ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে মাছের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে

শাহজাহান তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) থেকে: মাছে-ভাতে বাঙালি পরিচয় অক্ষুন্ন রাখা যাবে কিনা সে প্রশ্নটি উদয় হয়েছিল স্বাধীনতার পরপরই। জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এ প্রশ্ন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। কিন্তু স্বাধীনতার পর গত ৪৬ বছরে মাছ চাষ শনৈ: শনৈ: বেড়েছে, গত এক যুগে এ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মিঠাপানির মাছ চাষে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের চতুর্থ দেশ। সাগর থেকেও মাছ আহরণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দেশের প্রাণিজ আমিষের ৫৭ শতাংশই পূরণ হচ্ছে মাছ থেকে। মৎস্য খাত বর্তমানে দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশের জোগান দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী ২০১৬-১৭ সালে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ লাখ ৫০ হাজার টন। উৎপাদন হয়েছে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার টন, যা ২০০৮-০৯ অর্থ বছরের চেয়ে ৫৩ শতাংশ বেশি।
আর গত অর্থ বছরে ৭১ লাখ ৩৫ হাজার টন মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭১ লাখ ৫৪ হাজার টন উৎপাদন হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিসংস্থার ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বিশ্বে চতুর্থ এবং মাছ চাষে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। মাছে-ভাতে বাঙালি ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে মাছের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ঘটনা। মাত্র দেড় লাখ বর্গ কিলোমিটারের চেয়েও কম আয়তনের বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটিরও বেশি। নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুরসহ জলাধারের সংখ্যা হ্রাস পেলেও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য উৎপাদন বিস্ময়করভাবে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। আমাদের মতে, কর্মসংস্থান এবং আমিষ চাহিদা পূরণে মাছ উৎপাদনে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দেশে পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণের পাশাপাশি মাছ চাষিদের সহজ শর্তে ঋণদানের কথা ভাবতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ