ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি ব্যবস্থাপনায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রংপুর অফিস : রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন র্বোড (বাপাউবোর) আওতাধীন হাজিরহাট পানি ব্যবস্থাপনা দলের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান ও সাবেক সেক্রেটারি লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় কমিটিতে থাকা ঐ সভাপতি ও সেক্রেটারী সাংগঠনিক বিধি লঙ্ঘন করে কৃষকদের নিকট থেকে নির্ধারিত সেচ সার্ভিস চার্জের অতিরিক্ত টাকা আদায় করার মাধ্যমে এভাবে সরকারকে ফাঁকি দিয়ে তারা এই বিপুল পরিমান অর্থ আতœসাত করেছেন। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীরা এব্যপারে পাউবোর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন। জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নে হাজিরহাট পানি ব্যবস্থপনা দলের সভাপতি হিসেবে মশিউর রহমান ও সেক্রেটারী হিসেবে লিয়াকত আলী ২০০০ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন মাসের ২ তারিখ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এসময় সেচ সুবিধা গ্রহণকারী কৃষকদের নিকট থেকে জমির একর প্রতি ৪৮০ টাকার পরিবর্তে অতিরিক্ত ১৪০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করতেন। এভাবে বিগত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সেচ র্চাজ দিয়ে বাকি টাকা সভাপতি ও সেক্রেটারি আত্মসাৎ করেছেন। এনিয়ে সাধারণ কৃষকরা অভিযোগ করলেও তা নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অবশেষে এ বছরের জুন মাসে ঐ সভাপতি ও সেক্রেটারি দায়িত্ব থেকে সরে গেলে বেরিয়ে আসতে থাকে তাদের দুর্নীতির নেপথ্যে কাহিনী। বর্তমানে ঐ এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা দলের সেচ সুবিধা নেয়া প্রায় দুই হাজার কৃষক সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান ও সেক্রেটারি লিয়াকত আলীর বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিসহ অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি নিয়ে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেন। এতে বিক্ষুদ্ধ সাবেক সভাপতির সর্মথকরা নতুন নির্বাচিত সভাপতি হোসনে মোবারক ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার করে। এ ঘটনায় আহত হোসনে মোবারক গঙ্গাচড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ ব্যপারে স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাজিরহাট পানি ব্যবস্থাপনা দলের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান ও সেক্রেটারি লিয়াকত আলী প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে গ্রামের সাধারণ কৃষকদের নিকট থেকে সেচ সুবিধা দেয়ার নামে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জের চেয়ে বেশি টাকা নিয়েছেন। এভাবে এক দশকের বেশি সময় ধরে তারা অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সেচ সুবিধাভোগীরা বিষয়টি ইতোমধ্যে পাউবোর এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এব্যাপারে সাবেক সভাপতি মশিউর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। এদিকে হাজীরহাট পানি ব্যবস্থাপনা দলের নবনির্বাচিত সভাপতি হোসনে মোবারক বলেন, সেচ সুবিধাভোগী কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে মশিউর ও লিয়াকতের ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন। আমরা গত জুলাই মাসের ৮ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় মশিউর ও লিয়াকত আলী তাদের দুর্নীতি অনিয়ম আড়াল করতে নতুন করে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা আমাদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এক সপ্তাহ আগে আমাকে ও আমার পরিবারের ওপর হামলা করেছে। তিনি কৃষকদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ