ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত

এম এস শহিদ : আল্লাহ্ পাক তাঁর বান্দাদের সাধ্যমতো সেবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। কলেমা, নামাজ, রোজা, হজও জাকাতই কেবল ইবাদতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের সেবা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, কিসে তোমাদের দোজখে নিক্ষেপ করেছে? তারা বলবে আমরা মুমিনদের দলভূক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য দান করতাম না। {সূরা মোদদাসসির: ৪২-৪৪} কেও যদি গরিব, অসহায় বিপদগ্রস্তকে সাহায্য না করে, তাদের পাশে না দাঁড়াই তাহলে পরকালে তার ঠিকানা হবে  দোজখে। একজন  মুসলমানকে  সামান্য উপকার করাও অন্যতম নেক আমল।এই নেক আমল মসজিদে নববিতে ইতিকাফ করার চেয়েও বড়, তার চেয়ে বেশি সওয়াবের কাজ। আমাদের প্রিয় নবী (সা:) তাঁর উম্মতদের সাধ্যমতো সেবা করার তাগিদ দিয়েছেন। হজরত  আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা:) থেকে বর্ণিত,প্রিয় নবী (সা:) বলেছেন মুসলমান পরস্পরের  ভাই। সুতারাং একজন মুসলমান অন্য মুসলমানের ওপর জুলুম করতে পারে না, তেমনি কোনো মুসলমানকে মজলুম অবস্থায় ফেলেও যেতে পারে না, একজন মুসলিম যদি অন্য ভাইয়ের কোনো উপকার করে থাকে, আল্লাহতায়ালাও তার উপকার করে থাকেন। কোনো মুসলমান যদি অন্য মুসলমানের কষ্ট দূর করে দেন, আল্লাহ তার হাশরের মাঠে কঠিন কষ্ট দূর করে দেবেন। যে ব্যক্তি অপর ভাইয়ের দোষত্রুটি ঢেকে রাখে, আল্লাহপাক কিয়ামত দিবসে তার দোষত্রুটি গোপন রাখবেন। {আবু দাউদ: ৪৮৯৩ তিরমিজি:১৪২৬}
হজরত ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা:) বলেছেন, একজন মুসলমান যখন অপর মুসলমানের উপকারের জন্য গমন করে, তাকে ১০ বৎসর নফল ইতিকাফ করার চেয়েও বেশি সওয়াব দেওয়া হয়। আর আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির জন্য যে ব্যক্তি একদিন ইতিকাফ করে, জাহান্নামকে তার থেকে তিন খন্দক দূরে সরিয়ে দেয়া হয়। প্রত্যেক খন্দকের ব্যবধান হলো আসমান থেকে জমিনের দূরত্বের সমপরিমাণ {মুসতাদরাকে ইমাম হাকিম, চতুর্থ খন্ড, ২৭০ পৃ:} হজরত আবুহুরায়রা (রা:) ও হজরত ইবনে ওমর (রা:) থেকে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূল (সা:) বলেছেন, কোনো মুসলমান যখন অন্য মুসলমানের উপকারের জন্য অগ্রসর হয় এবং উপকারটি সম্পন্ন করে, তখন আল্লাহ  তার মাথার ওপর ৭৫ হাজার ফেরেস্তা ছায়া সৃষ্টি করে দেন। এ ফেরেশতারা তা জন্য আল্লাহপাকের কাছে দোয়া করতে থাকে। উপকার টা সকালে করা হলে বিকাল পর্যন্ত দোয়া চলে, আর বিকালে করা হলে ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে। আর সে ব্যক্তির প্রত্যেক কদমে একটি করে গোনাহ মাফ হয় এবং একই সাথে একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। [ইবনে হিব্বান মুনজিরি:৩৮৬৮]।  হজরত আবদৃল্লাহ ইবনে ওমর (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সা:) এরশাদ করেছেন , ‘যারা সৃষ্টির প্রতি রহম বা দয়া করে থাকে, দয়ালু আল্লাহপাকও তাদের প্রতি রহম করে থাকেন। সুতরাং তোমরা জমিনবাসীর প্রতি সদয়দৃষ্টি বা দয়া প্রদর্শন করো। তাহলে বিশ্বজগতের মালিক আল্লাহ তায়ালাও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। [আবৃ দাউদ ও তিরমিজি]।
আমাদের দেশের অসংখ্য মানুষ দারিদ্র্যপীড়িত। দু’বেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করতে তাদের হিমসিম খেতে হয়। প্রতি বৎসর বন্য, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা প্রভৃতি প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে অসংখ্য মানুষ গৃহহীন, আশ্রয়হীন হয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে পতিত হয়। তাদের করুণ আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। তাই আমাদের উচিত, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সাধ্যমতো তাদের সাহায্য সহযোগিতা করা। বিশেষ করে আমাদের সমাজে যারা বিত্তবান ব্যক্তি তাদের উচিত সবার আগে অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো। তাহলে মহান আল্লাহপাক অবশ্যই খুশি হবেন। আল্লাহ আমাদেরকে সে তওফিক দান করুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ