ঢাকা, সোমবার 20 August 2018, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মের কোন বালাই নেই

দিরাই (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মের কোন বালাই নেই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা অসহায় ও দরিদ্র এলাকার রোগীদের অভিযোগ অন্তহীন। চিকিৎসক ও ওষুধ সঙ্কট পুরাতন হলেও নতুন করে অবৈধভাবে অতিরিক্ত ফি আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় তিন লক্ষাধিক জনবসতি অধ্যুষিত এলাকায় সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যার কমপ্লেক্স ভবন উন্নিত হলেও স্বাস্থ্য সেবার মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয়  যন্ত্রপাতি না থাকার অজুহাতে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্টি সেবার বদলে বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে প্রতারনার শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে নানা অনিয়মের খবর।  দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। ভর্তি রোগীদের থেকে ২০ টাকা ,প্রাথমিক চিকিৎসা ও রেফার্ড করা রোগীদের নিকট থেকে ফি নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা করে। বহিঃ বিভাগে প্রতি রোগীর কাছ থেকে নেয়া হয় ১০ টাকা ফি। জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিতে দিরাই পৌরসভার সুজানগরের মহসিন মিয়ার ছেলে ১১ মাস বয়সের জিসানকে ভর্তির পরামর্শ দিয়ে কাগজ লিখেন চিকিৎসক। সহকারী একজন ভর্তি ফি ২০ টাকা দিতে বললে  জিসানের সাথে আসা দাদী জানতে চান আগে ১০ টাকা নিতেন এখন ২০ টাকা কেন,তখন বদরুল নামের লোকটি জানায় নতুন বড় স্যার আসার পর বলছেন ২০ টাকা লাগে,এছাড়া আমি কিছু বলতে পারবো না।  গেল শনিবার থেকে মাহদি হাসান নামের ১৫ মাসের শিশুকে নিয়ে ডায়রিয়া জনিতকারণে ভর্তি আছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়সিদ্ধি গ্রামের নজির হোসেন,তিনি বলেন জরুরী বিভাগে ২০ টাকা ফি দিয়ে ছেলেকে নিয়ে ভর্তি আছেন ২টি খাবার স্যালাইন ছাড়া হাসপাতাল থেকে আর কিছুই দেয়া হয়নি।
একই কথা জানালেন শাল্লা উপজেলার হবিবপুর গ্রামের মমিন আলী, তিনি এসেছেন ১৪ মাসের নাতি মাহিদ মিয়াকে নিয়ে। বহিঃ বিভাগে আবাসিক পুরুষ রোগী  চিকিৎক কক্ষে রোগী দেখছেন মহিলা চিকিৎক মনি রানী তালুকদার। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান,পহেলা আগষ্ট থেকে প্রতিদিন গড়ে ৭০/৮০ জন পুরুষ রোগী দেখেন তিনি। তিনি আরো বলেন, দিরাই উপজেলাসহ পাশের কয়েকটি উপজেলার রোগী আসে,জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসক অনেক কম থাকায় খুব কষ্ট হয়। বহিঃ বিভাগে আবাসিক মহিলা কক্ষে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডাক্তার সাবরিনা তালুকদার, তিনিও বললেন প্রতিদিন ৭০/৮০ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়।এভাবে বহিঃ বিভাগের শিশু কক্ষে চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত দেখা যায় ডাক্তার নাজিয়া মানালুল ইসলামকে। দুঃখ জনক হলেও সত্য ২ জন পুরুষ চিকিৎক থাকলেও কাউকে চিকিৎসা কাজে পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায় ভর্তি রোগীদের স্যালাইন ছাড়া আর কোন ওষুধ দেয়া হয়না। ভর্তি রোগীদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সব ওষুধ বাহিরের ফার্মেসী থেকে কিনে আনতে হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতালে এক্সরে মেশিনটি চালু হয়নি কোন দিন। ডেন্টাল ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পরে আছে। ইসিজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফ ও অপারেশন থিয়েটার সচল না থাকায় সিজারিয়ান অপারেশন হয়না।
অতিরিক্ত ফি নেয়া ও নানা অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাক্তার মাহবুবুর রহমান সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৫০ শয্যা হাসপাতালে সরকারী নিয়ম মেনেই রোগীদের কাছ থেকে ফি আদায় করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ