ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খাগড়াছড়িতে দুই পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলীতে নিহত ৭ ॥ আহত ৩

আব্দুল্লাহ আল-মামুন, খাগড়াছড়ি থেকে : আধিপত্য বিস্তারের জেরে খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর বাজারে বিবাদমান দুই পাহাড়ি গ্রুপের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুক যুদ্ধে ৭ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্বনির্ভর বাজারের বিবদমান দুই পাহাড়ি সংগঠনের মধ্যে প্রচন্ড গুলীবিনিময় শুরু হয়। ভারী অস্ত্রের গুলীর আওয়াজে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়। লোকজন আতংকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ সময়  স্বনির্ভর বাজারে অবস্থিত পুলিশ বক্সে গুলী চালায় সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারটি লাশ উদ্ধার করে। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পর আরো দুইজন মারা যায়। পরে খাগড়াছড়ি  জেনারেল হাসপাতালে সমর বিকাশ চাকমা নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক। নিহতরা হচ্ছেন ইউপিডিএফ(প্রসীত)গ্রুপ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি সভাপতি তপন চাকমা, সহ-সম্পাদক এল্টন চাকমা, গণতান্ত্রিক যুবফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা পলাশ চাকমা, বরুন চাকমা, রুপন চাকমা ও মহালছড়ি উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী জিতায়ন চাকমা ওবিকাশ চাকমা। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ঘটনার পর স্বনির্ভর বাজার ও খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, বিবাদমান দুই পাহাড়ি সংগঠনের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুক যুদ্ধে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়ন ময় ত্রিপুরা বলেন, হাসপাতালে ৬ জনের লাশ এসেছে। আহত তিনজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়ছে।
ইউনাডেট পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট এর (প্রসীত) প্রচার বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা এ ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) কে দায়ি করলেও অভিযোগ অস্বীকার করে জনসংহতি সমিতির নেতা সুধাংকর চাকমা বলেন, ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের আভ্যন্তরীন কোন্দলে এ ঘটনা ঘটেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ