ঢাকা, সোমবার 20 August 2018, ৫ ভাদ্র ১৪২৫, ৮ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

ঈদের খুশি
আল মাহমুদ

সব খুশিরই গন্ধ আছে- ঈদের খুশিরও
ঈদের খুশির গন্ধটা ভাই ঘিয়ে ডোবানো
আদর সোহাগ সবকিছুতেই রান্নাঘরের ঘ্রাণ
কোরমা পোলাও ছাড়া কি ভাই ভরবে কারো প্রাণ!

খুশির মধ্যে খাওয়াই সেরা- খাওয়ার বাড়া নেই
ঈদের খাওয়া শুরু করো কব্জি ডুবিয়েই!
ঈদের খাওয়া মায়ের হাসি ঝিলিক মারে মনে
কিছু তো তার হারিয়ে গেছে কিছু সংগোপনে।

সবকিছুতে স্বপ্ন আছে খাওয়ার স্বপ্ন সেরা
স্বপ্নে স্বপ্নে যাক মিলিয়ে ধনী-গরিবেরা।


ভাঙা চাঁদ
সাজজাদ হোসাইন খান

একটি জবা ডালের পিঠে
একটি জবা পাতায়
একটি জবা চড়ুই ছানা
লাফিয়ে নামে পাতায়।

একটি পাখি চোখের ভাঁজে
একটি পাখি উড়াল
একটি পাখি কলমিবনে
পাথরকাটা মূরাল।

একটি তারা আকাশ জুড়ে
একটি তারা গাঙে
একটি তারা মাথার ভিতর
কাব্য কথায় রাঙে।

একটি গ্রহ অনেক দূরে
একটি অনেক কাছে
একটি গ্রহের চুলের পাশে
ধুমকেতুরা নাচে।

একটি মনের প্রান্ত ছুঁয়ে
শিউলি বকুল জুঁই
একটি মনের উধাও নীলে
চম্পারা ছুঁই ছুঁই।

একটি বুকে মস্ত উঠান
ভাঙা চাঁদের বাড়ি
পুলক ভরা সেই উঠানে
খুশির কাড়াকাড়ি।


ছুটির মজা
শামীম খান যুবরাজ

ছুটির মজা অনেক মজা খেলতে পারি খুব
ছুটির দুপুর রৌদ্র পুকুর মারতে পারি ডুব।
ডুবসাঁতারে পুকুর পাড়ি চোখ দু’টো হয় লাল
শুনলে পরে মা’র বকুনি দেই হেসে একগাল।

অমনি মায়ের রাগ চলে যায় ফোটে হাসি মুখে
আদর-সোহাগ জোটে মায়ের মুখ লুকালে বুকে
মনটা তখন মন থাকে না সুখসাগরে ভাসে
মনের ভেতর হাজারটা সুখ খলখলিয়ে হাসে।

ছুটির দিনে সঙ্গ বাবার কত্তো দারুণ জানো
বাবার মুখের গল্পে দেখি সত্যিকারের দানো
বাবার সঙ্গে ঘোরাঘুরি সাইকেলে তাঁর চড়ে
আমায় পেয়ে বাবার মজা খুশিতে গান ধরে।

সারাটাদিন ঘুরে-টুরে রাত্রে বাবার বুকে
ঘুমিয়ে পড়ি; স্বপ্ন জাগে, স্বপ্নরা টুকটুকে
ছুটির মজা অনেক মজা স্বপ্নডানায় ঘোরা
ছুটির দিনে সবকিছু তো ঝকঝকে আনকোরা।


ঈদ আনন্দ
মুহাম্মদ মিজানুর রহমান

নাই যে ছুটি বেশি দিনের
তবুও যাব বাড়ি,
ছেলে মেয়ের জন্য আমি
ঢাকা শহর ছাড়ি।

হোক না কষ্ট, শত কষ্ট
তবুও যাব বাড়ি,
বাবা মায়ের দেখতে যে মুখ
সাগর দেব পাড়ি।

ছেলে মেয়ে বাবা মা আর
পাড়া পড়শী স্বজন,
কি আনন্দ পাই যে আমরা
করি যখন ভোজন।

ঈদ আনন্দ পাওয়ার জন্য
ছুটি বাড়ির পানে,
হাসি খুশি থাকুক সবে
ঈদের মজার গানে।


পথশিশু
আসাদউজ্জামান খান

রাস্তাতেই বাড়ি ওদের রাস্তায় ওদের ঘর
কে যে ওদের বাবা-মা সবাই ওদের পর।
কি যে করে হলো ওদের এমনই দুর্দশা
রাতের বেলায় দেয় যে কামড় কত রকম মশা!
যখন দেখে বাবার কোলে ছোট একটি শিশু
মনটা কাঁদে বাবার জন্য বলার নাই তো কিছু।
হাত বাড়িয়ে রাখি যদি আমরা ওদের পাশে
আনন্দ হয় মনে ওদের খিলখিলিয়ে হাসে।
চায় যে পেতে ওদের মনেও একটু কোমল আদর
শীতের দিনে আমরা পারি দিতে একটি চাদর।

ঈদের সময় সপিং যদি একটু কমে করি
কম হলেও ঈদের পোশাক ওদের দিতে পারি।


তোমার দয়ায়
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম

জীবন মরণ তোমার হাতে
তুমি আমার রব,
তোমার দয়ায় বেঁচে আছে
সৃষ্টি জাহান সব।
ভুল করেছি ওগো আল্লাহ্
ক্ষমা আমি চাই,
বান্দা ভেবে আমায় তুমি
দাওগো একটু ঠাঁই।


ঈদের দিনে
আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ

একটি জামা নিজে পরে
মতিন হেঁটে যায়
অন্য জামা দেয় পরিয়ে
বুলুর কালো গায়।

দুটি জুতা পায়ে দিয়ে
হনহনিয়ে ছোটে
অন্যদুটো বুলু পরে
তারই পিছে জোটে।

বুলু-মতিন হাঁটতে থাকে
সকল বিভেদ ভুলে
খলখলিয়ে হেসে ওঠে
হৃদয়-পরাণ খুলে।

এমন করে বুলু-মতিন
মাতিয়ে তুলে পাড়া
ঈদের দিনে দেয় কাটিয়ে
হয়ে আত্মহারা!


ঈদ
আব্দুল কাদির জীবন

ঈদের দিন অনেক শিশু
নতুন জামা পায়না
ওদের জন্য কিছু করি
সবাই মিলে আয়না।
ধনি-গরিব, রাজা- প্রজা
পড়ি নামাজ একসাথে
আয়না সবাই মিলেমিশে
গড়ি সমাজ তারসাথে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ