ঢাকা, সোমবার 20 August 2018, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিএনপিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই ১/১১’র কথা বলে ‘আরেকটা চক্রান্ত’ করছে আ’লীগ -মির্জা ফখরুল

গতকাল রোববার স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: এক-এগারো’র কথা বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিএনপিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ‘আরেকটা চক্রান্ত’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি এক এগারো’র ষড়যন্ত্র করছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এরকম মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল পাল্টা এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ চায় না বিএনপি নির্বাচনে আসুক। এজন্যই তারা বার বার ১/১১ এর কথা বলে এবং সমস্যা তৈরি করে বিএনপিকে নির্বাচনে আসার বাঁধার সৃষ্টি করছে। আমরা মনে করি, এটা (১/১১ কথা বলা) আওয়ামী লীগের আরেকটা চক্রান্ত। এই চক্রান্ত হচ্ছে যে, আরেকটি চক্রান্তের মধ্য দিয়ে এদেশে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে গণতন্ত্রকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগকে তারা রুদ্ধ করতে চায়।
গতকাল রোববার বেলা ১২টায় শেরে বাংলা নগরে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির প্রতিষ্ঠঅতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। তারা মরহুম নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতেও অংশ নেন। এ সময়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিমউদ্দিন আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ইয়াসীন আলী, ফখরুদ্দিন রবিন, রেজাওয়ানুল হাসান রিয়াজ, এস এম জিলানি, নজরুল ইসলামসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দলের অবস্থা পরিস্কার করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সুস্পষ্ট করে বলতে চাই, সকল বাঁধা অতিক্রম করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে অবশ্যই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
১/১১ ষড়যন্ত্র বিএনপি করছে- এরকম প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনারাই বলুন, ১/১১ করা বিএনপির প্রয়োজনটা কী ? আর ১/১১ এর সাথে বিএনপির তো কোনো সম্পর্ক নাই। বিএনপি তো এখন ডাইভিং সিটে নাই। ডাইভিং সিটে আছে তারা(আওয়ামী লীগ সরকার)। ১/১১ করার অভিজ্ঞতা তাদের, ১/১১ এর সুবিধাভোগী তারা। তারা এর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসছে এবং তারা ওই অবৈধ সরকারকে সমর্থন করেছে শুধু নয়, তাদের সমস্ত কর্মকান্ডকে বৈধতা প্রদান করেছে। বিএনপিকে এর মধ্যে নিয়ে আসার মানে হচ্ছে তাদের কুমতলব আছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বরাবরই বলছি সংলাপ ছাড়া কোনও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ মুখে এ বিষয়ে দুই-একটি কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটা করেন যেন বিএনপি না আসতে পারে।
খালেদা জিয়া সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই ফ্যাসিস্ট সরকার তাকে কারাগারে আটকে রেখেছে। আজকে তাকে মুক্ত করার শপথ গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল।
ঈদমুখী মানুষজনের যাত্রাপথে ব্যাপক যানজট আর ভোগান্তির কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার উন্নয়নের কথা বলছে। উন্নয়ন কী হচ্ছে ? এটা তো আপনাদের টেলিভিশনের পর্দায়। ১৮/২০/২৪ ঘন্টা লাগছে একটা জায়গায় যেতে। মানুষের ম্ােঝ কোনো উন্নয়ন নাই। আছে দুভোর্গ, ভোগান্তি।
ঈদের আগে মুক্তির দাবি: তিনি আরও বলেন, আজকে আমাদের অত্যন্ত জোরালো আহ্বান, কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের ঈদের আগেই মুক্তির দাবি জানিয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঈদের আর মাত্র দুইদিন বাকী। আমাদের ও সারাদেশে মানুষের জোরালো আহবান, এই যে কোটা আন্দোলন এবং শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে একেবারে নীরহ অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের অন্যায়ভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে তাদেরকে ঈদের আগে মুক্তি দেয়া হোক।
এছাড়া গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবীতে আন্দোলনরত কিশোর-কিশোরী ছাত্র-ছাত্রীদের নামে মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়ে ঈদের আগেই তাদের মুক্তির দাবি জানান।
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, গত কয়েক মাসে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা দু’টি ভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছিল। এই আন্দোলনের প্রকৃতি ছিল সম্পূর্ণভাবে ভিন্নধর্মী। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন প্রচলিত রাজনৈতিক ও পেশাজীবীদের আন্দোলনের সাথে কোন মিল নেই। বাসের চাপায় সহপাঠীদের মৃত্যুতে স্কুল-কলেজে পড়–য়ারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল প্রতিবাদ জানাতে। ভবিষ্যতে প্রাণহানী থেকে সহপাঠিদের বাঁচানোসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কোমলমতি শিশুকিশোরদের এই আন্দোলন ছিল সবার জন্য শিক্ষণীয়। কিন্তু সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমেই নির্দোষ আন্দোলন দমাতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সরকারী ছাত্র-যুব সংগঠনের ক্যাডাররা এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর সশস্ত্র আক্রমণ চালায়। এতে শিশু-কিশোর-তরুণরা রক্তাক্ত হয়েছে, শারীরিক হামলায় ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। এই দৃশ্য জাতির মর্মমূলে নাড়া দিয়েছে, সারাজাতি এখন স্তম্ভিত ও ব্যথিত।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্বীয় ক্যাডারদের দ্বারা পৈশাচিক কায়দায় শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত করার পরও সরকারের দমন-পীড়ন থামছে না। শুরু হয়েছে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বিচারে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার হিড়িক। ইতোমধ্যে উস্কানী, ভাংচুরের মিথ্যা অভিযোগে ৫১টি মামলায় আন্দোলনরত প্রায় ৯৯ জনকে  গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতার অভিযানে শিশু ও ছাত্রীদেরকেও ছাড়া হয়নি-যা সবচাইতে অমানবিক, আতঙ্কজনক ও নজিরবিহীন ঘটনা। দেশজুড়েই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আন্দোলন নিয়ে স্বাধীনভাবে মত-প্রকাশের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোচিত্রি ড. শহীদুল আলমসহ লেখক-শিল্পি-কলাকুশলী-অনলাইন এক্টিভিস্ট কেউই সরকারের রোষানল থেকে রেহাই পায়নি। দেশ যেন এখন জুলুমের বৃত্তে অন্ধকুপে পরিনত হয়েছে। ভয় আর আতঙ্ক এখন মানুষের নিত্যসঙ্গী। বাংলাদেশকে নীরব-নিস্তব্ধ বিরাণভূমিতে পরিনত করার জন্যই যৌক্তিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শৈশব -উত্তীর্ণ কিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থীদের সরকারি জুলুমের কষাঘাতে জর্জরিত করা হচ্ছে। আমি আবারও শিক্ষার্থীরাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জুলুমের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঈদের আগেই কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। তাদের রিমান্ডসহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবী করছি। আমি প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার ড. শহীদুল আলমসহ সত্য কথা বলার জন্য যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদেরও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ ঈদের আগেই মুক্তির জোর দাবী জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ