ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী অঞ্চলে দুর্দিন চলছে সোনালী আঁশের ॥ দাম না থাকায় কমছে আবাদ

রাজশাহী : গ্রাম জনপদে এখন সোনালী আঁশ পাট ঘরে তোলার ব্যস্ততা কৃষকের -সংগ্রাম

বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী : রাজশাহী অঞ্চলে সোনালী আঁশ পাটের যথেষ্ট দাম না পেয়ে আবাদ কমিয়ে দিচ্ছেন কৃষকরা। গত বছরের চেয়ে পাটের আবাদ এবার ১ হাজার হেক্টর জমি হ্রাস পেয়েছে বলে জানা গেছে।
এই সময় পাট কাটা, জাগ দেয়া আর আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত রাজশাহীর চাষিরা। খালে-বিলে পানির সংকট থাকলেও যেখানেই একটু পানি পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই পাট জাগ দিচ্ছেন চাষিরা। তবে নোংরা পানিতে পাট জাগ দেয়ার কারণে আঁশের রঙ খারাপ হয়ে দামে প্রভাব পড়ার শঙ্কায় আছেন চাষিরা। পর্যাপ্ত পানির অভাব আর ভালো দাম না পাওয়ার কারণে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন এই অঞ্চলের চাষিরা। ফলে পাটের চাষ কমে যাচ্চে। এ জন্য গত বছরের তুলনায় ৮৭৫ হেক্টর কমিয়ে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। এবার পাটে লাভ না হলে আগামীতে চাষ আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে রাজশাহীতে পাট চাষ হয় ১৩ হাজার ৬২২ হেক্টর জমিতে, ২০১৭ সালে চাষ ১৩ হাজার ৭০০ হেক্টরে। এবার পাট চাষ হয়েছে ১২ হাজার ৮২৫ হেক্টরে, যা গত বছরের তুলনায় ৮৭৫ হেক্টর কম। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পাটের ভালো ফলন হলেও গেল বছর খরা ও অনুকূল আবহাওয়া না থাকায় পাটের দাম পাননি চাষিরা। এবারও রাজশাহীতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হচ্ছেন না। তাই বছরের পর বছর পাট চাষ কমছে এই জেলায়। এছাড়া পানির অভাবে কৃষকদের বেশি সমস্যা হচ্ছে পাট জাগ দিতে। খাল-বিলে পানি না থাকায় ডোবায় জাগ দিতে হচ্ছে পাট। এতে পাটের রঙ নষ্ট হচ্ছে। ফলে কৃষক ভালো দাম পাচ্ছেন না। জেলার পবা উপজেলার ভুগরইল গ্রামের একজন পাটচাষি জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জামিতে পাট চাষ করেছেন। আশা করছেন প্রতি বিঘায় ১০ মণ পাট হবে। তবে বর্তমান সময়ে পাট চাষে লাভ হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত তিনি। মুসা বলেন, এক বিঘা পাট কাটা ও পানিতে জাগ দেয়ার খরচ হচ্ছে প্রায় তিন হাজার টাকা। এছাড়া পাট জাগ দেয়ার পরে পানি থেকে তুলে আঁশ ছাড়ানো হয়। এই কাজের জন্য একজন শ্রমিককে ৪০০ টাকাসহ তিন বেলা খেতে দিতে হয়। এতে একজন শ্রমিকের পেছনে প্রায় ৫০০ টাকা খরচ পড়ে যায়। উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের আরেক পাটচাষি জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে। তবে দাম নিয়ে শঙ্কিত। পাটের দাম দুই হাজার টাকার কম হলে লোকসান হবে। পাটের দাম কম পাওয়া, বিক্রির সমস্যা এবং ভালো বীজের অভাব পাট চাষে সমস্যা। বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের একজন পাটচাষী জানান, তিনি সাড়ে চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে একজন কৃষকের ব্যয় হয় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। অথচ এক বিঘা জমিতে ভালো আবাদ হলে পাট পাওয়া যায় ৮ মণ। গতবার উঠতি বাজারে মণ প্রতি ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একজন কৃষি কর্মকর্তা জানান, রাজশাহীতে এ বছর ৯০ শতাংশ জমিতে ভারতীয় ‘জিআরও-৫২৪’ জাতের পাট চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে পাট চাষ কম হলেও ফল ভালো হয়েছে। এখন পাট দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হচ্ছে। এতে পাটের চাহিদা বাড়ছে। আর চাহিদা বাড়লে পাটের দামও বাড়বে। আশা করছি, চাষিরা এবার লাভবান হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ