ঢাকা, সোমবার 20 August 2018, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশবাসীকে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঈদের শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সর্বস্তরের সকল শ্রমিক কর্মচারী ও দেশবাসীকে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ঈদের আনন্দ শ্রমিকদের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি, এই প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও ফেডারেশনের সাধারণ অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান।
গতকাল রোববার দেয়া যুক্ত বিবৃতিতে ফেডারেশনের নেতৃদ্বয় বলেন, ভেদাভেদ, হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-ক্রোধকে পরিহার করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আত্ম নিবেদিত হওয়া আমাদের কর্তব্য।
কুরবানির যে মূল শিক্ষা তা ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত করে মানবকল্যাণে ব্রতী হওয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ সম্ভব। বিশ্বাসী মমিন হিসেবে সে চেষ্টায় নিমগ্ন থাকা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য। নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থায় সকলের পক্ষে ঈদের আনন্দ যথাযথভাবে উপভোগ করা সম্ভব নয়। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, দরিদ্র ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী এবং নিম্ন আয়ের মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পানি, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের তীব্র সংকট জনজীবনে দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সমাজে শ্রমিক শ্রেণি সবচাইতে বেশি অবহেলিত ও ন্যূনতম মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় খুলনা পাটকলসহ সকল অসহায় শ্রমিকদের অবস্থা তুলে ধরে বলেন, খুলনায় বিভিন্ন দাবিতে পাট কল শ্রমিকদের যে আন্দোলন চলছে,তার সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব। শ্রমিকদের মজুরি নেই, ঘরে চাল, ডাল, তেল নেই। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসার নিশ্চয়তা নেই। পরিবারে চলছে হাহাকার! বকেয়া মজুরি আদায়ে আন্দোলনরত খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ব ৮ পাটকলের শ্রমিকদের পরিবারে কষ্টের শেষ নেই।
তারা বলেন, মজুরি না পেয়ে অভুক্ত অবস্থায় উৎপাদন অব্যাহত রাখা শ্রমিকদের পক্ষে সম্ভব নয়। নিরুপায় হয়েই তারা উৎপাদন বন্ধ করে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ছাড়া শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
নেতৃদ্বয় বলেন, এই বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন দিয়ে দেশে একটি পাতানো নির্বাচনের আয়োজন চলছে। তাদের এই গভীর ষড়যন্ত্র জনগণ প্রতিহত করবে। সরকার মূলত রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের জেলখানায় বন্দী রেখে একটি লোক দেখানো নির্বাচন করতে চায়। নেতৃবৃন্দ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, ছাত্রজনতাসহ ইসলামী আন্দোলনের সকল নেতা কর্মীদের ঈদুল আজহার আগেই মুক্তি দিয়ে দেশের জনগণ ও পরিবারের সাথে ঈদ করার সুযোগ দেয়ার জন্য আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দেশে ক্রান্তিকাল চলছে। সরকার দেশের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আজ খেটে খাওয়া শ্রমিক, ছাত্রজনতা, স্কুল ছাত্রসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত।
সরকারের এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য তারা শ্রমিক সমাজসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
সর্বোপরি নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ঈদের আনন্দের দিনে কোনো শ্রমিক যাতে অভুক্ত না থাকে-সেদিকে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। সবাইকে ঈদের আনন্দকে একসাথে ভাগ করে নিতে হবে।
ঈদুল আযহা সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি, সমাজে সৃষ্টি হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মিলবন্ধন, মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে এই প্রার্থনা জানাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ