ঢাকা, মঙ্গলবার 18 September 2018, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কফি আনানের প্রতি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা নিবেদন

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব নোবেল বিজয়ী কফি আনানের জন্মস্থান আফ্রিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ রোববার তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

শনিবার ৮০ বছর বয়সে কূটনীতির এই মহানায়ক মারা যান। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ঘানার এই নাগরিক ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি তার কূটনৈতিক মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন।

কফি আনান জাতিসংঘের সংস্কার এবং মানবাধিকারকে প্রাধান্য দিতে উদ্যোগী হন। এর স্বীকৃতি হিসেবে ২০০১ সালে তাকে ও জাতিসংঘকে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। ওই বছরই তিনি বাংলাদেশ সফর করেন।

আত্মজীবনী ‘ইন্টারভেনশনস: আ লাইফ ইন ওয়ার অ্যান্ড পিস’-এ কফি আনান লিখেছেন, জাতিসংঘকে এমনভাবে তিনি গড়তে চেয়েছিলেন, যাতে বিশ্ব সংস্থাটি কেবল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নয়, সর্বস্তরের জনগণের স্বার্থ দেখবে।

আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল থেকে প্রথম জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আনান ইরাক যুদ্ধের সেই সংকটময় মুহূর্তে জাতিসংঘকে নেতৃত্ব দেন।

তবে দায়িত্ব পালনকালে আনান সমালোচনার হাত থেকেও রক্ষা পাননি। ১৯৯০ এর দশকে রুয়ান্ডার গণহত্যা ঠোকাতে জাতিসংঘের ব্যর্থতার দায় তার ওপরে পড়ে। কারণ তিনি ওই সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের প্রধান ছিলেন। এছাড়াও তিনি ইরাকে তেলের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির দুর্নীতিতে অভিযুক্ত হন।

কফি আনানের উত্তরসূরি জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন এক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আনান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জাতিসংঘকে ২১শতকের উচ্চাভিলাষী এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে পরিচালিত করেছেন। এর ফলে জাতিসংঘ বাস্তবিকভাবে বিশ্বজুড়ে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানবিকতার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।’

আনানের পরিবার থেকে বলা হয়েছে, কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর আনান শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছেন।

তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদরদপ্তর জেনেভার কাছেই বাস করতেন।

বর্তমান জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস তার পূর্বসূরীকে ‘মঙ্গল ও কল্যাণের পথ প্রদর্শক শক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

গুতেরেস বলেন, ‘বিভিন্নভাবে কফি আনানই জাতিসংঘ ছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘অতুলনীয় মর্যাদা ও দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে তিনি জাতিসংঘকে পরিচালনা করে গেছেন।’

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কফি আনানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের সবগুলো মিশন ও শাখায় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদ্দো কফি আনানকে ‘তাদের একজন মহান স্বদেশী’ উল্লেখ করে দেশটিতে এক সপ্তাহের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।

জাতিসংঘকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করা এবং বিশ্বকে আরো শান্তিময় করে তোলার জন্য জাতিসংঘ ও আনানকে নোবেল পুরষ্কার দেখা হয়।

অপর নোবেল বিজয়ী অবসরপ্রাপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকান আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু আনানকে ‘অসাধারণ মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘তিনি আমাদের মহাদেশ ও বিশ্বকে উদারতা ও দক্ষতার সাথে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। যা ছিল তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কফি আনানের ব্যাপারে মন্তব্য করেননি। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালেই বলেন, আনান আমাদের ঐক্যের জন্য অক্লান্তভাবে কাজ করে গেছেন এবং প্রতিটি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন লড়াই করে গেছেন।’

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এর আগে বলেছিলেন, আনান ‘যে অল্প কয়েকজন মানুষ জাতিসংঘের লক্ষ্যের সঙ্গে একাত্মভাবে কাজ করেছেন, আনান তাদের অন্যতম।’

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কফি আনান ছিলেন সত্যিই জাতিসংঘের একজন মহান মহাসচিব।’-বাসস

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ