ঢাকা, সোমবার 20 August 2018, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিনকে ইসরাইলের জন্য জ্বলন্ত ভূখ-ে পরিণত করুন---------আব্বাস

১৯ আগস্ট, পার্সটুডে/আল কুদস.কম  : ফিলিস্তিনী স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইহুদিবাদী ইসরাইলের অব্যাহত দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদার করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রামাল্লাহভিত্তিক ফিলিস্তিনী মুক্তি আন্দোলন বা পিএলও’র কেন্দ্রীয় পরিষদকে তিনি এ আহ্বান জানান। মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনী ভূখ-কে জ্বলন্ত অবস্থায় রাখতে হবে। অনেকটা আপোষকামী নেতা হিসেবে পরিচিত মাহমুদ আব্বাসের কড়া ভাষার এই বক্তব্যকে নজিরবিহীন মনে করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও জিহাদ আন্দোলন ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রামের পথ বেছে নিলেও মাহমুদ আব্বাস বহু বছর ধরে কথিত শান্তি আলোচনার পথে হেঁটেছেন। কিন্তু তিনি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত ‘শতাব্দরী সেরা চুক্তি’কেও প্রত্যাখ্যান করছেন। গতকালের কনভেনশনে তিনি বলেছেন, ডোনাল্ড প্রশাসন হচ্ছে ইসরাইলী দখলদারিত্বের অংশীদার; তারা সমস্যার অংশ, সমাধানের অংশ নয়। তিনদিনের এ সম্মেলন থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নীতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। জাতীয় পরিষদ বলেছে, ফিলিস্তিন বিষয়ে ট্রাম্প যে নীতি নিয়েছেন তা প্রতিরোধ করা হবে।   

জাতিসংঘের আহ্বান নাকচ ইসরাইলের : ফিলিস্তিনী নাগরিকদের সুরক্ষা জোরদার করার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব সম্প্রতি ইসরাইলের প্রতি যে আহ্বান জানিয়ছেন তা নাকচ করে দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলী রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানোন। তিনি এর বিপরীতে ফিলিস্তিনী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ড্যানি ড্যানোন শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনী জনগণকে কীভাবে রক্ষা করতে হবে সে বিষয়ে বিভ্রান্তিকর পরামর্শ দেয়ার পরিবর্তে জাতিসংঘের উচিত নিজেদের জনগণকে বিপদের মধ্যে ফেলার কারণে ফিলিস্তিনী নেতাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা।

ড্যানোন তার ভাষায় বলেন, ফিলিস্তিনী জনগণকে একমাত্র তাদের নেতাদের থেকে রক্ষা করা দরকার। তিনি দাবি করেন, ‘পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনী নেতারা জনগণকে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর হামলার উসকানি দিচ্ছেন; পাশাপাশি গাজা উপত্যকার জনগণকে পণবন্দী হিসেবে ব্যবহার করছেন হামাস নেতারা।’

ইসরাইলি হামলায় শুক্রবার আরো দুই ফিলিস্তিনী শহীদ হওয়ার পর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ১৪ পৃষ্ঠার এক রিপোর্টে বলেছেন, ফিলিস্তিনী জনগণের জন্য সাহায্য বাড়াতে হবে, জাতিসংঘ মানবাধিকার পর্যবেক্ষক পাঠাতে হবে এবং জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে সামরিক অথবা পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের জন্য নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক পাঠাতে হবে। দীর্ঘ দখলদারিত্ব, অব্যাহত নিরাপত্তা ঝুঁকি, দুর্বল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও অচল হয়ে পড়া শান্তি প্রক্রিয়ার কারণে ফিলিস্তিনের অবস্থা জটিল আকার ধারণ করেছে বলেও গুতেরেস উল্লেখ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ