ঢাকা, মঙ্গলবার 20 November 2018, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গরীব দেশের বিলাসী প্রেসিডেন্ট: ঘুমান ২৯ তলার প্রেসিডেন্ট ভবনে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে দরিদ্র দেশ বলিভিয়া। ১ কোটি ১২ লাখ মানুষের ৪০ শতাংশই চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। তিন শতাংশ মানুষের আয় দৈনিক তিন ডলারেরও কম। তিন বেলা ঠিকমতো খাবার জোটে অনেকের। বেশিরভাগ মানুষেরই মাথা গোঁজার ঠাঁই অতি সাধারণ কক্ষে।

আর সেই দেশের প্রেসিডেন্ট ঘুমান ২৯ তলায়! রাজধানী লাপাজের বেশিরভাগ ভবনই অনতিউচ্চ। শহরের কেন্দ্রে সম্প্রতি নির্মাণ করা হয়েছে ২৯ তলাবিশিষ্ট গগনচুম্বী এক অট্টালিকা। শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকেই দেখা যায় এ অট্টালিকা।


প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস

এটাই দেশটির প্রেসিডেন্টের নতুন বাসভবন। বিলাসবহুল এ ভবনেই বাস করছেন ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম দরিদ্র দেশটির প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস (৫৮)। প্রেসিডেন্টের এমন বিলাসিতার বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে।

বৃহস্পতিবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের মধ্যেই গত সপ্তাহে ভবনটি উদ্বোধন করেন মোরালেস। ১২০ মিটার উঁচু ভবনটি। এর নাম দেয়া হয়েছে পিপলস’গ্রেট হাউস। স্থানীয় নাম কাসা গ্রান্ডে ডেল পুয়েলবো।

৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার খরচ করে লাপাজের কেন্দ্রে ১৬ শতকের পুরনো ঔপনিবেশিক আমলের সরকারি ভবনগুলোর কাছে এটা নির্মাণ করা হয়েছে। ‘পোড়া প্রাসাদ’ বলে পরিচিত ভবনগুলোকে এখন জাদুঘর করা হবে।

মোরালেস ও তার সমর্থকরা বলছেন, বেদনাদায়ক ঔপনিবেশিক অতীত থেকে বের হয়ে আসতে এটা নির্মাণ করা হয়েছে। এই ভবন নতুন এক বলিভিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছে। এটি প্রেরণা যোগাবে। উন্নয়নের স্বপ্ন বাধবে বলিভিয়ার মানুষের মনে। তবে দেশের আপামর জনগণ মনে করছে, জনগণের অর্থে এটা প্রেসিডেন্টের এক বিলাসবহুল ও অহংকারী প্রকল্প।

দেশটির স্থানীয় পত্রিকা পেগিনা সিয়েতে সম্প্রতি ফাঁস করে দেয়, নতুন বাসভবনের ১ হাজার ৬৮ বর্গমিটার মাপের একটি সোয়িট একাই উপভোগ করবেন মোরালেস। ব্যক্তিগত লিফট থেকে শুরু করে জিম, ম্যাসেজ কক্ষ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এ সোয়িটে। এই খবরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে জনগণ।

সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী গিসেলা লোপেজ এ খবর অস্বীকার করেননি আবার নিশ্চিতও করেননি। তিনি বলেছেন, ভবনটি ‘দেশের জনগণের স্বার্থে’ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে নিজের জন্য এ বাসভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরও ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে চতুর্থবারের জন্য লড়াই করতে চান তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার এ নতুন বাসভবন জনগণের ক্ষোভের প্রধান কারণে পরিণত হয়েছে।

বিরোধী নেতা স্যামুয়েল দোরিয়া বলেছেন, ভবনটি ক্যান্সার হাসপাতাল করা উচিত।

সূত্র : গার্ডিয়ান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ