ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোরান ও হাদিসের দৃষ্টিতে নামাযের গুরুত্ব ও নামাযের শারীরিক, সামাজিক উপকারিতা

মোঃ জাহিদ : “কোরানের দৃষ্টিতে নামাযের গুরুত্ব” : ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ নামায। ইমানের পর নামাযের চেয়ে গুরুত্ব অন্য কোনো ইবাদতে প্রদান করা হয়নি। কোরআন শরীফে ৮৩ বার নামাযের আলোচনা এসেছে। নামায ফরজ হওয়া প্রসঙ্গে আল্লাহপাক বলেন, ‘হে নবী ! আমার বান্দাদের মধ্যে যারা মুমিন তাদের বলুন, নামায কায়েম করতে’। (সূরা ইবরাহিম, আয়াত-৩১)। অন্যত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, ‘তোমরা লোকদের সঙ্গে উত্তমভাবে কথা বলবে এবং নামায আদায় করবে। (সূরা বাকারাহ, আয়াত-৮৩)। অন্যত্র আল্লাহ ইরশাদ করেন, তুমি বলে দাও, আমার রব ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। তোমরা প্রত্যেকে নামাযের সময় তোমাদের মুখমন্ডল স্থির রেখ। (সূরা আরাফ, আয়াত-২৯)। অন্যত্র বলেন, ‘অতএব , আল্লাহকে সিজদা কর এবং তার ইবাদত কর।’ (সূরা নাজম, আয়াত-৬২)। সূরা বাকারার শুরুতে আল্লাহতায়ালা মুক্তাকীদের পরিচয় দিতে ইরশাদ করেন, ‘যারা অদৃশ্যের বিষয়গুলোতে ইমান আনে এবং নামায কায়েম করে’।  (সুরা বাকারাহ, আয়াত-৩)।
আল্লাহতায়ালা নামাযের উপকার সম্পর্কে ইরশাদ করেন এবং নামাযের পাবন্দি কর দিনের দুই প্রান্তে ও রাতের কিছু অংশে। নিঃসন্দেহে সৎ কাজসমূহ অসৎ কাজসমূহকে মিটিয়ে দেয় ‘(সূরা হুদ, আয়াত -১৪৪)। নামাযের ব্যাপক কল্যাণসমূহের উল্লেখযোগ্য একটি হলো নামায অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, নামাযের পাবন্দি কর। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে (সূরা আনকাবুত, আয়াত -৪৫)। অন্যত্র আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে আমি এরূপ সৎকর্মশীলদের কর্মফল নষ্ট করি না (সূরা আরাফ, আয়াত-১৭০)। অন্যত্র ইরশাদ করেন, ‘মুমিনরা নামায আদায় করে, যাকাত আদায় করে এবং আল্লাহ ও তার রসূলের আদেশ মেনে চলে এসব লোকের প্রতি আল্লাহ অবশ্যই করুণা বর্ষণ করেন ‘(সূরা তওবা, আয়াত -৭১)। সূরা বাইয়্যিনাতে আম্বিয়ায়ে কেরামের দাওয়াতের দ্বিতীয় ধাপ স্বরূপ নামাযকে উল্লেখ্য করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালার ইবাদত করবে এবং নামায কায়েম করবে ‘(সূরা বাইয়্যিনাহ, আয়াত -৫)।
 যে ব্যক্তি ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ নামাযকে সর্ব শর্তসহ খুশু-খুযুর সঙ্গে নবী তরিকায় আদায় করবে তার এই নামায তাকে সব ধরনের অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে। আর খুশু-খুযুর সঙ্গে নামায আদায়কারীদের সুসংবাদ দিয়ে আল্লাহ ইরশাদ করেন, নিশ্চয় সব মুমিন নামায আদায় করে।‘(সূরা মুমিনূন, আয়াত-১/২)।
তাছাড়া নামাযের ব্যাপারে যারা উদাসীন থাকে তাদের ব্যাপারে শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘দুর্ভোগ সেসব নামাজির জন্য নিজেদের নামাযের ব্যাপারে যারা থাকে গাফেল। ‘(সূরা মাউন, আয়াত-৪/৫)। অন্যত্র আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন,  ‘(সেদিন) অপরাধীদের সম্পর্কে পরস্পরের জিজ্ঞাসা করবে যে, কিসে তোমাদের জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিয়েছে ? তারা বলবে, আমরা নামাযি ছিলাম না।‘(সূরা মুদ্দাসসির, আয়াত-৪২-৪৩)। আর রোজ হাশরে নামাজের মাধ্যমেই হিসাব-নিকাশ শুরু হবে। যার নামায সঠিক হবে তার অন্যান্য আমলও সঠিক বলে বিবেচিত হবে। আর যার নামায অসুন্দর হবে তার অন্যান্য আমলও অসুন্দর হবেবলে গণ্য হবে।  নামায আদায়কারী ব্যক্তি ইসলামি জীবন থেকে বঞ্চিত এবং তার জীবনযাপন কাফেরের জীবনযাপনের মতোই।
হাদিসের দৃষ্টিতে নামাযের গুরুত্ব : রসূল (সা.) ইরশাদ করেন, বান্দা ও কফুরের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো নামায ত্যাগ করা।‘(মুসলিম, মেশকাত)। হজরত উবাদা সামির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন ‘রসূল (সা.) আমাদের  সাতটি অসিয়ত করেন, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি কাজ হলো- তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক কর না। যদিও তোমাকে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয় বা অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করা হয় আর ইচ্ছাকৃতভাবে নামায ত্যাগ কর না। কেননা যে ইচ্ছা করে নামায ছেড়ে দেয় সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়।
মসজিদে জামাতের সাথে নামায আদায়ের গুরুত্ব : মসজিদে জামাতে নামায আদায়ের সওয়াব সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জামাতে নামায পড়ার ফজিলত একা পড়ার চেয়ে ২৭ গুণ বেশি। ’-সহীহ বোখারী ও মুসলিম
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) হাদিসে আরও বলেছেন, ‘একজন লোক ঘরে নামায পড়লে একটি নেকি পান, তিনি ওয়াক্তিয়া মসজিদে পড়লে ২৫ গুণ, জুমা মসজিদে পড়লে ৫০০ গুণ, মসজিদে আকসায় পড়লে ৫০ হাজার গুণ, আমার মসজিদে অর্থাৎ মসজিদে নববীতে পড়লে ৫০ হাজার গুণ এবং মসজিদুল হারাম বা কাবার ঘরে পড়লে এক লাখ গুণ সওয়াব পাবেন।’ -ইবনে মাজা মিশকাত
নামাজের শারীরিক উপকারিতা : নামাযের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন আজমী বলেছেন, নামায আদায় করার জন্য প্রথমে ওযু করতে হয়। ওযুর সময় যখন আমরা চেহারা এবং হাত কানুই পর্যন্ত ধুই, পা ধুই, মাথা মাসেহ করি, তখন আমাদের দেহের রক্ত এক নবজীবন লাভ করে। এর ফলে আমরা অনেক প্রশান্তি লাভ করি। এ প্রশান্তির ফলে আমাদের দেহের সকল অঙ্গপ্রতঙ্গ প্রভাবিত হয়। শিরা-উপশিরায় রক্ত সঞ্চালিত হওয়ার কারণে মস্তিস্ক আরাম বোধ করে। ফুসফুস, মস্তিস্কসহ বিভিন্ন অঙ্গ প্রশান্তি অনুভব করে। কিডনি এবং লিভার নিজ নিজ তৎপরতা স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ কমে গিয়ে স্বাভাবিক হয়ে যায়। চেহারার সৌন্দর্য বেড়ে যায়, সতেজতা লাভ করে। ওযু করার মাধ্যমে অঙ্গপ্রতঙ্গে শিথিলতা দূর হয়। চোখ আর্কষণীয় হয়ে ওঠে। অলসতা দূর হয়ে যায়।পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ওযু করানো হলে রক্তচাপ কমে যায়।
নামাজে কেয়ামের মাধ্যমে গিটে বাত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় : নামাযের মাধ্যমে গাঁট বা জোড়ার ব্যথা আরোগ্য লাভ করে। ওযু করার পর যখন আমরা নামাযের জন্য দাড়াঁই তখন দেহ ঢিলেঢালা থাকে, কিন্তু যখনই নিয়ত করার জন্য দুই‘হাত ওপরে তুলি তখনই কুদরতীভাবে দেহ স্থীর হয়ে যায়। সকল বৈষায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। মস্তিস্ক থেকে একটি আলো এসে মেরুদন্ডের হাড় আলোকিত হয় এবং সেই আলো দেহের অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গে পৌছে যায়। একথা সবাই জানে, শারীরিক স্বাস্থ্যের  জন্য  মেরুদন্ডের একটি বিশেষ শক্তি রয়েছে। মেরুদ-ের সুস্থতা ও শক্তির ওপর ভালো স্বাস্থ্য নির্ভর করে। নামাযে কেয়াম করার মাধ্যমে হাত পায়ের জোড়া ও কোমর শক্তিশালী হয় এবং  গিঁটে বাত দূর হয়। তবে শর্ত হচ্ছে নামাযে কেয়াম হতে হবে অত্যন্ত স্থির ও সঠিকভাবে।
 নামাজে রুকুর মাধ্যমে কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় : ঝুঁকে রুকু করার সময় হাঁটুর ওপর দুই হাত রাখার ফলে পিঠ সোজা হয়ে থাকে। এতে পাকস্থলী শক্তিশালী হয়। ডাইজেষ্ট বা হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। অন্ত্র রোগ, পেটে ভাঁজ পড়া, পেটে ব্যথা ইত্যাদি রোগ আরোগ্য হয়। রুকুর মাধ্যমে কিডনি এবং হৃৎপি- শক্তিশালী হয়, কোমরে এবং পেটে চর্বি জমতে পারে না। দেহে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। মাথা এবং হৃদপি-ের সাথে যেহেতু ঘনিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে, এ কারণে হৃদপি- থেকে রক্ত মাথায় সঞ্চালিত হয়, মাথা ঠান্ডা থাকে। রুকু করার সময়ে যেহেতু হাত নীচের দিকে যায়, এ কারণে কাঁধ থেকে শুরু করে হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত পুরো অংশের ব্যায়াম হয়ে যায়। ফলে বাহুমূল শক্তিশালী হয়। বার্ধক্যের কারণে দেহে যেসব বাড়তি উপাদান জমা হয়, সেসব উপাদান আপনা থেকেই বেরিয়ে যায়।
নামাযে সেজদার মাধ্যমে পেটের চর্বি কমানো যায় : রুকু করার সময় নামাযী সোজা দাড়িঁয়ে তারপর আবার সেজদা করে। সেজদায় যাওয়ার আগে হাত যমীনে রাখা হয়। এটা আভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ শক্তিশালী করে। রুকু পরে যদি সেজদায় যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া না করে এবং ধীরে সুস্থে যায় তবে এ আমল দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুস্থতায় বিশেষ উপকার সাধন করে। সেজদার মাধ্যমে ঊরুর বাড়তি চর্বি  কমে যায়, পেট হয় সুন্দর।
নামাজে বিনয়ী, ন¤্র হলে মস্তিস্কের রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় : খুশুখুযু অর্থাৎ বিনয় ন¤্রতার সাথে দীর্ঘ সময় সেজদা করার কারওে মস্তিস্তের রোগ নিরাময় হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় অপ্রয়োজনীয় উপাদান কিডনির মাধ্যমে প্রশাবের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে যায়। সেজদা থেকে উঠার সময় একথা মনে রাখতে হবে, মাথা নীচু করে রাখতে হবে, বাহু সোজা রাখতে হবে। সেজদা থেকে ওঠার সময়ে ঊরুর ওপর হাতের তালু স্থাপন করতে হবে। চেষ্টা করে কোমর ওপরে ওঠাতে হবে এবং ধীরে ধীরে ওপরে উঠিয়ে পরে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
নামাযে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে বুকের ব্যথা নিরাময় করা যায় : নামায শেষ হওয়ার পর আমরা দুই দিকে সামাল ফেরাই। দুইদিকে ঘাড় ফেরানোর ফলে ঘাড়ের ত্বক শক্তিশালী হয়, ত্বকের সাথে যেসব রোগের সম্পর্ক রয়েছে তা ভালো হয়ে যায়। মানুষ হাসিখুশী থাকে। বুকের ঢিলেপনা দূর হয়ে যায়। তবে মনে রাখতে হবে, এ সকল উপকার তখনই পাওয়া যাবে যখন নামাযী ব্যক্তি পূর্ণ মনোযোগ আন্তরিকতার সাথে এবং কোন রকম তাড়াহুড়ো না করে নামায আদায় করবে।
নামাযের মাধ্যমে আত্মহত্যার প্রবণতা রোধ করা যায় : ফ্রান্সের কমফোর্ট সেন্টারের রোগীদের গবেষণায় দেখা গেছে, আত্মহত্যার প্রবণ রোগীদের নামাযের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যায়াম করানো হয়েছে। তাদের নামাযের মতোই খুশুখুযুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে রোগীরা আত্মহত্যাকে  ঘৃণা করতে শুরু করেছে। ডাক্তার আলেকজান্ডার বলেছেন, ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক কম লক্ষ্য করা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ওযু, নামায, বিশেষত খুশুখুযু সম্পন্ন নামাযের মাধ্যমে আত্মহত্যার প্রবণতা অনেক কমে যায় এবং এক সময় এ প্রবণতা আর মোটেই অবশিষ্ট থাকে না।
নামাযের সামাজিক উপকারিতা : ফরজ ইবাদাত হলেও সমাজ জীবনে রয়েছে এর সুদূর প্রসারী প্রভাব ও উপকারিতা। যা নিম্নে তুলে ধরা হলো-
অশ্লীলতা ও অন্যায় দূরকারী : নামায প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজ জীবন থেকে অশ্লীল ও অন্যায় বিদুরিত হয়ে সামাজিক  শৃঙ্খলার উন্নতি হয়। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও অন্যায়য কাজ থেকে বিরত রাখে।”
সাম্য ও ঐক্য প্রতিষ্ঠাকারী : জামাআতে নামায আদায়ের মাধ্যমে সমাজের উচু-নিচু, ধনি-গরীবের সাম্য প্রতিষ্ঠা করে। পাশাপাশি নামাজের মাধ্যমেই মুসলিম সমাজের ঐক্য গড়ে ওঠে।
দায়িত্ববোধ ও সময় সচেতনকারী : প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে নামায আদায়ের মাধ্যমে সকল মানুষ সময়জ্ঞান ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়।
 নেতৃত্ব ও আনুগত্যবোধ: জামাআতে নামায আদায়কারী সমাজের প্রত্যেক মানুষের মাঝে ইমাম ও মুক্তাদির আনুগত্যবোধ জাগ্রত হয়।
পারস্পরিক সহযোগিতা সৃষ্টি : নামাজের জন্য মসজিদ তৈরি ও তার রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমেই সমাজের প্রতি মানুষের সহযোগিতার গুণ সৃষ্টি হয়।
নিষ্ঠা ও একাগ্রতা তৈরি : নিয়মিত নামায আদায়ের মাধ্যমে মানুষের মাঝে নিষ্ঠা ও একাগ্রতা তৈরি হয়।
উত্তম চরিত্রের অধিকারী : দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায়ের মাধ্যমে মানুষের খারাপ গুণগুলো দূরিভূত হয়ে ভালো গুণের অধিকারী হয়, যা সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে কাজে লাগে।
আত্মনিয়ন্ত্রণকারী : নিয়মিত নামায আদায় ও নামাজের নিয়ম-পদ্ধতির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের মাঝে বেপরোয়া ও উচ্ছৃঙ্খল গুণ দূর হয়। সমাজের প্রতিটি কাজে ধীরস্থিরভাবে নিয়ন্ত্রিত কাজ করার সুযোগ হয়।
নামাযের মাধ্যমে সৎকাজ ও ঐক্যবদ্ধতা তৈরি হয় : মসজিদে নামায আদায়ে শুধু যে বান্দার আত্মিক উন্নতি হয় তা-ই নয়; সামাজিক ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। জামাতে নামায আদায় করায় মুসলমানরা দৈনিক পাঁচবার একত্রে মিলিত হওয়ার সুযোগ পান। ফলে তাদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। ফলে একতাবদ্ধ হয়ে সৎ কাজ করার শিক্ষা জামাতে নামায আদায়ের মাধ্যমে অর্জন করা যায়।
নামায নিয়ে বিভিন্ন মনীষীদের মন্তব্য
স্যার উইলিয়াম কারকিস- এর গবেষণা : ক) ইউরোপের এক আধাত্মিকতাবিশারদ তার রচিত গ্রন্থ ‘রিসার্চ ইন দি ফেনোমেনন অব স্পিরিচুয়্যালিজম’-এ লিখেছেন, লোভ, লালসা, কৃপণতা, হিংসা, ঘৃণা ও প্রতিশোধ গ্রহণ এ রকম ঘৃণ্য যেসব রোগের কারণে মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়, তা থেকে মুক্তি পাওয়া মানুষের সাধ্যাতীত। একমাত্র মৃত্যুর মাধ্যমেই মানুষ এ সকল রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারে, কিন্তু এসব রোগে আক্রান্ত মানুষই যদি খুশুখুযুর সাথে নামায আদায় করতে শুরু করে তবে খুব শীঘ্রই এ সকল রোগ থেকে মুক্তিলাভে সক্ষম হয়।
খ) প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ভাইস এডমিরাল তার রচিত ‘আসবর্ন মূর দি ভয়েস’ গ্রন্থে লিখেছেন, নামাযে বিনয় ও ন¤্রতা নামাযের অংশ নয়; বরং এসব হচ্ছে শান্তির অংশ। তিনি আরো লিখেছেন, কেউ যদি আধ্যাত্মিকতার শীর্ষে উন্নীত হতে চায় তবে তার প্রতি আমার পরামর্শ হচ্ছে নামায পড়ো, নামায পড়ো, নামায পড়ো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ