ঢাকা, সোমবার 20 August 2018, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

স্মৃতি আর বিস্মৃতির দোলাচলে
হাসান হাফিজ

বিস্মরণই ভালো ছিল হয়তো বা, কিন্তু স্মৃতি তুষের অনল।
ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে, নেভানোর যাবতীয় প্রয়াস নিষ্ফল।
আগুনের ধর্ম জেদ প্রতিহিংসা পুরাটাই রয় তার একান্ত দখলে
মন্থন করেও ব্যর্থ, আগ্নেয় লাভার মতো থেকে থেকে জ্বলে।
স্মৃতিকে ভর্ৎসনা করি, কেন তুমি এরকম নগ্ন আর বেহায়া নিলাজ
মর্মচেরা ঘুণপোকা নীরবে আড়ালে থাকো লুক্কায়িত কীর্তি কারুকাজ।

বিস্মরণ নদী নয়, হতো যদি জেগে উঠতো শূন্যতার আগ্রাসন চড়া-
পালানোর প্রশ্ন নাই, নিপুণ ছলনা ফাঁদে আনমনে পড়িয়াছি ধরা,
অন্ধকার তুমি যতো চতুরালি করো হও অনুরাগে সিক্ত স্বয়ংবরা
ডুবে যেতে সময় লাগে না বেশি, থাক যত বেড়াজাল সতর্ক প্রহরা!
ভালোবেসে নিমজ্জিত হতে চাইলে এ পতন কে ঠেকায় বলো
অনুতাপ করে কোনো ফায়দা নাই চক্ষু যতো করো ছলোছলো।


বিবর্ণ ঘুঙুর
শাহীন রেজা

দেখতে দেখতে বিলীন হয়ে গেলো একপ্রস্থ রোদ
ফনীমনসার নিবিড়ে ঝুটিবাঁধা শালিক গুবরে খেতে খেতে চোখতুলে
বিদায় জানালো মধ্যাহ্নকে আর ধীবর সুকান্ত একঝুড়ি পাঙ্গাশ নিয়ে
চিতা জ্বালানোর আগ্রহে ঘাম তুলে এগুলো উত্তরে

দিয়াশলাই নেই, পিচ্ছিল কবির মুখ কতিপয় শব্দ এবং
একটি কবিতার খসড়ার জন্য ক্রমাগত রৌদ্রের খুঁটি হয়ে
অবশেষে ধেনোমদ

যে নিজে জ্বলতে পারেনা তার কি এমন শক্তি জ্বালায় অন্যকে?

হয়না দেখা অপরাহ্ন, হয়না আঁকা রঙধনু দিগন্তে
কবির বক্ষজুড়ে দুপুর বালিকা এবং তার বিবর্ণ ঘুঙুর
কেবলই বেসুরো বাজে কেবলই ডানা ঝাপটায়
যেন এক ঈশপের বন্দী ঈগল।


বৃষ্টি
সায়ীদ আবুবকর

কি-আশ্চর্য এই শুচি শুভ্র বৃষ্টিপাত
কোথায় আকাশে ছিলো, শূন্যের গহ্বরেÑ
ঊর্বশীর মতো এলো নেমে সে হঠাৎ
ফসলের মাঠ আর ধু-ধু তেপান্তরে;

সেখানে সে খেলা করে বিষণœ প্রহরে
যখন সন্ধ্যার আগে নেমে আসে রাত;
অন্তর যায় না রাখা কিছুতেই ঘরে,
বারবার ছুঁতে চায় তার শুভ্র হাত।

এত কষ্ট এ জগতে, এত দুঃখ খরা-
ধুয়েমুছে নিয়ে যাবে বুঝি সে এবার;
শুচিশুভ্র হয়ে ঊঠবে জীর্ণ বসুন্ধরা,
মৃত কপোতাক্ষে ফের উঠবে জোয়ার।

যে- ছিলো আকাশ পারে, শূন্যের খাঁচায়-
সে এখন মর্ত্যলোকে নাচে ও নাচায়।


হিসেব বিষয়ক প্রশ্ন
নোমান সাদিক

দাসের খাটুনি খেটে দশকন্যার বাপের মজুরী বকেয়া,
শূন্যহাত দিনশেষে তবু বাড়ি ফিরে শৈশবের ছড়া কেটে,
কাল জাগবে বলে সেও যদি ঘুমাতে পারল
নিখোঁজ ছেলের খোঁজে একজন মা যদি হাজেরার মতো
থানায় থানায় ধর্না দিয়ে শেষবেলা সেও ঘরে ফিরে
চুলায় চড়াতে পারলো খুদের হাড়ি

ঈদের বোনাস নয় বাসমতি চাল নয় শুধু ন্যায্য বেতনের দাবীতে
দীর্ঘক্ষণ মানব বন্ধন শেষে ক্ষুধা আর পিঠে প্রহারের দাগ নিয়ে
বস্তিতে ফিরে যদি স্বাভাবিক পাঠ করলো ব্যর্থ দিবসের পাণ্ডুলিপি

শরীরের জখম নিয়ে নির্দোষ পাগল এক শুধু বাতাসের সাথে কথা কয়ে কয়ে
নিশ্চিন্তে ডুবতে পারলো স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার কম্বলের গ্রহে

তাহলে, একজন কবি কড়িহীন শূন্যহাতে দিনশেষে ঘরে ফিরে
বলো কেন ভারাক্রান্ত হবে?
কেন বলো ধীর হবে কিংবা বলবে কবিতা
আমাকে আসলে দিলনা কিছুই?


পরিচয়
নয়ন আহমেদ

আশা ও অভিপ্রায় একটি পরিচিত গ্রহ;
তার ছায়া কুড়িও একবার।
আলিঙ্গন করে তাকে ডেকো আরও কাছে।
আরও সন্নিকটে;
যেন হাত নাগাল পায়
যেন চোখ দেখতে পায়
যেন ঠোঁট প্রস্তুতি নিতে পারে
আর পা তার কাছে ছুটে যেতে পারে।
কুড়িও তার ছায়া আরও একবার।
তুমি আবশ্যক মনে করে একবার এই গ্রহ হয়ো।

হরপ্পার শিলালিপি পড়তে পড়তে
আমি এই গ্রহটির পরিচয় জানতে পেরেছি।


বলো তারে
শাহীন আরা আনওয়ারী

উদাস বিকেলে সময়েরা যদি গো
করে উন্মন
বলো ভালোবাসা বাকি
তাই এ ক্রন্দন!
যদি অলস বিকেলে কিংবা সন্ধ্যার
লালিমা শোনায় বিরহের গান
বলো তারে এখনো প্রেম শুকায়নি
হৃদয়ে জাগবেই প্রাণ।
যদি উষশীর মেঘলা চাঁদ জ্বলে
ফিরবোই দিও তারে বলে,
কখনও যদি ঝরে জোসনার ফুল
মেঘলা আকাশের নেই কিনারা কূল
বলো তারে তবুও হারাইনি পথ
জাগবে সাগরসম ঢেউ বুকে
সময়ের হাত ছুঁয়ে আমি আসবোই
তুমি ভালোবাসাকে আগলে রেখো।


পরম প্রভুর সমীপে
হেলাল আনওয়ার

লক্ষ কোটি মানুষের শ্রদ্ধার্ঘ্যে সজ্জিত করেছে
আর ইতিহাস দিয়েছে সুউচ্চ সম্মান
ধূলিকণা তার যেন স্বর্গীয় লোবানে সিক্ত
প্রেমাষ্পদ প্রতিটি আত্মার সবুজ ক্যানভাস।
হে সাফা-মারওয়া তোমার অব্যক্ত ভাষা
আর স্মৃতিময় স্মারক যেন বিশ্ববাসীর
        অনবদ্য উপাখ্যান।
যে ইতিহাস অমলিন অবারিত চোখে
সেকি ভোলা যায়?
ভোলা যায় আবে যম যম স্বচ্ছ সলিল
কচি পায়ের পদাঘাতে যার জন্ম
উত্তপ্ত মরুর বুকে এ যেন আরেক
স্বর্গীয় নহর ধারা।
প্রতিকূল পরিবেশে ঝর্ণার আবহসঙ্গীতে
চির স্মরণীয় হলো ঐ পবিত্র শিশুটি।

তিনি এলেন- অলৌকিক জীবনপ্রবাহে
তিনি এলেন-মক্কা মরুর উত্তপ্ত হাওয়ায়
তিনি এলেন- অন্ধকার পরাভূত করে
হাজেরা আর ইবরাহীমের কোলজুড়ে
তাঁর আগমনে অস্থির পৃথিবী পেল
স্বস্তির পেলবতা।
বিদূরিত হলো অন্ধকার, জ্বলে উঠলো
শীতল আলোর ফোয়ারা
বিশুষ্ক আরব পেলো ঐতিহ্যের অমিয় ধারা
হে আরব তুমিতো জানো,
তাঁর আত্মত্যাগের অমোচন ইতিহাস
প্রভুর দাসত্ব প্রমাণ করতেই তিনি
তিনি নিজেই প্রস্তুত হলেন
আর শিখিয়ে দিলেন কিভাবে নিজেকে
উৎসর্গ করতে হয় পরম প্রভুর সমীপে।
জনকের স্বপ্নে আদিষ্ট নির্দেশে
ভয়হীন বীরের মতো শীতল দৃষ্টিতে
তিনি বললেন- একি প্রভুর নির্দেশ?
-হ্যাঁ-
-তবে আর কথা কেন?
-পরম প্রভুর নির্দেশ পালনে তৈরি হোন-
পিতার বিস্ময় চোখ, তেমনি বিস্ময় কাল মহাকাল
“ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল
হিসেবেই পাবেন”।


কর্তিত ঈদ
জাফর পাঠান

আমার ঈদটাকে- কেড়ে নিয়েছে
এক টুকরো তপ্ত সীসা,
বছর ঘুরে  যখন  আসে ঈদ
আমি হারিয়ে ফেলি দিশা,
হাসি খুশি ভাইটি - গত ঈদেও
ছিলো আমার সাথে সাথে,
জানি ফিরে আসবে না সেতো আর
রাখবেনা হাত- এ হাতে।

ঈদ যখন-ই- ধরণীতে আসে
আমাকে শুধুই কাঁদায়,
কে দিবে ফিরিয়ে-ঈদকে আমায়
কে নিবে সংসারের দায়,
ভাইয়ের রক্তে ভেজা ঐ জামাটি
নিতি জানান দিয়ে যায়,
অমানুষরা- ক্ষমতা হাতে পেলে
নিরীহের চক্ষু ভেজায়।


প্রিয় কবি   
সুলতান মাহমুদ

প্রিয় কবি
একটি প্রিয় কবিতা লেখবে বলে
অধির হয়ে আছি
বধির এই দুঃসময়েও
তোমার প্রেমে বাঁচি
প্রিয় কবি ...!

প্রিয় কবি
চাই না তোমার বাবরি দোলানো চুল
চাই না আহা রবীন্দ্রতম শুভ্রতা
চাই'গো শুধু, প্রেমের অমীয়ধারা
সৃষ্টিতে হে শতোভাগ শুদ্ধতা।
ডাক এসেছে নব জাগরণের
নিভে যাক আঁধার সবই
প্রিয় কবি ..........!

প্রিয় কবি
সত্যের সংগ্রামে কলম চলুক
মিথ্যার অহংকার ভাঙো
আপনালোয় আগ্নেয়গিরির
অবশিষ্ট অন্ধকার রাঙো।
অলংকার হোক ভালোবাসার
বহমান শতো নদী
প্রিয় কবি .......!


অরণ্যের আর্তনাদ
নাবিল তুরাব

গভীর রাতে নীরবে ঝরে পড়া পাতাদের হাহাকার
জীবনে শুনেছি অনেকবার।
ছাদের ওপর জমে থাকা জলের টুপ
করে নিচে পড়ার ব্যথাও অনুভব
করেছি বহুবার। আমি দেখেছি মাটির কষ্ট,
পাহাড়ের কষ্ট, নদী ও সমুদ্রের কষ্ট।
দেখেছি আকাশের, জোছনার,
নীলিমার কষ্ট।
রাতের প্রগাঢ়তায় গহন অরণ্যের আর্তনাদ 
আমাকে বহুকাল বিহ্বল করেছিলো।
আমি ভাঙা দেয়ালের খাঁজে
গুটিয়ে নিয়েছি নিজেকে অসংখ্য বার।
আমার ভগ্ন হৃদয়ের
চিৎকার পুঁতেছি মাটির ভেতর।


জীবনবোধের বৃক্ষমাঠ
হাসান নাজমুল

জীবনের সমস্ত পুস্তক পাঠ শেষে-
একটি নতুন অধ্যায় খুলেছি,
এ অধ্যায় নিঃশেষ হবে না কোনদিন,
এখানে প্রত্যহ বেড়ে ওঠে-
জীবনের গভীরতা;
এ অধ্যায়ে জেগে আছে তিক্ত সংগীত,
পড়লেই আহত হৃদয়ে বেজে ওঠে-
করুণ কষ্টের বাঁশি;
ফ্যাকাসে স্মৃতিরা ভেসে ওঠে চোখের সামনে,
পাঠক-হৃদয় তবু নিরাশ হয় না কখনও,
পড়তে পড়তে খুঁজে পায়-
জীবনবোধের বৃক্ষমাঠ; যে-মাঠে হাঁটলে
শেষ প্রান্ত পাওয়া যায় না কখনও,
পরতে পরতে খুঁজে পায়- জীবন-যুদ্ধের গতি।


প্রিয় স্বদেশ
মোহাম্মদ ইসমাইল

আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে বুকে
আজও বাঁচিয়ে রেখেছি নিজেকে-
হে প্রিয় স্বদেশ!
যদিও বলি ও মিথ্যে, সেতো শুধু ধ্বংসাবশেষ!
সত্যকে তবে সেই কবে গায়ের জোরে
নিছক উড়িয়ে দিতে পেরেছিনু ‘সে’ তুড়ি মেরে?
নাহ্ না,
অমন হুতুমপেঁচা অলক্ষ্মি’র ভাবনাটুকু ‘সে’ কখনো না।
আমরা তো স্বাধীনতাকামী স্বাধীন ‘সত্য’প্রিয়
তার চেয়েও যে ঢের সত্য ‘তুমি’ সত্যগামী স্বদেশ অমিয়!
গণতন্ত্রীকামী হে স্বাধীন বাংলাদেশ!
প্রিয়া’র প্রিয় তুমি, হে প্রিয় স্বদেশ॥

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ