ঢাকা, মঙ্গলবার 21 August 2018, ৬ ভাদ্র ১৪২৫, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চরম ভোগান্তি নিয়ে মানুষ নাড়ির টানে ফিরছে বাড়ি

এই হলো আমাদের মহাবিপদজনক ঈদযাত্রা। প্রয়োজনের তাগিদে আইন অমান্য না করে যাত্রীদের উপায় নেই। অথচ আইন আছে কিন্তু আইন রক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়নি। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অভাবে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে ট্রেন, লঞ্চ, বাসে। গতকাল সোমবার তোলা ছবি –সংগ্রাম

* কখন আসবে ট্রেন ঘরমুখী মানুষের অপেক্ষা
* লঞ্চের কেবিন যেন সোনার হরিণ
মুহাম্মদ নূরে আলম : ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বাড়ায় দেশের সড়ক, নৌ এবং ট্রেন তিন রুটেই বেড়েছে যাত্রী ভোগান্তি। তারপরও ভোগান্তি নিয়ে শেষ মুহূর্তে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। আজ মঙ্গলবার ঢাকা ছাড়বে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষ, বিভিন্ন সূত্রে জানাযায় এই তথ্য। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে লেগে থাকা জ্যাম অসহনীয় কষ্ট দিচ্ছে যাত্রীদের। নৌ পথে নদীর নাব্যতা সংকটের জন্য সকল রুটেই পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে অনেক যানবাহন। এদিকে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে কমলাপুরে। গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর যাওয়ার জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি চলছিলো আবুল কাশেমের পরিবারে। বিশেষ করে ছোটো দুই ছেলে-মেয়ে অনেকদিন পর দাদা বাড়ি যাওয়ার আনন্দে গতরাতেও প্রায় নির্ঘুম ছিল। আর এখন তাদের সময় কাটছে অপেক্ষায়। ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বসে তারা চেয়ে আছে উত্তরের দিকে। কখন ট্রেন আসবে। কখন উঠবে, আর কখন যাবে গ্রামের বাড়ি। ট্রেন আসে না। তাই তাদের মনও বসছে না কিছুতেই।
কুরবানির ঈদ উপলক্ষে ঢাকা ছেড়ে যেতে সদরঘাটে লঞ্চের কেবিনের টিকিটের জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও মেলাতে পারছেন না কেবিনের টিকিট। অনেকেই মলিন মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। পাবেন কিনা তাও জানেন না।
অপরদিনে গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল আকস্মিক পরিদর্শনকালে ঘরমুখী যাত্রীদের কাছে ক্ষোভের কথা শুনলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল। যাত্রীদের অভিযোগ কাউন্টারে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া টিকিট মিলছে না। নিকট দূরত্বের যাত্রীরা পড়েছেন আরও বিপাকে। ৪০-৬০ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে দেড়শ-দুইশ টাকা।
কমলাপুর স্টেশন: গতকাল সোমবার সকাল পৌনে নয়টার নীলসাগর প্ল্যাটফর্মে আসতে সাড়ে ১১টা বাজিয়েছে। ততক্ষণে বাড়ি যাওয়ার আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায় বগুড়ার মারিয়ামের। এতক্ষণ বসে থেকে ক্লান্ত শরীর, কি করে ট্রেনে উঠার যুদ্ধে নামবে সেটা ভাবারও সময় নেই। বললেন, ‘ভাই ট্রেন চলে আসছে, এখন উঠতে পারলে হয়।’ সঙ্গীদের সঙ্গে ব্যাগ-বোঁচকা টেনে ট্রেনের দিকে ছুটতে থাকেন তিনি। একসময় ঠেলাধাক্কা খেয়ে উঠেও যান ট্রেনে। লালমনি এক্সপ্রেসের যাত্রী যুবায়ের হোসেন বলেন, ‘১০টার ট্রেন দুপুর ১২টায়ও আসেনি। কখন আসবে সে বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। জানি না কখন বাড়ি যাব। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে না আসা পর্যন্ত শান্তি হচ্ছে না।’
ঈদ যাত্রার চতুর্থ দিনে গতকাল সোমবার ২০ আগস্ট সকাল থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ছিলো এমন হতাশ যাত্রীতে ঠাসা। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে চারিদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। ঢাকা থেকে সবগুলো রুটেই ট্রেনের শিডিউল বিঘœ ঘটেছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের ট্রেনের শিডিউলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু বলেন, ‘ঈদের দুইদিন আগে এমন চাপ হয়। এবার অন্যবারের তুলনায় ট্রেনে যাত্রীর চাপও বেশি। সবমিলে ঈদ যাত্রায় বাড়তি ভোগান্তি হচ্ছে, তারপরও আমরা চেষ্টা করছি যতটুকু স্বাভাবিক রাখা যায়। গত তিনদিনের মত গতকাল সোমবারও ট্রেনের ছাদ ভর্তি মানুষ দেখা গেছে। নিরাপত্তাকর্মীরা এসব যাত্রীদের ঠেকানোর চেষ্টা করলেও কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। ঝুঁকি নিয়েই তারা ছাদে যাত্রা করছেন। এরমধ্যে নারী ও শিশু যাত্রী রয়েছেন। স্টেশন সূত্র জানায়, পূর্বাঞ্চল বাদে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। রেলের প্রস্তুতির পরও সময় ঠিক রাখা যাচ্ছে না। রেল কর্মকর্তারা বলছেন, ‘সকাল থেকে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা বিকালের দিকে আরো বাড়বে। কেননা রাতের চলাচলকারী ট্রেনের সংখ্যা বেশি। অনেকে দিনে কাজকর্ম শেষে রাতের ট্রেন ধরবেন।
 রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার কুরবানির ঈদের চার দিন আগে থেকে ঈদের সাত দিন পর্যন্ত বিভিন্ন গন্তব্যে ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করছে। ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে দুটি করে, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-দিনাজপুর, ঢাকা-লালমনিরহাট ও ঢাকা-খুলনা রুটে এসব ট্রেন চলবে। এ ছাড়া ভৈরব-কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে ঈদের দিন চলবে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’। পুরো কমলাপুর ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ছয়টায় রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ৮টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি স্টেশনে এসে পৌঁছায়। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বিলম্ব করে ৯টা ২৫ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। যদিও স্টেশনের বড় স্ক্রিনে ট্রেনটি ছাড়ার সম্ভাব্য সময় দেওয়া ছিলো ১১টা ৪৫ মিনিট। অন্যদিকে, কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে আটটায় ছাড়ার কথা থাকলেও ৯টা ১০ মিনিটেও ছেড়ে যায়নি। ঈদ স্পেশাল লালমনি এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি সঠিক সময়ে কমলাপুরে এসে পৌঁছাতে পারেনি।
লঞ্চের কেবিন যেন সোনার হরিণ: গতকাল সোমবার বিকাল থেকেই সদরঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। যাত্রীর চাপ দেখে লঞ্চ কর্মচারীদের কেউ কেউ দ্বিগুণ টাকা নিয়ে কেবিন ভাড়া দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পিরোজপুর যাওয়ার উদ্দেশে পরিবার নিয়ে সকাল সকাল বেরিয়েছিলেন ব্যবসায়ী ইমদাদুল ইসলাম। বেলা ১১টায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে পৌঁছান তিনি। কিন্তু তিন ঘণ্টা চেষ্টা করেও পিরোজপুর রুটের কোনো লঞ্চে কেবিনের টিকিট পাননি। তাই বাধ্য হয়ে রাজদূত-৭ লঞ্চে সাড়ে চার হাজার টাকা দিয়ে কেবিন নেন। নরমাল সময়ে এ টিকিটের দাম আড়াই হাজার টাকা।
ইমদাদুল বলেন, ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি যাবো বলে রওনা দিয়েছি। কিন্তু সদরঘাটে পৌঁছে দেখি কেবিন সব বুক। তাই বাধ্য হয়ে লঞ্চের এক কর্মচারীকে ধরে সাড়ে চার হাজার টাকায় ছোট কেবিন নিয়েছি। হাবিব নামে লঞ্চের এক কর্মচারীর বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে বলেন, শেষ সময়ে উপচে পড়া ভিড়ে কেবিন তো দূরের কথা ডেকে বা ছাদেও দাাঁড়ানের জায়গা নেই। তবে ভিআইপিদের জন্য বরাদ্দ রাখা কেবিনের যাত্রীরা না আসলে কিছু বেশি নিয়ে সেটি দেয়া হচ্ছে। এতে কারও অভিযোগ নেই বলে জানান তিনি। যাত্রাবাড়ি থেকে মা-বোন নিয়ে সদরঘাটে এসেছেন ইসমালই হোসেন। দুপুর ১২টায় পৌঁছে বিভিন্ন স্থানে দৌড়াদৌড়ি করেও মেলেনি কেবিনের টিকিট। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বরগুনার কয়েকটি লঞ্চে কেবিনের চেষ্টা করেছি। ঈদের আগে সব কেবিন নাকি ভাড়া হয়ে গেছে। দুই-একটি লঞ্চে ছোট কেবিন পেলেও অনেক বেশি টাকা চায়। এদিকে, প্রতিটি লঞ্চের ডেকের ভিতরে, ছাদে ও অন্যান্য স্থানে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বিছানা চাদর, মাদুর বা গামছা-লুঙ্গি বিছিয়ে যেভাবে পরছেন জায়গা দখল করে বসে পড়েছেন। কেউ আবার লঞ্চের কোনো স্থানে একটু দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেই ঘাপটি মেরে থাকছেন। অনেকে আবার পরিবার নিয়ে লঞ্চে উঠে দাঁড়ানোর জায়গা না পেয়ে হতাশ হয়ে নেমে পড়ছেন।
পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে লঞ্চের ডেকে বসে ছিলেন খলিল ব্যাপারী। তার ছোট দুই সন্তান থাকায় আগেই এসে ডেকের মধ্যে চাদর বিছিয়ে জায়গা দখল করেছেন। পরিবার নিয়ে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ হওয়ায় অনেক আনন্দিত বলে জানান তিনি। বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সদরঘাটে পরিদর্শনে আসা নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, বাড়তি ভাড়া নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি অভিযোগ পাওয়া যায় তবে রুট পারমিট বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ জন্য কয়েকটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই তারা ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন, এবার ঈদ যাত্রায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের সার্বিক প্রস্তুতি ভালো। ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ যাতায়াত করতে পারছে। বাড়তি চাপ মোকাবেলায় এবার সরকারি ছয়টি স্টিমার আর দেড়শর বেশি বেসরকারি লঞ্চ চলাচল করছে। ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন সরকারি- বেসরকরি প্রায় ১৩০ লঞ্চ চলাচল করবে। গতকাল সোমবার গার্মেন্টস ছুটি হওয়ায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা ও হয়রানি বন্ধে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাতে কোনো লঞ্চ ছাড়তে না পারে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গাবতলী বাস টার্মিনাল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ জানালেন বাসযাত্রীরা কিন্তু নির্ধারিত ভাড়া নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা হয়নি। গতকাল সোমবার ২০ আগস্ট বিকেল ৪টায় রাজধানীর আন্তজেলা বাস টার্মিনাল ও গাবতলীর পশুর হাট পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারী ও ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জমান মিয়া। টার্মিনালে যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে যাত্রীরা বাস সংকটের কথা জানান। পাশাপাশি কাউন্টারে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগও করেন। বাড়তি টাকা ছাড়া টিকিট মিলছে না। একাধিক যাত্রীর কাছে এমন অভিযোগ শুনে সমাধানের আশ্বাসও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাস টার্মিনাল ও পশুর হাট পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, ঈদের সময় সবাই বাড়ি যায়। ঈদে ঘরমুখী মানুষ যাতে অস্বস্তিতে না পড়ে, তারা যেন সুন্দর মতো পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারে সে চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও টিকিটের স্বল্পতা রয়েছে। ‘টিকিট নেই বলা হলেও এখন টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। ভাড়াও নেয়া হচ্ছে বেশি’ এ নৈরাজ্যের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক কাউন্টারের সামনে ভাড়ার চার্ট টাঙানো হয়েছে। আমরা সবাইকে বলেছি- অভিযোগ পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে বাস মালিক সমিতির লোকজনও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। বেশি দামে টিকিট বিক্রির কথা শুনে তারা খুব অবাক হয়েছেন। এটা কাউন্টারের লোকজন ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও মালিকপক্ষকে বলা হয়েছে।
ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা ও পরিবহন নৈরাজ্যের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, লাখ লাখ মানুষ গাবতলীতে আসছে। বাস আসতেও সময় লাগছে। আশা করছি, সময়মত সবাই গন্তব্যে যেতে পারবে। রোজার ঈদে এ সমস্যা না থাকলেও কোরবানিতে হচ্ছে। একমুখী চলাচলের ব্যবস্থার পরও গরুর রাস্তা পারাপার ও গরুর গাড়ি চলাচলে একটু সমস্যা তো হচ্ছেই।
‘কুরবানির হাটে লাখ লাখ টাকার লেনদেন ও আনা নেয়া হচ্ছে। স্বাচ্ছন্দ্যে টাকা আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ কি ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার আলাদা আলাদা মিটিং করেছেন। মন্ত্রণালয়েও মিটিং হয়েছে। কোরবানির হাটকেন্দ্রিক স্বস্তির পরিবেশ তৈরিতে পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। গরুর ক্রেতা ও বিক্রেতারা যেন সমস্যায় না পড়েন- পুলিশ র্যা ব সে ব্যবস্থা নিয়েছে। যারা নগদ টাকা লেনদেন ও বহনে সমস্যা মনে করছেন তারা চাইলে পুলিশ সহযোগিতা করবে। জাল টাকা শনাক্তে মেশিন বসানো হয়েছে। সাদা ও পোষাকে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে। ব্যাংকে ও বুথে লেনদেনে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি, ধীরে ধীরে নিরাপত্তা বাহিনী আরও সক্ষমতা ও দৃঢ়তা অর্জন করতে পেরেছে।
অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে প্রায় ২৫ কি.মি. যানজট দেখা দিয়েছে। গতকাল রবিবার রাত আড়াইটা থেকে ৩টায় বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় দুটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। কিন্তু এতে করে মহাসড়কের দুর্ঘটনার গাড়িগুলো নিতে একটু দেরি হওয়ায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল সোমবার ভোর থেকে মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে পুংলী ব্রিজ পর্যন্ত এ যানজটের সৃষ্ট হয়েছে। এ কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো সাধারণ যাত্রী ও চালকরা। তবে মহাসড়কে যানজট নিরসনে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। গতকাল পর্যন্ত ঈদযাত্রায় স্বস্তিতে যাতায়ত করেছেন উত্তরবঙ্গসহ সংলগ্ন ২৩টি জেলার মানুষ। দেশের এই তিন রুটের মধ্যে এবার রেল পথেই ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। প্রচ- গরমে রেল স্টেশনে ঘরমুখো যাত্রীরা অবর্ণনীয় কষ্ট করছেন। পাশাপাশি শিডিউল বিপর্যয়ে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না অনেক যাত্রীর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ