ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরী হাট ঘাটে ৩ শতাধিক মালবাহী ট্রাক আটকে আছে

সেলিম উদ্দিন নিজামী, লক্ষ্মীপুর থেকে : লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরী হাট ফেরী ঘাটে পাঁচদিন ধরে ফেরী পারের অপেক্ষায় আটকে আছে প্রায় তিন শতাধিক মালবাহী ট্রাক। গুরুত্বপূর্ণ এই ফেরী ঘাট দিয়ে দেশের ২১ টি জেলায় প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মালবাহী গাড়ী যাতায়াত করে। বর্তমানে ফেরী কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফেরী পারাপারে ভোগান্তির শিকার চালকরা দায়ী করছেন কাউন্টার ম্যানেজার ও ফেরীর মাস্টারদের। অনিয়মের কথা স্বীকার করেন এ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজার মো: শিহাব উদ্দিন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ঘাটে ফেরী পারের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় তিন শতাধিক মালবাহী ট্রাক, কাভারভ্যান, পিকআপ ভ্যান ও প্রাইভেট পরিবহণ। গাড়ীগুলো মূল রাস্তার দু’পাশে পার্কিং করে রাখা হয়েছে। গত ১৪ আগস্টে আসা মালবাহী গাড়ীগুলো ১৮ আগস্ট  পর্যন্ত পার হতে পারেনি। এর ফলে দীর্ঘ এলাকা জুড়ে রাস্তায় তীব্র যানজট দেখা দেয়।
এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিক দেখেই এগিয়ে আসেন কিছু ট্রাক চালক। একের পর এক তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলতে থাকেন। তাদের অনেকেই বলেন, আগে একটি ফেরী দিনে তিন বার যাতায়াত করতো। কিন্তু কিছু দিন থেকে একটি ফেরী একবারের বেশি যাতায়াত করে না। ঘাটের সিরিয়াল ম্যানকে প্রতি গাড়ীতে একশ টাকা করে দিতে হয়। বিআইডব্লিউটিসি’র নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫০০ ও ১ হাজার টাকা বেশি দিতে হয়। ফেরী অনেক ধীর গতীতে চালায়। ডাবল ইঞ্জিনের জায়গায় ফেরীর মাস্টাররা এক ইঞ্জিনে ফেরী চালায়। ভাটা না পড়লে ফেরী ছাড়তে চায় না। আমরা এখানে এসে আজ চার-পাঁচ দিন থেকে আটকে আছি। কখন পার হতে পারবো জানিনা। ট্রাক চালক আব্বাস হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আমি ১৪ তারিখ হতে ফেরী ঘাঁটে আটকে আছি। পর্যাপ্ত ফেরী থাকার পরও আমরা কেন পার হতে পারছি না তা জানিনা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মজুচৌধুরীর হাট-ভোলা নৌ রুটে বিআইডব্লিউটিসি এর তিনটি ফেরী (কিষাণী, কনকচাঁপা, কলমিলতা) নিয়মিত যাতায়াত করছে। যা প্রতিদিন তিনবার যাতায়াত করার কথা। কিন্তু বর্তমানে সেগুলো মাত্র একবার যাতায়াত করে, যার ফলে ফেরী ঘাট এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে এই যানযটের। গাড়ী প্রতি একশ টাকা করে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন আমরা অনেক কস্ট করে গাড়ী গুরো সিরিয়াল করি আবার ড্রাইভারদের সথে গাড়ী ঠেলে ফেরীতে উঠিয়ে দিই। টাকা গুলো আমরা ভাগ করে নিই। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সময় কাউন্টার ম্যানেজার ফেয়ার আহমেদ ও মোশারফে সাথে কথা বলতে গেলে তারা সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ করে এবং বলেন চাকরি নিতে ১৩/১৪ লাখ টাকা লাগে, বদলি হতে টাকা লাগে তখন সাংবাদিকেরা কোথায় থাকে? আমাদের সাথে বড় বড় সাংবাদিকের সম্পর্ক আছে! আমরা বেশি টাকা নেই না। ড্রাইভাররা আমাদের কে খুশি হয়ে পঞ্চাশ একশ টাকা দেয়। ডিসি সাব এখানে কিছু লোক দিয়েছে তাদেরকেও টাকা দিতে হয়। আপনারা এটা নিয়ে এত মাথা ঘামান কেন! চুন পুঁটি মাছ না ধরে বড় রুই কাতল ধরেন। এবিষয়ে ফেরী  কনকচাঁপার মাস্টারের সাথে যোগাযোগ করলে বলেন অনেক সময় যান্ত্রীক ক্রটির কারণে সময়মত ফেরী চালানো সম্ভব হয় না। জানতে চাইলে মজু চৌধুরীর হাট ফেরী ঘাটের এসিস্টেন্ট ম্যানেজার মোঃ সিহাব উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সাথে আমি জড়িত নয়। আমি তাদের অথরিটি নয়, আপনি আমাদের ভোলার ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করেন। কাউন্টার ম্যানেজার ও ফেরীর মাস্টারদের অনিয়মের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি তারা বিষয়টি তদন্ত করেছেন। ইতিমধ্যে ইউএনও, এনডিসি, এডিসি ঘাঁট এলাকা পরিদর্শন করেছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র ভোলা-মজুচৌধুরী ফেরী ঘাটের ব্যাবস্থাপক মো: ইমরান হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন,আমাদের ও কিছু অনিয়ম হয়। ফেরীতে কিছু অসাধু লোক রয়েছে যাদের কারনে এমন প্রশ্ন উঠছে। মাস্টাররা আমাদের কথা শুনেনা, মাস্টারদের কন্ট্রোল এবং মেরিন সমস্যা গুলো নিয়ন্ত্রণ করেন  ইঞ্জিনিয়ার সাত্তার সাব বিষয় টি তিনি ভালো বলতে পারবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ