ঢাকা, সোমবার 20 August 2018, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সংসদ নির্বাচনে ইভিএম’র ব্যবহার মেনে নেয়া হবেনা

স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে বিএনপি। ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কথা জানান। তিনি বলেন, ইভিএম দিয়ে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এই মেসিনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নেই, এর দ্বারা ডিজিটাল কারচুপি হওয়া সম্ভব। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, কোনো অবস্থাতেই আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। এই মেশিন ব্যবহারের অশুভ তৎপরতা বন্ধ করতে জনগণ প্রস্তুত।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (কেএম নূরুল হুদা) একাধিকবার জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্যে বলেছেন, সব রাজনৈতিক দল না চাইলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে না। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ব্যক্তির গণমাধ্যমে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য জনগণের কাছে অঙ্গীকারনামার মতো হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতির বক্তব্য থেকে সরে গিয়ে সিইসি বিপুল টাকার অংকের দেড় লক্ষ ইভিএম মেশিন ক্রয় করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এটা সম্পূর্ণরূপে জনগণের সাথে প্রতারণা। আমরা মনে করি, আগামী নির্বাচনকে ক্ষমতাসীনদের অনুকূলে ম্যানিপুলেট করার জন্য ইভিএম ব্যবহারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনের সচিবের যৌথ প্রযোজনা। এজন্য তড়িঘড়ি করে এই মেশিন কেনার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কারচুপির জন্য, জালিয়াতির জন্যে পছন্দের দলকে ক্ষমতায় বসাতে সাধারণ মানুষকে ভোট বঞ্চিত করে তাদের টাকা দিয়ে আপনি একটি ত্রুটিযুক্ত পদ্ধতি বাস্তবায়ন করবেন এটা জনগণ কখনো ছেড়ে দেবে না। নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালউদ্দীন ‘প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের অফিসে গিয়ে বৈঠক করেন’ বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।
ইভিএম এর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসির সাথে সংলাপে আওয়ামী লীগ ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দল, সুশিল সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন ইভিএমের বিপক্ষে মত দিয়েছে। এমনকি প্রধান নির্বাচন কমিশনারও একাধিকবার বলেছেন, সবাই না চাইলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে না। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ব্যক্তির গণমাধ্যমে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য জনগণের নিকট অঙ্গিকারনামার মতো বিবেচিত হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতির বক্তব্য থেকে সরে গিয়ে সিইসি বিপুল টাকার অংকে দেড় লক্ষ ইভিএম মেশিন ক্রয় করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে কমিশনের সচিব বলেছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ সংশোধন করে ইভিএম ব্যবহারের বিধান অন্তর্ভুক্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন- যা সম্পূর্ণভাবে জনগণের সাথে প্রতারণা।
রিজভী বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে এখন আগামী নির্বাচন নিয়ে অবৈধ সরকার নতুন নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। আওয়ামী অপশাসনের ছোবলে শুধু দেশের জনগণই নয় দেশ-বিদেশে সমর্থন হারিয়ে এতিম হয়ে পড়ে আওয়ামী নেতারা পাগলের প্রলাপ বকছে। এদের বক্তব্য বিবৃতি সামঞ্জস্যহীন। মসনদ হারানোর ভয়ে এরা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে। বিএনপি নেতা-নেত্রী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী যে উদ্ভট কথা বলেন, পরক্ষণেই হাসানুল হক ইনু আরেক ধাপ এগিয়ে আরেকটি উদ্ভট বক্তব্য দেন। পাগলামির ঘোরের মধ্যে আওয়ামী সরকার এখন নিমজ্জিত। আগামী নির্বাচনের আগেই এ সরকারের পতন হবে এমন আলামত দেখে দেশব্যাপি মিথ্যা মামলার ছড়াছড়ি আর নির্বিচারে গ্রেফতারের হিড়িক শুরু হয়েছে। ঈদের প্রাক্কালেও দেশজুড়ে গণগ্রেফতারের অবিরাম অভিযান চলছে- গ্রেফতার করা হচ্ছে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা, জনপ্রতিনিধিসহ হাজার কর্মীদেরকে। মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারের যাতাকলে দেশবাসীকে অন্ধকারে দম আটকানো অবস্থায় ফেলা হয়েছে, যাতে জনগণের প্রতিবাদী মিছিল রাজপথে এগিয়ে যেতে না পারে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সরকার শেষ মরণ কামড় দিচ্ছে। কিন্তু তাদের সময় পার হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার অধীনে আগামী নির্বাচন হবে না। আগামী নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। এবার গায়ের জোর খাটিয়ে কোনো লাভ হবে না। যতই জেল জুলুম নির্যাতনের পথ বেছে নিন কোনো এন্টিবায়োটিকই আপনাদের টেকাতে পারবে না। বর্তমান আওয়ামী সরকার যুক্তি ও বিবেকবর্জিত, নৈরাজ্যপ্রসু। এদের পতন অনিবার্য ও অত্যাসন্ন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ইলেট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম), অনলাইন মনোনয়নপত্র জমা, জামানত বাড়ানো, স্বতন্ত্র প্রার্থিতা সহজীকরণসহ অন্তত ৩৫টি প্রস্তাব নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আইন সংস্কার কমিটি সম্প্রতি সভা হয়।
দিনাজপুরের পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁওয়ের যুব দলের আহমেদ উল্লাহ, মনিরুজ্জামান লিটন, মিনহাজ, শাহজাহান কবির টিটু, ফেনীর ছাত্র দলের নুরুল ইসলাম ও নোয়াখালীর স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল্লাহ আল নোমান, শরীফ, শামীমসহ বিভিন্ন স্থানে দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ