ঢাকা, সোমবার 20 August 2018, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে জমে উঠেছে কুরবানীর পশুর হাট

এম,এ,জাফর লিটন,শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে: ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের হাটগুলোতে কুরবানির পশুর প্রাচুর্যতা রয়েছে। গতবারের চেয়ে দাম ভাল পাওয়ায় কৃষক ও খামারিরাও খুশি। তবে ক্রেতারা বলছে, দাম বেশি হওয়ায় তাদের বাজেটে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। খামারিরা বলছে, খৈল-ভুষিসহ খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু-লালন পালনে ব্যয় বেশি হওয়ায় দাম এবার একটু বেশি। তবে খামারিদের আশঙ্কা, যদি ভারতীয় গরু অবৈধ পথে দেশে প্রবেশ করে তবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর এ জন্য সরকারকে কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষক-খামারিরা। কৃষি বিভাগ বলছে, ঈদে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে গবাদিপশু পুষেছে। এবার জেলায় সাড়ে তিন লক্ষাধিকের মত গবাদিপশু কুরবানির উপযোগী করা হয়েছে। কৃষক ও খামারিরা ন্যায্য মুল্য পেলে আগামীতে আরও বেশী গরু লালন-পালনে আগ্রহী হয়ে উঠবে তারা। আর ভারতীয় গরু যাতে অবৈধপথে দেশে না আসতে পারে সে জন্য মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সরেজমিনে তালগাছী, জামিরতা, কৈজুরী, নরিনা,  বাদলবাড়ী খেলার মাঠ হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটে ছোট-বড় প্রচুর পরিমাণ কুরবানির গরু উঠেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠছে হাটগুলো। প্রচুর গরু ছাগলের আমদানী হওয়ায় নির্দিষ্ট এলাকা ছেড়ে হাট বসছে। শাহজাদপুরের তালগাছী হাটটিতে সাধারণত প্রতি রোববার গরু-ছাগল-মহিষ ও ভেরা বিক্রি হয়। জেলার সুনামধন্য হাট হওয়ায় হাটে ক্রেতার সংখ্যা বরাবর বেশি থাকে। তালগাছীতে প্রতি হাটে প্রায় ৪/৫হাজার গরু ওঠে। হাটে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা থেকে গরু বিক্রি হচ্ছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত । তবে গ্রাহকদের চাহিদা সবচেয়ে ৫০-৯০ হাজার দামের গরুর প্রতি। ছাগলের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। হাটে পোশাক পরিহিত পুলিশসহ সাদা পোশাকে ও গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জালনোট শনাক্তের জন্য মেশিন বসানো হয়েছে। হাটটিতে ক্রেতারা কোন দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি কৃষক ও খামারিদের কাছ থেকে তাদের চাহিদা মোতাবেক কুরবানির পশু কিনছেন। তবে এখনো হাটে ভারতীয় গরু না ওঠায় বিক্রেতারা অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছেন। পশুর হাট গুলির কর্তপক্ষের পক্ষ থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এতে এ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ক্রেতাদের চাহিদার মধ্যে খামারে বা বাড়িতে পোষা গরুই প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পশু আমদানির ওপর দাম নির্ভর করলেও এ বছর সব ধরনের পশুর দাম তুলনামূলক একটু বেশি হবে বলে মনে করছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে। এ ছাড়া এবারের কুরবানিতে দেশীয় গরুর কদর থাকবে বলে মনে করছেন সকলেই।
শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খাজা গোলাম কিবরিয়া  জানান, কুরবানীর পশুর হাটগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাটে ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি ও দালাল মুক্ত করার জন্য পোশাকধারী পুলিশসহ সাদা পোশাকে ও গোয়েন্দার মাধ্যামে থানা এলাকায় প্রতিটি পশুর হাটে ব্যাপক নিরাপত্ত জোরদার করা হয়েছে। জালনোট শনাক্তের জন্য মেশিন বসানো হয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ