ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

১/১১ ‘গন্ধ আ’লীগেরই পাওয়ার কথা আমরা পাচ্ছি না’-নজরুল ইসলাম খান

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহেব এক-এগারোর গন্ধ পাচ্ছেন। পাওয়ার কথা এক-এগারো তো তাঁরাই করেছিলেন। ওই এক-এগারোর সরকারকেই তাঁরা তাঁদের আন্দোলনের ফসল বলে ঘোষণা করেছিলেন।’
জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘এক-এগারোর গন্ধ পাচ্ছি।’ তাঁরই কথার জবাবে আজ (গতকাল শনিবার) এ মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।
গতকাল শনিবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শ্রমিক দল ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন। আলোচনাসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করিম প্রমুখ।
 বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘দেশকে স্বাধীন করুন’ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, ‘এই স্বাধীনতার মানে হলো আপনার রাজনীতি করার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের স্বাধীনতা, সুন্দর, সুস্থ ও নিরাপদে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তাহলে কীভাবে কী পরিস্থিতিতে এই এক-এগারো হয়, এটা তো তাঁদের জানাই আছে। অতএব আগে থেকে কেউ যদি গন্ধ পায়, সেটা তো তাদেরই পাওয়ার কথা। আর কারো পাওয়ার কথা না। আমরা যেমন পাচ্ছি না। এক-এগারোর মতো সরকার আমরা পছন্দ করি না। আমরা নির্বাচন চাই। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যেখানে জনগণ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবে এবং তারা যাকে ভোট দিবে সে বিজয়ী হবে।’ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির চার ভাগের এক ভাগ ভোট আওয়ামী লীগ পাবে এমন দাবি করেন নজরুল ইসলাম খান। এই কারণে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচন দিতে চায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল শুক্রবার দুপুরে এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেন, ‘দেশের জনগণকে আহ্বান জানাবো যে শুধু এই নিরাপদ সড়ক নয়, নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আপনারা এগিয়ে আসুন, আপনারা জেগে উঠুন। আপনারা দেশকে স্বাধীন করুন। তার এই মন্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতা।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আপনাকে রাজনীতির ভাষা বুঝতে হবে। এই স্বাধীনতার মানে হলো আপনার রাজনীতি করার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের স্বাধীনতা, সুন্দর, সুস্থ ও নিরাপদে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা। আমাদের মহাসচিব তার এক বক্তব্যে স্বাধীনতার কথা বলেছেন যে ফিরিয়ে আনতে হবে। এই কথার অর্থ এই না যে, আবার ’৭১ সালের মতো লড়াই করে ওই রকম স্বাধীনতা আমাদের আনতে হবে।’
ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘উনি সেই সময়ে বলেছিলেন, বঙ্গভবনের অক্সিজেন বন্ধ করে দেবেন। অক্সিজেন বন্ধ হলে মানুষ বাঁচে? বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন, সামরিক-বেসামরিক সদস্যরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। এখন কি আমরা বলবো যে, উনি তাদের হত্যা করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন?’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের অর্থ আপনাকে বুঝতে হবে। আমি যা বলবো, তার অর্থ বুঝতে চাইবেন না, এটাকে বাঁকায়ে-তেঁড়ায়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আকারে নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন, তা হবে না।’
বিএনপির সংলাপের আহ্বান আওয়ামী লীগ বরাবরই প্রত্যাখান করে আসছে অভিযোগ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনপির সংলাপের আহ্বান বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনও আর সংলাপ করবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসি সচিব। সংলাপ না হওয়ায় কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। একই খেলা বার বার হয় না। কাজেই সরকারকে বলতে চাই, সম্মানজনক নিষ্ক্রমনের পথ, সন্মানজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথ একটাই অবশিষ্ট আছে, তা হলো সংলাপ।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ