ঢাকা, সোমবার 20 August 2018, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দাদুর গল্প বলা

শেখ বিপ্লব হোসেন : ঈদের ছুটি কাটাতে গ্রামের বাড়ি এসেছে ওয়াসিম, অনন্যা। আর একদিন পরেই কোরবানির ঈদ। এখন সবখানেই চলছে ঈদের গরু বেচা কেনা। গতকাল দাদুর সাথে গরু কিনতে হাটে গিয়েছিলো ওয়াসিম। সাথে ছোট চাচ্চুও ছিলো। তার পছন্দের একটা লাল ষাঁড় কেনা হয়েছে। লাল টুকটুকে ষাঁড় পেয়ে ভাইবোন দু'জনেই মহাখুশি। এখন এই লাল ষাঁড়কে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে ওদের। গরুকে কী খাওয়াবে, কোথায় রাখবে এই নিয়ে ভাইবোনের চিন্তাভাবনার যেন অন্ত নেই। ছোটচাচ্চুর পরামর্শে মাঠ থেকে কিছু সবুজ কচিঘাস কেটে নিয়ে এলো ওয়াসিম। সারাদিন নাওয়া খাওয়া নেই তার। এখন গরুই যেন তার ধ্যান-জ্ঞান। অনেক বলে কয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ালেন দাদী-মা। এভাবেই দৌড়ঝাঁপ করে কেটে গেল সারাদিন তার।
রাতের খাবার খেয়ে ভাইবোন দু'জনেই দাদুর ঘরে এসে হাজির। ওয়াসিম দাদুকে বলল, "দাদু! চলো বারান্দায় গিয়ে বসি। অনেক দিন হলো তোমার কাছে গল্প শোনা হয় না। আজ সারারাত তোমার গল্প শুনবো।" ওদের পীড়াপীড়িতে দাদু আর ঘরে বসে থাকতে পারলেন না। শেষে ওদের নিয়ে বারান্দায় এসে বসলেন।
আজ আকাশে মেঘ নেই। জোছনা রাত। ঝিরি ঝিরি মিষ্টি হাওয়া বইছে চারদিক। দারুণ ফুরফুরে পরিবেশে দাদুর দুপাশে বসে আছে ওয়াসিম, অনন্যা।
ওয়াসিম ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। অনন্যা প্রথম শ্রেণিতে। ওয়াসিম ছাত্র হিসেবে বেশ। তাই সব বিষয়ে কৌতূহলও একটু বেশি তার। সে দাদুকে বলল, "দাদু, গল্প শুরু করো!" দাদু গলা সেরে বললেন, "কী গল্প শোনাবো দাদু ভাই?"
অনন্যা বলল, "দাদু, একটা নীলপরীর গল্প শোনাও!"
অনন্যার কথামতো দাদু একটা নীলপরীর গল্প শোনালেন। নীলপরীর গল্প শুনে অনন্যা মহা খুশি। ওয়াসিম বলল, "দাদু! আরো একটা গল্প বলো, তবে রাজার কিংবা ভূতের গল্প না। ভিন্ন কিছু।" দাদু মিষ্টি হেসে বললেন, "দাদু ভাই, কী গল্প শোনাবো? আমি যে নতুন গল্প জানি না।"
ওয়াসিম বলল," না বললে তো হবে না দাদু, তোমাকে নতুন কোনো গল্প শোনাতেই হবে।" দাদু ভাবলেন, এতো নাছোড় বান্দা! একটা কিছু না-বললেই নয়। এখন কী করা যায়! শেষমেশ বললেন, "তাহলে শোনো! আজ তোমাদের একটা নতুন গল্প শোনাবো। যে গল্প তোমরা এর আগে শোনো নি। এটা ঠিক গল্প নয়, এটা একটা ইতিহাস।
আমাদের জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর কোনো সন্তান ছিলো না। তাঁদের জীবনের দীর্ঘ সময় কেটে গেলে, মহান আল্লাহ্ মা হাজেরার গর্ভে এক পুত্র সন্তান দান করলেন। তাঁর নাম ইসমাইল (আঃ)। তাঁদের সন্তানের যখন হাঁটা চলা ও খেলাধুলার বয়স, তখন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) একদিন স্বপ্নে দেখলে যে, আল্লাহ্ তাঁকে বলছেন, তোমার প্রিয় বস্তু কোরবানি করো! তিনি এই স্বপ্ন দেখে, আল্লাহ্'র নামে কিছু উট কোরবানি দিলেন। পরে তিনি আবারও সেই একই স্বপ্ন দেখলেন।
 "তোমার প্রিয় বস্তু কোরবানি করো! "আল্লাহ্'র নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তিনি আরও কিছু উট কোরবানি দিলেন।
তিনি যখন আবারও একই স্বপ্ন দেখলেন" তোমার প্রিয় বস্তু কোরবানি করো! " তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে, কলিজার টুকরা হযরত ইসমাইল (আঃ) ই হচ্ছেন তাঁর প্রিয় বস্তু। তিনি (ইব্রাহীম আঃ) বললেন, হে আমার পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে কোরবানি করছি। সুতরাং তোমার মতামত কি? সে (হযরত ইসমাইল আঃ) বললেন, হে আমার পিতা! আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন তা পালন করুন। আপনি আমাকে আল্লাহর মেহেরবানিতে ধৈর্যশীলদের একজন পাবেন। অতঃপর যখন তাঁরা দু‘জন একমত হলো আর আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছার সামনে আত্মসমর্পণ করল এবং ইব্রাহীম (আঃ) ইসমাইল (আঃ) কে জবাই করার জন্য কাত করে শুইয়ে দিলেন; ঠিক তখন মহান আল্লাহ্, ইব্রাহীম (আঃ)কে ডাক দিয়ে বললেন, হে ইব্রাহীম! তুমি তোমার স্বপ্নকে সত্যে রূপ দিয়েছো। নিশ্চয়ই এটা ছিল ইব্রাহীম ও ইসমাইলের জন্য একটা পরীক্ষা। অতঃপর আমি তোমাকে দান করলাম একটি মহা কোরবানির পশু।
সেই থেকে আল্লাহ্'র মেহেরবানিতে প্রতিবছর আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পশু কোরবানির মধ্যদিয়ে ঈদুল আযহা উদযাপিত হয় । আল্লাহ্'র সন্তুষ্টি লাভের জন্যই আমাদের এই কোরবানি। কোনো লোক দেখানো বা শুধু গোস্ত খাওয়ার জন্য পশু কোরবানি নয়। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিই হলো আসল উদ্দেশ্য।
তো গল্প কেমন লাগলো তোমাদের?
ওয়াসিম, অনন্যা দু'জনেই বললো "দারুণ!" দাদু বললেন, এখন সবাই চলো! অনেক রাত হয়ে গেছে। ঘুমাতে চলো! কাল ঈদ। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হবে দাদু ভাইয়েরা।"

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ