ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দৌলতপুরে হুন্ডি ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা

 

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মনিরুল ইসলাম (৫২) নামে এক হুন্ডি ব্যবসায়ীকে তার নিজ বাড়িতে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার ভোররাতে উপজেলার হোসেনাবাদ সর্দারপাড়া এলাকায় এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহত মনিরুল হোসেনাবাদ সেন্টারপাড়া এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে।  পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, মনিরুল ইসলামের স্ত্রী সন্তান ঢাকাতে থাকায় হোসেনাবাদে নিজ বাড়িতে একাই থাকতেন। আগের দিন তিনি ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেছেন। শুক্রবার রাতে তিনি বাড়িতে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে সে মোবাইলফোনে ফ্লেক্সিও নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে রাত ৩টার পর ভোররাতে এ হত্যাকা- সংঘঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার ছোট ভাইয়ের ছেলে নাস্তা দিতে গিয়ে দেখে তার বাড়ির দরজা খোলা অবস্থায় রয়েছে। এসময় বাড়ির দোতলায় গলা কাটা অবস্থায় তার চাচা মনিরুল ইসলামের লাশ পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং প্রতিবেশীদের জানায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৌলতপুর থানার উপ-পরিদর্শক শাহাদত হোসেন জানান, মনিরুল ইসলামকে তার নিজ বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যা করেছে। তবে কারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলছে। হত্যাকান্ডের এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

এলাকাবাসীরা জানিয়েছে, মনিরুল ইসলামের আদি বাড়ি ছিল উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন মোহাম্মদপুর বগমারী এলাকায়। চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকায় অল্প দিনের মধ্যে তিনি বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়ে যান। পরে তার ব্যবসায়ীক সুবিধার জন্য স্বপরিবারে উপজেলার হোসনেবাদ এলাকায় চলে আসেন। নিহত মনিরুল ইসলাম নিজেকে গরু ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও বর্তমানে হুন্ডি ব্যবসাসহ গোপনে চোরচালান ও জুয়া খেলায় মত্ত থাকতেন। তার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে মাদক, হুন্ডি, সোনা চোরাচালানসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। স্ত্রী সন্তান ঢাকাতে থাকায় ইদানিং তার বাড়িতেই নিয়মিত মদ ও জোয়ার আড্ডাও বসতো বলে এলাকাবাসী জানায়। এসব কর্মকান্ডের জের ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলেও এলাকাবাসী ধারণা করছেন।  হত্যাকান্ডের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি শাহ দারা খান জানান, তিনি বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল। এসব ক্লু নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত স্বাপেক্ষে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হত্যাকান্ডের এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ