ঢাকা, রোববার 19 August 2018, ৪ ভাদ্র ১৪২৫, ৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শার্শায় কুরবানির গরু দেখতে ফজলুর বাড়িতে মানুষের ভিড়

বেনাপোল থেকে মসিয়ার রহমান কাজল : যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন বাজার থেকে ২ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেটে বা গাড়ি নিয়ে সামনে গেলে একটি ছোট্ট গ্রাম নাম শিয়ালকোনা গাতিপাড়া গ্রাম।
গিয়ে দেখা হলো ফজলু রহমান (৫৫) সাথে সে ঐ গ্রামের দীন আলি সরদারের ছেলে। তিন ভায়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ছোট ভাই আলাদা সংসার করলেও তিনি ও তার বড় ভাই বাবলুর রহমান সরদারের এক সংসারেই বসবাস। এ বছর শার্শা উপজেলায় এককভাবে সবচেয়ে বড় গরু ও ছাগল কুরবানির জন্য প্রস্তুত করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই দুই ভাই। প্রতিদিন মানুষ এই গরু দেখতে ভিড় করছেন তাদের বাড়িতে।
স্মৃতিচারণ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফজলুর রহমান বলেন, ‘১৯৯৬ সাল। আমরা দু’ভাই ফেরি করে আইসক্রীম বিক্রি ও ভ্যান চালিয়ে কোনো রকম সংসার চালাতাম। ঈদের দিনও আমরা ভ্যান চালাইছি, না হলে চাল কেনা হতো না। ঈদে দিন ভ্যান চালিয়ে স্কুল মাঠে গেলাম কুরবানির মিসকিনের গোস্ত আনতে। কিন্তু দেরি হওয়ায় গোস্ত না দিয়ে মাতবররা আমাদের দুই ভাইকে মেরে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ওই বছর সন্তানদের মুখে একটুকরো গোস্তও তুলে দিতি পারিনি বলে কেঁদে ফেললেন।
২২ বছর আগে কুরবানির গোস্ত না পেয়ে ফিরে এসে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে বলেছিলাম আগামী বছর যাতে আমরা কুরবানি দিতে পারি সেই ক্ষমতা আমাদের দিও। মহান আল্লাহ আমাদের কথা শুনেছেন। পরের বছর দুই ভাই ভ্যান চালিয়ে টাকা জমিয়ে একটা ছাগল কুরবানি দিয়েছিলাম। তারপর থেকে আল্লাহর রহমতে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন প্রতিবছর করবানি দিই। চার-পাঁচ কেজি গোস্ত রেখে বাকি গোস্ত আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীর মধ্যে বিলিয়ে দিই’ বলছিলেন ফজলুর।
ফজলুর বলেন, এবার কুরবানির জন্য একটি গরু ও একটি ছাগল প্রস্তুত করেছি। গরুটির ১৬ থেকে ১৭ মণ আর ছাগলটির ৫০ কেজির মতো গোশত হবে।
এক বছর আগে কেনা গরুটিকে সন্তানের মতো লালন পালন করছেন ফজলুরের স্ত্রী আনিছা বেগম ও ভাবি কল্পনা বেগম।
কল্পনা বেগম বলেন, ‘এত বড় গরু বাইরি (বাইরে) বের করা যায় না। তাই গোয়াল ঘরের মধ্যে রেখেই পুষছি। প্রতিদিন গরুর গা (শরীর) ধুয়াই। খাবার দেই। ভালোই লাগে।’
ভ্যানচালক ও ফেরি করে আইসক্রীম বিক্রেতা হয়ে আজ তাদের উত্থানের পেছনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফজলুর বলেন, কুড়ি বছর আগে দুইভাই পরামর্শ করে সংসারে সুখ আনতে শেষ সম্বল জমিতে লাগানো গাছগুলো বিক্রি করি। ওই টাকা দিয়ে বড় ভাইকে মালয়েশিয়া পাঠাই। পরে বড় ভাই আমার বড় ছেলে নুরুন্নবীকেও মালয়েশিয়া নিয়ে যায়। এর পর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
আল্লাহ আমাদের সবকিছু পূরণ করেছেন। তায় আমরা অর্থ আভাবী লোকজন ও মসজিদ, মাদ্রসা ফকির মিসকিন, গ্রামের উন্নয়মূলক কর্মকান্ডে, আমরা যত টুকু পারি দেখি অর্থ দেয়। গ্রামের লোকজন আমাদের সম্মান করে, আমরা এখন সুখি পরিবার।
ফজলুর বাড়িতে তাদের কুরবানির বড় গরু ও ছাগল দেখতে আসা নজরুল, আলামিন ও কুদ্দুস বলেন, উপজেলায় কোনো বছরই এত বড় গরু-ছাগল কুরবানির খবর শুনিনি। তাই এখানে দেখতে এসেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ