ঢাকা, সোমবার 20 August 2018, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উত্তরাঞ্চলের ৩শ’ ব্যবসায়ীর ট্যানারিতে পাওনা ২শ’ কোটি টাকা এবার লোকসানের আশঙ্কা

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ৩’শ ব্যবসায়ীর নিকট দেশের বিভিন্ন ট্যানারি গুলোতে গত বছরের ২শ’ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এমতাবস্থায় নতুন করে অর্থের যোগান না পেলে এই অঞ্চলের চামড়া ব্যাবসায়ীদের লোকসানের আশংকা দেখা দিয়েছে।
 গত বছরের চেয়ে চামড়ার দাম কমেছে প্রতিবর্গ ফুটে ১০ টাকার ওপর। এই দামে চামড়া পাওয়া মুসকিল। ফলে ভারতে পাচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া  চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ দেয়া হচ্ছে না। ফলে ধার দেনা করে ব্যবসায়ীদের চামড়া কিনতে হবে। এছাড়া প্রতিবস্তা লবণের দাম ১ হাজার ৫০০ টাকা। এত টাকা খরচ করে চামড়া সংরক্ষণ করলে লাভের চেয়ে লোকসানের আশঙ্কা বেশি। অপরদিকে উত্তরাঞ্চলের ৩ শতাধিক ব্যবসায়ীর প্রায় ২শ’ কোটি টাকা বকেয়া পরে রয়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ট্যানারিগুলোতে। রংপুর নগরীর শাপলা মোড়স্থ চামড়া বাজারে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
তারা জানান, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় প্রায় দু’হাজার চামড়া ব্যবসায়ী টাকার অভাবে এবার চামড়া ক্রয় করতে পারবেন না বলে সন্দিহান হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, এ পেশার সাথে জড়িত প্রায় লক্ষাধিক ফড়িয়াও রয়েছেন চরম বিপাকে। ক’দিন পরেই কুরবানীর ঈদ। এই ঈদকে ঘিরে প্রতি বছর চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে সাজ সাজ রব লক্ষ্য করা গেলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। একে পূর্বের বকেয়া টাকা না পাওয়া অন্যদিকে গরুর চামড়ার দাম গতবছরের চেয়ে কম নির্ধারণ করায় চামড়া ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের মাঝে হতাশার সুর নেমে এসেছে। অপরদিকে  গরুর হাটগুলোতে আমদানি প্রচুর হলেও কাঙ্খিত কেনা বেচা নেই।
চামড়া ব্যবসায়ীদের সুত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের প্রতিটি জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার পিচ গরুর চামড়া আমদানি হতো।  একইভাবে প্রতি বছর কোরবানীর সময় প্রতিটি জেলায় দু’ থেকে আড়াই লাখ পিচ চামড়ার আমদানি হয়। সেই হিসেবে প্রতি বছর কুরবানীর সময় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ পিচ গরুর চামড়া আমদানি হয়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা এবার সেই লক্ষ্য পূরণ নাও হতে পারে। কবছর আগেও উত্তরাঞ্চলে ২’শর উপর চামড়ার গোডাউন ছিল। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪০টিতে।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, রংপুরে ৫০ জন ব্যবসায়ীর ৭ কোটি, দিনাজপুরের ৩০ জনের ৫ কোটি, বগুড়ার অর্ধশত ব্যবসায়ীর কাছে ১২ কোটি, নওগাঁর ৩০ জন ব্যবসায়ীর ১০ কোটি, নাটোরের অর্ধশত ব্যবসায়ীর ১৪ কোটি, রাজশাহীর ২৫ জন ব্যবসায়ীর ১২ কোটি টাকা ট্যানারি মালিকদের কাছে পড়ে রয়েছে। এ টাকা তারা গত এক বছর থেকে ধর্ণা দিয়েও তুলতে পারেনি। ফলে অনেকেই চামড়ার ব্যবসা বাদ দিয়ে বিকল্প ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
ঐ বাজারের সাহেব আলী, সবুর মিয়া, মোসাদ্দেক আলী, আনছার আলী, রাজা মিয়া, শহিদার রহমান, কালু মিয়া, রাসেল করিম জানান, তারা বংশ পরম্পরায় পশুর চামড়া ব্যবসা করে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমান পশুর চামড়ার ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। লাভের বদলে লোকশান ও ট্যানারিগুলো থেকে বকেয়া আদায় না হওয়ায় তারা তাদের ব্যবসা পরিবর্তন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন ট্যানারির কাছে প্রায় ২শ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। তবে অনেকেই জানান, বাপ দাদার এই পেশাটিকে ধরে রাখতে ধার দেনা করে হলেও এবার তারা চামড়া ক্রয় করবেন। তবে কতটুকু ধার দেনা পাবেন এ নিয়েও তাদের সংশয় রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রংপুর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ খান ও সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী জানান, গত বছর প্রতিবর্গফুট চামড়ার দাম ছিল ৫০ টাকার ওপর। এবার তা কমিয়ে করা হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ফলে লোকসানের আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। তিনি আরো জানান, উত্তরাঞ্চলের চামরা ব্যবসায়ীদের ২’শ কোটির বেশি টাকা ট্যানারীগুলোতে বকেয়া রয়েছে। সরকার বড় বড় ট্যানারিদের কোটি কোটি ব্যাংক ঋণ দেয়। কিন্তু চামড়া ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার ব্যাংক ঋণ দেয়া হয় না। ফলে চামড়া ব্যবসায়ীরা ধার দেনা করে অতি কষ্টে এ ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ