ঢাকা, সোমবার 20 August 2018, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রশ্নে সরব মার্কিন-ফিলিস্তিনী মডেল গিগি হাদিদ

 রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে ফিলিস্তিন মার্কিন সুপার মডেল গিগি হাদিদ

১৯ আগস্ট, আলজাজিরা : জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ’র উদ্যোগে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করার পর রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনী বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ও সুপারমডেল গিগি হাদিদ। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের ছবি ও অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগের প্লাটফর্মে পোস্ট করেছেন তিনি। ফিলিস্তিন ও ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের পক্ষেও সবসময়ে সোচ্চার থেকেছেন শীর্ষ পারিশ্রমিক পাওয়া এই মার্কিন সুপারমডেল।

গত শুক্রবার এক ইন্সটাগ্রাম পোস্টে হাদিদি জামতলি শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের কথা জানান। রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে গিগি লিখেছেন,‘লাখ লাখ মানুষের এখন মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। তাদের অর্ধেকের বেশি শিশু।’

ইন্সটাগ্রামের ওই পোস্টে মার্কিন এই সুপারমডেল শরণার্থী শিবিরে ইউনিসেফের চালানো কার্যকমের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত জরুরি অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য ৯১ হাজার ৯২৯জন শরণার্থী শিশুকে তালিকাভুক্ত করেছে ইউনিসেফ। শরণার্থী শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে সহায়তা দিতে  প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৭৬২ শিক্ষককে, স্থানীয় অধিবাসী ও শরণার্থী শিশুসহ মোট ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭০জনকে মনস্তাত্বিক কার্যক্রম এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা সেবা দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফের সমর্থিত সুবিধার মাধ্যমে  ৯ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে মুখে খাওয়া কলেরা প্রতিষেধক, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাণঘাতী ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাঁশির মতো রোগের প্রতিষেধক পেন্টা ৩ পৌঁছানো হয়েছে।’ ইন্সটাগ্রামে গিগির এই পোস্টে লাইক পড়েছে ২৬ লক্ষাধিক।

শুক্রবার টুইটারে এক পোস্টে গিগি লেখেন, ‘রোহিঙ্গারা আগে বার্মার আরাকান নামে পরিচিত বর্তমানে মিয়ানমারের উত্তর রাখাইনের বাসিন্দা। সহিংসতার মুখে পালিয়ে তারা সবাই পানি ও ক্ষুধার জ্বালা এবং ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে করে দিনের পর দিন পার্বত্য পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে এসেছে।’ রবিবার পর্যন্ত তার এই টুইটে লাইক দিয়েছেন ১৩ হাজারেরও বেশি ব্যবহারকারী। আর রিটুইট হয়েছে তিন হাজারেরও বেশিবার। ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মে প্রচণ্ড জনপ্রিয় ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ২৩ বছর বয়সী এই সুপারমডেল। কক্সবাজার সফরের সময়ে স্বাস্থ্যসেবা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা শিক্ষা খাতে ইউনিসেফের কাজের বিষয়েও অনুসারীদের অবগত রাখছেন তিনি।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া পাঁচ মডেলের একজন গিগি হাদিদ। ধারণা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের গ্ল্যামার ম্যাগাজিন হাদিদকে ২০১৭ সালে ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ খেতাবে ভূষিত করে।

ফিলিস্তিনী ঐতিহ্য আর ফিলিস্তিনী শরণার্থী প্রশ্নে সবসময় সোচ্চার এই সুপারমডেল। গত বছর ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ খেতাব গ্রহণের সময় গিগি বলেছিলেন, এক সময়ে তার বাবাও ফিলিস্তিনী শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

গত মে মাসে দীর্ঘদিন ইসরাইলের অবরোধে নাকাল হতে থাকা ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি দখলকৃত ভূমিতে ফিরতে চেয়ে ফিলিস্তিনীদের ওপর ইসরাইলী সেনাদের চালানো সহিংসতার ঘটনায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কাভারেজের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন।

ওই ছবি প্রকাশের কারণে সামাজিক যোগোযোগমাধ্যমে আক্রান্ত হন তিনি। অনেকে অভিযোগ তোলেন ‘উন্মাদ সমাজে’ প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। আবার অনেকে অভিযোগ করেন টাকার বিনিময়ে ফিলিস্তিনিদের প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে কথা বলায় অনেকে তাকে বিশ্বাসঘাতকও আখ্যা দেয়। এমনকি তার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সমালোচনা করে কেউ কেউ টুইটারে বলেছেন, প্রচারণা পেতে সেখানে গেছেন তিনি।

এ ধরনের আক্রমণের মুখেও নিজের কাজের প্রতি অবিচল থেকেছেন গিগি। এবারে সমালোচকদের উদ্দেশে শনিবার (১৮ আগস্ট) টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আমার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন। আর এখানে আসার সুযোগ দিয়ে এবং এখানে পাওয়া শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ইউনিসেফ-ইউএসএ’র কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এই সংকটটি মাত্র এক বছর পূর্ণ (চলতি সপ্তাহে) হতে চললেও সংবাদমাধ্যম তা ভুলে গেছে। তাদের এখনও আমাদের সমর্থন ও ইতিবাচকতার প্রয়োজন রয়েছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ