ঢাকা, সোমবার 20 August 2018, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এখনও দাম কমার অপেক্ষায় ক্রেতারা

গতকাল রোববার গাবতলী হাটে এই গরুটির দাম হাকা হয় ২০ লাখ টাকা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। এখনও গরুর দাম কমার অপেক্ষায় ক্রেতারা। শনিবার থেকে হাটগুলোর কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হলেও বিক্রি হচ্ছে কম। ক্রেতারা দরদাম করছেন। এবারের হাটে দেশী খামারের গরুর সংখ্যাই বেশি। সঙ্গে আছে ভারতীয় গরুও। বিক্রেতারা দাম হাঁকছেন একটু বেশি। দাম কমার অপেক্ষায় বাজার যাচাই করছেন ক্রেতারা। অনেকে আবার পশু রাখার জায়গা সংকটের কারণে এখনই গরু কিনছেন না। গত পাঁচ বছরেও গরুর দাম এত চড়া দেখা যায়নি।
তবে বাজারে ক্রেতা সমাগম থাকলেও দাম কমার অপেক্ষায় কিনছেন কম। গতকাল রোববার দুপুর দেড়টা। রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আফতাব নগর পশুর হাটের প্রবেশ ফটকে ঢুকতে দেখা যায় গরু ভর্তি ট্রাক এখনও হাটে প্রবেশ করছে। শনিবার রাতেও এ হাটে প্রায় শতাধিক গরুর ট্রাক প্রবেশ করেছে।
এভাবেই গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আফতাব নগর হাটে গরু নিয়ে প্রবেশ করছেন বেপারিরা। হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও গতকাল পর্যন্ত বেচাকেনা খুব লক্ষ্য করা যায়নি। তবে বেপারিরা মনে করছেন আজ থেকেই মূলত ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়বে বিক্রিও। আফতাব নগরের হাটটিতে ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম অনেকটাই বেশি। বেপারিরা মাঝারি আকারের একেকটি গরু সর্বনিম্ন ৭০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ের আগে হাটে গরু আসার খবরে অনেককেই দেখা গেছে শুধু দেখার জন্য হাটে এসেছেন। তবে যারা কিনতে এসেছেন তাদের অনেকেই হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আশরাফুল নামের এক ক্রেতা জানান, প্রতিবছর হাটে আগাম গরু আসে।
এ সময়টাতে দাম ছাড়েন না বেপারিরা। এবারো প্রথম দিন এসে ফিরে যাচ্ছি। কাল পরশু আবার আসবো। জাফর নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, এখনো গরু আসলেও সেভাবে বেচাকেনা দেখতে পাচ্ছি না। মেরুলের কাছাকাছি বাসা হওয়ায় সকাল-বিকাল দুই বেলা করেই হাটে আসা হয় আমার। কিন্তু যতদূর দেখছি এখানে অনেক গরু এলেও দাম খুব চড়া। বেপারিরা গরুর দাম হাঁকাচ্ছেন অনেক বেশি। যে গরুটা গত বছর ৬০ হাজার টাকা ছিল সেটা এবার দাম বলছে ৯০ থেকে এক লাখ টাকা। জানি না, আজ(আগামীকাল) পর্যন্ত এমন দাম থাকবে কিনা। উত্তর বাড্ডা থেকে ফয়জুর নামের আরেক ক্রেতা এসেছেন শিশু সন্তানকে নিয়ে। তার উদ্দেশ্য সন্তানকে হাট ঘুরে দেখানো। এর ফাঁকে গরু কেনা যায় কিনা সেটাও দেখছেন।
ফয়জুর বলেন, বাচ্চাকে নিয়ে হাটে এলাম। তাকে গরু- ছাগল দেখানোর জন্য এসেছি। আর পাশাপাশি দেখে যাচ্ছি গরুর দাম কেমন? পুরো হাটে অনেক গরু এসেছে। কিন্তু সে অনুযায়ী ক্রেতা নেই। কাল থেকে হয়তো বাড়বে। যেটা আশঙ্কা করছি তাহলো এবছর গরুর দাম অনেক বেশি। বেপারিরা কিছুতেই ছাড়বেন না এমন অবস্থা। এদিকে বেপারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো ক্রেতার সংখ্যা না বাড়ায় গরু কেনাবেচা সেভাবে বাড়েনি। আর যেহেতু গতকাল রোববার থেকে হাটের আনুষ্ঠানিক বিকিকিনি শুরু হয়েছে তাই অনেকেই শুধু ঘুরে ঘুরে দেখছেন। আফতাব নগরের হাটটিতে নীলফামারী জেলা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম জানান, তিনি হাটে ১৪টি গরু উঠিয়েছেন। সব নিজের খামারের।
এক-একটি গরুর দাম হাঁকাচ্ছেন ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে দুইদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো ক্রেতা এখনো তেমন কোনো দাম বলেননি। গরুগুলো আনতে তার ৪০ হাজার টাকা গাড়ি ভাড়া লেগেছে। দিনাজপুর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী শরীফুল হক বলেন, আমরা বিভিন্ন আকারের মোট ৩০টি গরু এনেছি। প্রতি গরু ১ থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে বিক্রি করবো। চার হাজার টাকা খুঁটি ভাড়া দিচ্ছি। ১০ টাকা করে প্রতি বালতি পানি খাওয়াচ্ছি গরুকে। সঙ্গে করে গরুর খাবারও এনেছি। প্রতিদিন প্রতি গরুর পেছনে ৪০০-৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু বাজারে এখনো তেমন ক্রেতা দেখছি না। অনেকে এসে ঘুরে ঘুরে দেখেন। আফতাব নগরের পাশেই রাজধানীর আরেক ঐতিহ্যবাহী হাট মেরাদিয়া। এখানেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপক হারে কোরবানির পশু উঠিয়েছেন বেপারিরা। তবে চিত্র একই। গতকাল বিকালে ঘুরে দেখা যায় পর্যাপ্ত গরু-ছাগল থাকলেও সেভাবে ক্রেতা কম।
একই অবস্থা দেখা গেছে,পুরান ঢাকায় হাটগুলোতেও। এখানে প্রচুর পরিমান গরু দেখা গেছে। কিন্তু এত বেশি হাকাচ্ছে যে ক্রেতারা দামও বলার সাহস পাচ্ছেন না। অনেকে দাম শুনেই হাটছেন। তবে অনেক ক্রেতা বলছেন,এবার গত বছরের তুলনায় হাটে গরুর সংখ্যাও অনেক কম। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর ভারতীয় গরু তেমন একটা আসেনি। আর এ কারণেই গরুর দাম অনেক বেশি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে গো খাদ্যেরও দাম বৃদ্ধি।
ধুপখোলা হাটে ১৫ টি গরু নিয়ে পাবনা থেকে এসেছে ওমর ফারুক। তিনি প্রতি বছইে এ হাটে গরু নিয়ে আসেন। তিনি এখন পর্যন্ত একটি গরু বিক্রি করেছেন। তিনি দৈনিক সংগ্রামকে জানান, দাম বেশি হওয়ার কারণে বাজার যাচাই করছেন ক্রেতারা। শেষ সময়ে অবশ্যই তারা পশু কিনবেন। কুরবানি দিতে হলে পশু কিনতেই হবে।
দাম বেশির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বছর গো-খাদ্যেরও দাম গত বছরের তুলনায় দাম অনেক বেশি ছিল। লেবার এবং পরিবহন ভাড়াও অনেক বেড়েছে। গত বছর যে ট্রাক ভাড়া দিতে হয়েছে ২০/২৫ হাজার টাকা। এ বছর সে ট্রাক ভাড়া প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এতে কওে প্রতিটি গরুতে দাম এমনিতেই বেড়েছে ৩ হাজার টাকা। তাছাড়াও ভারতীয় গরুর পরিমানও কমেছে।
তবে গরুর দাম বেশি হলেও ছাগলের দাম রয়েছে গত বছরের মতই। রাজধানীর প্রতিটি হাটেই ছাগল দেখা গেছে। ছাগলের হাটে ক্রেতার সমাগম কম দেখা গেছে। অনেকে বিকল্প হিসেবে ছাগল কুরবানি দিয়ে থাকেন। ধনী পরিবাওে যারা গরুর গোস্ত খাননা তারাই গরুর সাথে দুই একটি ছাগল কুরবানি দিয়ে থাকেন। অনেকে আবার সন্তানের আকিকার জন্য ছাগল ক্রয় করে থাকেন।
তবে নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অনেক সময় ভাগে কুরবানি না দিতে পারলে বিকল্প হিসেবে ছাগল কুরবানি দিয়ে থাকেন। মাঝারি আকারের একটি ছাগলের দাম ১০/১২ হাজার টাকা। বড় সাইজের একটি ছাগলের দাম ২০/২৫ হাজার টাকা।
এদিকে গাবতলীর হাটে গিয়ে দেখা যায় ভিন্নচিত্র। সেখানে অধিকাংশ পশুই দেশীয় খামারের। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছে পশুগুলো। হাটে বিশাল আকারের অনেক সংখ্যক গরুও লক্ষ্য করা গেছে। হাজী আনোয়ার ম-ল নামের এক গরু ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে হাটে এনেছেন ৭০০ গরু। এর মধ্যে ২৫০টি বিক্রি হয়ে গেছে। গরুর দাম এবার অন্যবারের চেয়ে বেশি বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। এবার অন্যবারের মতো সীমান্ত পার হয়ে অবৈধ গরু আসেনি বলেও দাবি করেন গাবতলী হাটের ইজারাদার লুৎফর রহমান। এই হাটের গরু ব্যবসায়ীরা সাধারণত সারা দেশের খামারিদের থেকে গরু কিনে বিক্রি করেন। হাটে পুলিশ, র‌্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ