ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাটুরিয়া ঘাটে পারের অপেক্ষায় সহস্রাধিক যানবাহন

 

এইচ এম হাসিবুল হাসান, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট। প্রতিদিন এ রুট দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার যানবাহন ও যাত্রী নদী পারাপার হয়ে থাকে। ঈদে এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় কয়েকগুণ।

সম্প্রতি পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোত দেখা দেয়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটের বাড়তি যানবাহন ও ঈদের অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে প্রতিনিয়তই সৃষ্টি হচ্ছে যানবাহনের সারি। গতকাল শনিবার দেখাযায়, ঘাটে প্রায় সহ¯্রাধিক যানবাহন নদী পারের সিরিয়ালে আটকে রয়েছে। জানা গেছে, এই নৌ-রুটে চলাচলকারী প্রায় সবগুলো ফেরি অনেক পুরাতন। ফলে ¯্রােতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফেরিগুলো চলতে পারে না। এছাড়া মাঝে মধ্যেই বিকল হয়ে যাচ্ছে ফেরিগুলো এবং মেরামত শেষে আবার চলছে।

পরিবহন যাত্রী ও চালকরা জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে কয়েকদিন ধরে পারাপারে তাদের বেশ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ফেরি পারের অপেক্ষায় পাটুরিয়া ঘাটে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা এবং দৌলতদিয়া ঘাটে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে।পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনে কিছুটা শৃঙ্খলা থাকলেও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দৌলতদিয়া ঘাটে। বাস, গরুর ট্রাকসহ সব যানবাহনকে একই লাইনে ফেরি পারের অপেক্ষায় থাকতে হয় বলে সময় বেশি লাগছে। ফলে ঈদযাত্রায় এবার ভোগান্তি আরো বাড়ার শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

গোপালগঞ্জগামী যাত্রী রাবেয়া বেগম জানান, ঘাটের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ঈদে ঘরমুখো মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হবে।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের ম্যানেজার (মেরীন) আব্দুস সাত্তার জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ-রুটের অনেক যানবাহন বিকল্প পথ হিসেবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবহার করছে। একইসঙ্গে নদীতে ¯্রােত বেড়ে যাওয়ায় ফেরি পারাপারে আগের চেয়ে প্রাায় দেড়গুন সময় বেশি লাগছে। ফলে ফেরির ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। এছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক পারাপার করতে গিয়ে যানবাহনগুলোর পার হতে সময় লাগছে বেশি।

পাটুরিয়া ঘাটে দায়িত্বপালনকারী জেলা ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর গোলাম আম্বিয়া জানান, ঈদের সময় যানবাহনের চাপ আরো বাড়লেও অপেক্ষমান গাড়ির সারি দীর্ঘ হবে। পরে এসে আগে যাওয়া কিংবা এলোপাতারি ভাবে যানবাহন রাখার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. মফিজুল হক জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে রোজার ঈদের সময় ২০টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হয়। এবার যেহেতু শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ-রুটে সমস্যা রয়েছে এ জন্য এই রুটে ২২টি ফেরি চলাচল করবে। যানবাহনের বাড়তি চাপ থাকলেও ফেরির লোড-আনলোডে যাতে সময় কম লাগে এ জন্য সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ