেখার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষায় সম্পৃক্তি ঘটাতে হবে। আদিবাসী তরুণদের স্বকর্মসংস্থান চিন্তা করে বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমা শিক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে।
কর্মসংস্থানমুখী ডিপ্লোমা শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদেরও সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। শৈশবের শেষ ও যৌবনের সূচনার মধ্যবর্তীকালকে সাধারণ চলতি বাংলায় কৈশোর এবং শারীরবৃত্তিক দৃষ্টিতে বয়ঃসন্ধিকাল বলা হয়। বয়ঃসন্ধি হচ্ছে একটি সুর্নিদিষ্ট প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি শিশুর শরীর একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে রূপান্তরিত হয় এবং প্রজননের ক্ষমতা লাভ করে। ‘জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯’- এর প্রস্তাবনা ও অনুচ্ছেদ- ১ এর মর্মানুসারে ভ্রুণ সৃষ্টি সময় থেকে ১৮ বৎসরের নিচে প্রতিটি মানব সন্তানই শিশু। শৈশব এর শেষার্ধটি কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকাল বলে ধরে নেয়া হয়। কৈশোর প্রাপ্ত ছেলেদের কিশোর এবং মেয়েদেরকে কিশোরী বলা হয়। বিমসটেকের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ কিশোর-কিশোরী। তারা বিভিন্নভাবে অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। 
অত্র এলাকায় একান্নবর্তী পরিবারসমূহ ভেঙ্গে একক পরিবার তৈরি হচ্ছে। আবাসন সংকট বাড়ছে। বস্তিবাসী বাড়ছে। বেকারত্ব বাড়ছে। ক্ষুধা, দারিদ্র, অশিক্ষা বাড়ছে। সমাজজীবনে হতাশা, নৈরাজ্য, অপসংস্কৃতি বাড়ছে। চুরি, ছিনতাই, পকেটমারি বাড়ছে। জোরপূর্বক শিশুশ্রম বাড়ছে। পরিবারে আবেগ, ভালবাসা, নিরাপত্তার অভাব হচ্ছে। হতাশাগ্রস্থ কিশোর অসৎপথে পা বাড়াচ্ছে।
এতে পিতামাতা ও বয়োজ্যৈষ্ঠদের প্রতি অবাধ্যতা ও অসম্মান প্রদর্শনের ফলে পারিবারিক জীবনের শৃংখলা নষ্ট হচ্ছে। রাস্তাঘাটে সংঘটিত কিশোর অপরাধ এর কারণে জনগণের আর্থসামাজিক বিঘ্ন ঘটেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শান্তি শৃংখলার অবনতি ঘটায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্কুল-কলেজ ছাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার ফলে নারী শিক্ষার অবনতি ঘটে এবং বাল্যবিবাহের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকাসক্তি ও যৌন অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিশোরদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবার ফলে দেশ, জাতি ও সমাজের প্রভূত ক্ষতি হচ্ছে।
বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোতে এই অপরাধবোধ আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বাল্যবিবাহের ব্যাধি যে তৎক্ষনাৎ, চাক্ষুষ প্রতিক্রিয়া ঘটায় তা নয় ব্যাধিটা সংক্রামক, দীর্ঘস্থায়ী, সামাজিকরণের পথ সঙ্কুল, সংকীর্ণ করার মতো উল্লেখযোগ্য ব্যাধি। দারিদ্রতা, যৌতুক, অশিক্ষিত, সামাজিক রীতিনীতি, কুসংস্কার যে বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হলেও এখন নতুন রূপে হচ্ছে পারিপার্শ্বিকতার ভয়ানক ছোবল ইভটিজিং, যৌন হয়রানি নারীদের নিরাপত্তা হীনতাও প্রকট আকার ধারন করছে। তরুণ-তরুণীদের কর্মে প্রবেশের প্রযুক্তিমুখী ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রদান করে কর্মে নিয়োগ দিয়ে বাল্য বিবাহসহ অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের আভ্যন্তরিণ রোহিঙ্গা সংকট এখন চরম আকার ধারণ করছে। রোহিঙ্গা সংকট মারাত্মক মানবিক সংকটগুলোর একটি। ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা, যাদের বেশির ভাগই মুসলিম, মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর রোহিঙ্গাবিরোধী এ অভিযানকে জাতিগত নিধনের উদাহরণ বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ। কোনো আঞ্চলিক সংস্থা গঠনের মূলত দুটি উদ্দেশ্য থাকে। পারষ্পরিক সহায়তা এবং কোনো সদস্যদেশ বিপদে পড়লে অন্যান্য দেশের এগিয়ে আসা। এটি আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আসিয়ানের ক্ষেত্রে দেখেছি।
রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে বাংলাদেশ এখন গভীর সংকটে। কিন্তু এ ব্যাপারে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বিমসটেকের কোনো ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। শরণার্থী হিসাবে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই শিশু। শিশুরা পবিত্র ও নিষ্পাপ। শিশুরা মঙ্গলের কারণ, আনন্দের উপকরণ ও প্রেরণার উৎস। শিশু মানব জাতির অতীব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই শিশুর সুশিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে ওঠার জন্য এবং তাদের মনন ও মেধার বিকাশের জন্য প্রয়োজন অনুকুল পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ দায়িত্ব পিতা, মাতা, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সমাজ বা রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা উচিত। বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর প্রাইমারি স্কুলগুলোতে ডিপ্লোমা ইন অ্যাডুকেশন ডিগ্রি ধারীদের নিয়োগ নীতি অনুসরণ না করার কারণে শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যেই পরিপূর্ণ হচ্ছে না।
শিক্ষা কিন্তু সম্পদের উপর নির্ভরশীল না। প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। BIMSTEC ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ যথেষ্ট আছে। পানি, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, পাথর প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এর উপর বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে পরিপূর্ণ এবং পর্যটকদের জন্য বরাবরই আকর্ষণীয়। পর্যটন শিল্পকে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত করে। বিমসটেকের আদর্শ উদ্দেশ্যে অনেকাংশ সফল হওয়া যায়। এক্ষেত্রে অত্র অঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও চাহিদা মাফিক পর্যটনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত। সুষ্পষ্ট করেই বলা যায় কোন অঞ্চল বা কোনো দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির চাবিকাঠি হলো মানবসম্পদের উন্নয়ন। সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে মানবসম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অবস্থার আমুল পরিবর্তন সম্ভব।
কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিবেচনা করেই একটি বিশেষ কোনো দিবসের উৎপত্তি ঘটে, যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট কোনো একটি প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপন করা হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রেও ডিপ্লোমাকে গুরুত্ব দিয়ে ২৫ নভেম্বর পালন করা হয়  বিশ্ব ডিপ্লোমা  শিক্ষা দিবস। বিভিন্ন আয়োজন এবং আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে উদযাপন করা হয় দিবসটি।
বিমসটেকের ৭টি দেশে আঞ্চলিক ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হলে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ১০টি সরকারি/বেসরকারিভাবে কৃষি, ভেটেরিনারি, লেদার, পলিটেকনিক, টেক্সটাইল, মেডিক্যাল টেকনোলজি, নার্সিং, ইনস্টিটিউট অব প্রাইমারি টিসার্স, মেডিক্যাল ও ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। গ্রামের ছেলেমেয়েরা নিজ বাড়ীতে বসে এইসব প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।
কৃষি ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণে করে এক ফসলি জমিকে দু-ফসলি, দু-ফসলি জমিকে তিন ফসলি, তিন ফসলি জমিকে চার ফসলি জমিতে পরিণত করে দ্বিগুণের বেশী ফসল উৎপন্ন করবে। ভেটেরিনারি ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা পশু, পোল্ট্রী, দুগ্ধ শিল্পে বিপ্লব ঘটাবে। লেদার, পলিটেকনিক, টেক্সটাইল ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা লেদার শিল্পকে বহুমাত্রিক শিল্পে পরিণত করবে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্র্সিং, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিজ গ্রামে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ল্যাব গড়ে তুলবেন। প্রতিটি মানুষ রাত-দিন ২৪ ঘন্টা স্বল্প মূল্যে, বিনামূল্যে আধুনিক চিকিৎসাপ্রাপ্ত হবেন।
ডিপ্লোমা ইন অ্যাডুকেশন ডিগ্রিধারীরা প্রতিষ্ঠিত প্রাইমারি স্কুলে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোগ ঘটাবেন। যেখানে প্রাইমারি স্কুল নেই, সেখানে প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করবেন। ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের পদচারণায় প্রতিটি গ্রাম কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি শিক্ষায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। প্রি ত উপজেলায় ১০টি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ফলে উপজেলা শহর সমূহ শিক্ষা নগরীতে পরিণত হবে।
বিমসটেকের সদস্যভুক্ত ৭টি দেশ যথা বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, নেপাল, ভুটানের শিক্ষা প্রেমীদের ২০১৭ সালে বিশ্ব ডিপ্লোমা শিক্ষা  দিবসের শ্লোগান গ্রাম উন্নয়নে বিভাগীয় ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড যথার্থ মূল্যায়নের আহবান জানাই। এই বিষয়টি যত বেশী, যত দ্রুত উপলব্ধি করবেন বিমসটেকের ১৩০ কোটি মানুষ তত দ্রুত এর সুফল ভোগ করবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ