ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভাঙা রাস্তা, দুর্ঘটনা আর বিকল গাড়িতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম, জয়দেপুর-এলেঙ্গা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-সিলেটসহ প্রায় সব মহাসড়কে ভাঙা রাস্তা, দুর্ঘটনা আর হঠাৎ করে বিকল হয়ে যাওয়া গাড়ির কারণেই মূলত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর সেতু থেকে কুমিল্লার কিছু জায়গায় যানজট বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেই সাথে কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে চান্দিনার মাধাইয়া অংশে প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে।

সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রায় সব মহাসড়কে গর্তসহ বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে। অনেক জায়গায় কাজ চলছে। তবে রাস্তা মেরামত করতে আরো সময় লাগবে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রতি বছর যে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয় তাতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মেরামত কাজ করা যায়। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় বাকি কাজগুলো আটকে থাকে।

তবে খারাপ রাস্তার কারণে কোথাও যানজট হচ্ছে না দাবি করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম ইউএনবিকে বলেন, কোথাও ছোটখাটো সমস্যা হলেও তারা সাথে সাথে রাস্তা মেরামত করে ফেলছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট বিষয়ে আমরা অবগত। এটি কী কারণে হচ্ছে তা নির্ণয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বয় করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা কয়েকটি সভা করেছি। আশা করছি ঈদের আগেই সমাধান আসবে।’

একই কথা বললেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি ইউএনবিকে বলেন, ‘ঈদের আগে রাস্তার জন্য কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি হবে না। সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরকে রাস্তার ভাঙা অংশ মেরামত করার নির্দেশ দিয়েছি। যেখানে মেরামত দরকার তা ঈদের আগে করতে হবে। রাস্তা সংস্কারে উদাসীনতা সহ্য করা হবে না।’

‘বর্ষাকাল বৃষ্টি হবেই। বৃষ্টির অজুহাতে রাস্তার মেরামত কাজ সঠিকভাবে হবে না তা শুনব না। যেকোনো মূল্যে মহাসড়ক সচল রাখতে হবে,’ যোগ করেন মন্ত্রী।

ঈদযাত্রায় যাতে বিশৃঙ্খলা বা যানজট না হয় সেদিকে নজর রাখতে পুলিশ এবং সড়ক-মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

এদিকে, ইউএনবির সাথে আলাপকালে হাইওয়ে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আতিকুল ইসলাম বলেন, কোনো রাস্তায় দুর্ঘটনা বা গাড়ি বিকল হয়ে গেলেই ১-২ ঘণ্টার যানজট তৈরি হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও জয়দেপুর-এলেঙ্গা-টাঙ্গাইলসহ কিছু মহাসড়কে একটু বেশি যানজট হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে মালবাহী ট্রাক বিকল হয়ে যাওয়া।

‘প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো গাড়ি মহাসড়কে বিকল হয়ে যায়। আমরা খবর পেয়ে রাস্তা থেকে গাড়ি সরিয়ে ফেলি। কিন্তু একটি গাড়ি সরাতে অনেক সময় লাগে, আর তাতেই যানজট তৈরি হয়। গতকালও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রডবাহী একটি ট্রাক বিকল হয়ে যায়। আরেকটি গাড়ি আইলেনে উঠে যায়। এ জন্য এক থেকে দেড় ঘণ্টার যানজট তৈরি হয়েছিল। এরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটে,’ যোগ করেন তিনি।

ঈদে মানুষের বেশি চাপ থাকার কারণে মহাসড়কে একটু যানজট হয় জানিয়ে ডিআইজি আতিকুল আরো বলেন, প্রতিটি মহাসড়কে যথেষ্ট পরিমাণ রেকার রাখা হয়েছে। সেই সাথে হাইওয়ে পুলিশ আছে। কোনো গাড়ি বিকল হয়ে গেলে সাথে সাথে সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা সড়কসহ মোট ২১ হাজার ৪৮১ কিলোমিটার সড়ক আছে। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ৩ হাজার ৮১২ কিলোমিটারের বেশি। আর বর্তমানে দেশের ১৫৪টি সড়কের ১ হাজার ৪৭২ কিলোমিটারে মেরামত কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এতে খরচ হবে ২ হাজার ২৬ কোটি টাকা, কিন্তু বরাদ্দ আছে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।-ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ