ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ‘গুন্ডামী আচরণ’ -বিএনপি

গতকাল শনিবার নয়া পল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দলের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ‘গুন্ডামী আচরণ ‘ হিসেবে দেখছে বিএনপি। গতকাল শনিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র  যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, গত শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার পর্যন্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার মানিকনগর নিজ বাড়িতে পুলিশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তার সাথে দেখা করতে গেলে ১০ জনকে পুলিশ আটক করে। আজো (শনিবার) কোনো নেতা-কর্মীরা তার সাথে দেখা করতে পারেনি। মওদুদ আহমদের সাথে এই ধরণের আচরণ সরাসরি গুন্ডামী। আমরা এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, জনগণের ভোটে ওবায়দুল কাদের সাহেব জিততে পারবেন না। কারণ ক্ষমতার প্রতি তীব্র আবেগে তার বিবেক বিবশ করে দিয়েছে। সেজন্য মওদুদ আহমদকে নিজ বাড়িতে পুলিশকে দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন ওবায়দুল কাদের। যেন এলাকাবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীরা কেউ তার সাথে দেখা করতে না পারে। ওবায়দুল কাদের সাহেবরা নিজেদের অনাচার ও অপকর্মের দ্বারা ১/১১ এর পুনরাবৃত্তির পথ প্রশস্ত করছেন।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না, এই মুহূর্তে সব মহাসড়কে ৩০/৪০ কিলো মিটার করে যানজট। ঈদে মানুষজন স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। সড়ক ও সেতু মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ওবায়দুল কাদের সাহেব শিশু-কিশোরদের সড়কে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা এখন রাস্তায় নেমেছে।
রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিহিংসার শিকার তার প্রমাণ মিলছে কয়েকদিন পর-পর প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভট বক্তব্যে। বেগম জিয়াকে বন্দী করার জন্যই শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে অসত্য মামলায় সাজা দিয়েছে। এটা কোন আইনী প্রক্রিয়া নয়, দেশনেত্রীকে আটকে রেখে আনন্দ লাভ করা। সরকার নানা ফন্দী-ফিকিরের জাল বুনে সত্তোরোর্ধ একজন জননন্দিত নেত্রীকে বন্দী করে এখন নানাভাবে তার ওপর জুলুম চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার প্রধান বাংলাদেশকে নিজের পৈতৃক তালুক মনে করে বলেই দেশের প্রধান বিরোধী নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা আজ তার আক্রোশের শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় কারাগারে জুলুম সইতে হচ্ছে। দেশের হাজার হাজার নেতা-কর্মী মামলা-হামলায় বিপন্ন ও বিপদগ্রস্ত। প্রতিদিনি গ্রেফতার চলছে নির্বিচারে। মিথ্যা মামলায় আসামী করাসহ নিজগৃহে অবরুদ্ধ করা হচ্ছে জাতীয় নেতাদের। অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন লাগামহীন উদ্ভট বক্তব্য দিয় যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়াকে উদ্দেশ্য করে । এসব বক্তব্য শুনে দেশের মানুষেরা তামাশা মনে করলেও ক্ষমতাসীনরা তাতে লজ্জা পায় না। কারণ তারা জনসমর্থনের পরোয়া করে না। মিথ্যা বলার জন্য তাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। প্রায় ২০ বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উচ্চতর আদালতের একটি পর্যবেক্ষণ ছিল। সেই মানসিক স্বাস্থ্য বোধহয় এখন আরো অবনতিশীল হয়েছে। তা না হলে দেশনেত্রীকে বন্দী করে নানাভাবে যন্ত্রনা দিয়ে, সুচিকিৎসায় বাধা দিয়ে, পরিত্যক্ত কারাভবনের নির্জন কক্ষে আটকে রেখে আত্মস্লাঘা লাভ করার পরও প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে জলজ্যান্ত মিথ্যা অপপ্রচারের তুবড়ি ছোটাতে কোন কার্পন্য করেন না। প্রধানমন্ত্রী তার প্রধান প্রতিপক্ষ বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় বন্দী করে রাজনৈতিক ফায়দা লাভ করতে চেয়েছিলেন, শান্তিতে থাকতে চেয়েছিলেন কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি তার নাগালে বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে র্সবত্রই আজ সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ধিক্কার তুলেছে। এ জন্যই প্রধানমন্ত্রীর মানসিক যন্ত্রনা বেড়ে গেছে। তাই তিনি আরও বেশী উল্টা পাল্টা খাপছাড়া কথাবার্তা বলছেন।
প্রধানিমন্ত্রীকে তার অপকর্মের জবাব জনগণের কাছে দিতেই হবে মন্তব্য কওে রিজভী বলেন, দুঃশাসনের কালো রাত পোহাবেই। বেগম জিয়ার অটল, অবিচল নেতৃত্ব জন মানুষের মনে দৃঢ় প্রত্যয়রুপে আত্মপ্রকাশ করেছে। এ প্রত্যয় শেখ হাসিনা নিষ্ঠুর দমনের চাকায় পিষ্ট করতে পারবেন না। অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানসহ সকল বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা ও অন্যায় সাজা প্রত্যাহার করতে হবে। কোন গড়িমসি বা বাহানা না করে ঈদের আগেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি দিতে হবে।
তিনি বলেন, শিশু-কিশোররা রাস্তায় নেমেছিল নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনে। আবেগাপ্লুত অনেক স্লোগানে তারা মানুষের হৃদয়কে শুধু দোলাই দেয়নি বরং ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়েছে, কর্তব্যবোধ সম্বন্ধে সচেতন করেছে। রাস্তায় ফিটনেস আর লাইসেন্স ছাড়া যন্ত্রদানবের বেপরোয়া চলাচলে একের পর এক শিশুর দেহ থেঁতলে গেছে। জীবন প্রদীপ নিবে গেছে অনেক নিষ্পাপ শিশু-কিশোরদের। নিজেদের ও সহপাঠীদের জীবন বাঁচাতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন ছিল ব্যতিক্রমি ও অনন্য। এ আন্দোলনের সমর্থনকারীদেরকে বলা হচ্ছে উসকানিদাতা। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, ফেসবুক ব্যবহারকারী, রাজনৈতিক দল- যারা এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারের হিড়িক চলছে। রিমান্ডে নিয়ে শেখানো বুলি স্বীকার করতে উৎপীড়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের গ্রেফতার ও  রিমান্ডে নেওয়া নজীরবিহীন, এ সংবাদ মানুষের শরীরে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে, ভয়াল আতঙ্কের সৃষ্টি করছে পড়ুয়াদের অভিভাবক ও দেশবাসীর মনে। এ ভোটারবিহীন সরকারের আন্দোলন দমানোর পৈশাচিক ঘটনার কথা শুনে দেশ-বিদেশের মানুষ শিহরিত হয়ে উঠেছে। এ আন্দোলনে সমর্থনকারী আলোকচিত্রী, অভিনেত্রী, শিল্পি, কলাকুশলি, লেখক, সাংবাদিক, অভিভাবক কেউ সরকারের নিপীড়ন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। আর্ন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে গ্রেফতার ও তার উপর অবর্ননীয় অত্যাচার বিশ্ব বিবেককে কাঁদিয়েছে। সবচেয়ে লোমহর্ষক ঘটনা হচ্ছে ছাত্রীদের সন্ধ্যারাত ও গভীররাতে হলের সামনে থেকে, বাসা থেকে এবং নদীর চরের প্রত্যন্ত এলাকার গ্রামের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারি বর্বরতার দৃশ্য দেখে, গণতন্ত্র হরণের স্বৈরাচারী বিভৎসতা  সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে এক ভিন্ন রকমের প্রতিবাদ করেছে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্র মুশফিক মাহবুব। তিনি তার কষ্টের কথা ফেসবুকে লিখে গেছেন।
বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা ক্ষতিকর গুজবের পক্ষে নই, তবে প্রকাশ্যে হাতুড়ি দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের এক নেতাকে পা গুড়া করে পঙ্গু করে  দেওয়া এবং শহীদ মিনারে একজন ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করা কি গুজব ? পুলিশ ও হেলমেটধারী সন্ত্রাসীদের একযোগে শিশু-কিশোর ও সাংবাদিকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়া কি গুজব ? এগুলোতো সবার সামনেই ঘটেছে। এদের কেন বিচারের আওতা থেকে দূরে রাখা হয়েছে ? বেশ কিছু মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করা হয়েছে অর্থাৎ  আন্দোলনকারী ও সমর্থনকারীদের যে কাউকে এর আওতায় গ্রেফতারের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্র্রতিবাদ করলে কি সে উসকানি দাতা হবে ? তাহলে ৫২ থেকে শুরু করে ৯০ এ গণআন্দোলনে সমর্থনকারীরা কি অপরাধী ? মূলত: আওয়ামী লীগ অমানবিক নষ্ট বুদ্ধির দল। মিথ্যাচার আওয়ামী লীগের প্রথাগত টেকনিক। মুঢ় অহঙ্কারের কারণেই এদের পতন হয়। মিথ্যা বলা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গই এদের রাজনীতির জীবীকা। অবিলম্বে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে গ্রেফতারকৃত শিশু-কিশোর-তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের মুক্তি দিতে হবে। তাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তাদের রিমান্ডে নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ