ঢাকা, মঙ্গলবার 21 August 2018, ৬ ভাদ্র ১৪২৫, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পশুর হাটে ক্রেতার উপচে পড়া ভিড় রাজধানীতে জমজমাট গরুর বাজার

আসন্ন ঈদ-উল-আযহায় কুরবানি দেয়ার জন্য পছন্দের গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ছবিটি গতকাল সোমবার মেরুল বাড্ডা থেকে তোলা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : রাত পোহালেই কুরবানি। সে হিসেবে আজ (মঙ্গলবার) কুরবানির শেষ হাট। শেষ দিনে এসে কখনো কুরবানির পশু না পেয়ে দড়ি কিনেই বাড়ি ফিরতে হয় ক্রেতাদের, আবার কখনো পানির দামে প্রিয় পশুটি বিক্রি করে চোখের জলে ভাসেন ব্যাপারীরা। তাই এবার আর শেষ দিনের ‘ফাঁদে’ পা দিতে রাজি নন ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই। তবে সপ্তাহ ধরে পশুর দাম চড়া থাকলেও গতকাল গরুর দাম কমেছে। আর বিক্রিও বেড়েছে কয়েকগুণ।
 বৃষ্টি আর রোদ উপেক্ষা করে ঢাকার সবগুলো পশুর বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। পারত পক্ষে ক্রেতাদের ফেরত দিচ্ছে না বিক্রেতারাও। সব মিলিয়ে গতকাল ঢাকাসহ সারা দেশে পশুর হাট ছিল জমজমাট।
 সোমবার সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পশুর হাটেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। বাজারগুলো কুরবানির পশুতে কানায় কানায় ভরা। উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশ থেকে আসা প্রচুর গরু এখন ঢাকার অলিগলিতে। ট্রাক ভরে এখনও গরু ও ছাগল আসছে। অবশ্য গরুর সংখ্যাই বেশি।
গত কয়েকদিন ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে দর-কষাকষির চিত্র বেশি দেখা গেলেও আজ তা হচ্ছে না। নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পশু কেনাবেচার চেষ্টা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই। ক্রেতারা দেখে-শুনে পছন্দের গরুটির দরদাম করছেন। পছন্দ হলে মূল্য ও হাসিল পরিশোধ করে খুশিমনে পশু নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। যদিও রোববার বিকেল পর্যন্ত ক্রেতাদের অধিকাংশ সময় দরদাম করতেই দেখা গেছে, বিক্রেতারাও চেষ্টা করেছেন ক্রেতাদের একটু বাজিয়ে নিতে।
সোমবার সকাল থেকে পাল্টে যাওয়া হাটের চিত্র সম্পর্কে ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন- তারা শেষ দিনের ‘ফাঁদে’ পড়তে চান না। তাই আজকের অপেক্ষা না করে কুরবানির পশুটি কেনার বা বেচার ।
গতকাল থেকে গরু বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে। সকাল থেকে ক্রেতাও ছিল। বিকেলের দিকে বেচাবিক্রি কম হলেও সন্ধ্যার পর বাড়ে। তবে আজ সকাল থেকে বাজারে প্রচুর ক্রেতার সমাগম ঘটছে। বেচাবিক্রিও আগের কয়েক দিনের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। যেহেতু সময় বেশি বাকি নেই তাই আজ খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে। এবার কুরবানির আগে সনাতন ধর্মালম্বীদের মনসা পুজা থাকায় ছাগালের বাজার একটু আগে ভাগে জমেছে।
কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে আসা জাফর বলেন, আমাদের প্রত্যাশা মতো বিক্রি এখনও করতে পারিনি। শেষ বাজারের আগেই গরু গুলো ছেড়ে দেব। পশুর লালন-পালন খরচ বেড়েছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে। তাই দামও একটু বেশি। পোষানোর মতো দাম পেলেই হবে। আজ বিক্রি না করলে এ গরু দিয়ে কী করবো। বেশি অপেক্ষা করতে গেলে লোকশানে পড়তে হবে।
রাজধানীর হাটের মধ্যে সব চেয়ে বেশি গরুর উঠেছে,গাবতলীতে। এখানে বেচাকেনাও অন্য যে কোন হাটের চেয়ে অনেক বেশি। এখানে ছোট বড় সব ধরনের গরুই পাওয়া যাচ্ছে। এখানে গরুর দামও তুলনা মূলকভাবে কিছুটা কম। হাটের ইজারাদার লুৎফর রহমান দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, এ হাটে প্রায় চার লাখ পশু ঊঠেছে। সব পশুই বিক্রি হবে। শুরুর দিকে দাম একটু বেশি হাকলেও আজ (গতকাল) দাম অরেক কমেছে। এতে কওে বিক্রিও অনেক বেড়েছে। সারা রাত পশু বিক্রি হবে। ব্যাপক নিরাপত্তা রয়েছে। গরুর নিয়ে বাড়ি ফিরতে কোন অসুবিধা হবে না।
তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে,রাজধানীর আফতাব নগর হাটে। এখানে পশুর দাম সবচেয়ে বেশি বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। এখানে তুলনামূলকভাবে পশু বিক্রিও কম হচ্ছে। পুরান ঢাকার হাটগুলোতে শুরুতে দাম বেশি থাকলে গতকাল দাম ছিল নাগালের ভিতরেই। তবে ক্রেতাদেও অভিযোগ এখনও দাম অনেক বেশি।
পাবনা থেকে গরু নিয়ে আসা ওমর ফারুক দৈনিক সংগ্রামকে বলেন,স্যার ক্রেতারা বলছেন দাম নাকি বেশি। দাম চাইলেই কোন দাম না বলেই অনেকে চলে যান। ঢাকার মানুষতো আর জানে না একটি গরু লালন পালনে কত টাকা ব্যয় হয়। গো খাদ্যেও দাম কি পরিমান বেড়েছে। বেড়েছে পরিবহন ভাড়াও।
তিনি বলেন,সারা বছরই ধরে গরুর গোস্তের দাম থাকে ৫০০ টাকা। আর এখন ৩ মণ ওজনের একটি গরু বিক্রি হচ্ছে ৬০/৬৫ হাজার টাকায়। তাহলে দাম বেশি কোথায়। এখনও প্রতি কেজি গোস্তের দাম পড়ছে ৫০০ টাকা। তবে গরুর রং সুন্দর হলে দাম কিছুটা বেশি হয়ে থাকে।
ধূপখোলা মাঠে গরু কিনতে আসেন স্বপরিবাওে এডভোকেট শাহ আলম সরকার। তিনি দৈনিক সংগ্রামকে বলেন,গতকাল পর্যন্ত ছিল খুবই বেশি। তাতে মনে হয়েছিল এ বছর কুরবারি দিতে পারবো না। হয়তো ছাগল কুরবানি দিতে হবে। কিন্তু আজ (গতকাল) দাম দেখছি কিছুটা কম। কাল(আজ) হয়তো দাম আরেকটু কমবে।
তিনি আরও বলেন আমার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি,যে বছর শুরুতে গরুর দাম বেশি থাকে সে বছর শেষের দিকে গরুর দাম কমে যায়। এ বছরও মনে হচ্ছে এর ব্যতিক্রম হবে না। দাম অবশ্যই কমবে। কারন হিসেবে তিনি বলেন,দাম বেশি থাকলেই ভারত থেকে লাখ লাখ গরু প্রবেশ করে অবৈধ পথে। এতে করে দেশি গরুর চাহিদা কমে যায়। ফলে অতিদ্রুত দাম কমে যায়।
জানা গেছে,প্রকাশ্যে বাজার দেখা গেলেও এখন অদৃশ্য একটি বড় বাজারও রয়েছে রাজধানীতে। এসব বাজাওে কয়েক লাখ পশু বিক্রি হচ্ছে। আর এ বাজারের নাম হলো অনলাইন বাজার। এ বাজাওে ইতোমধ্যে কয়েক লাখ গরুর অর্ডাও হয়েছে। বিক্রিও হয়েছে বেশ ভালো।
অদৃশ্য বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার হলো বেঙ্গল মিটের। ২৫ শতাংশ টাকা মূল্য পরিশোধ করেই গরু ক্রয় করা যাচ্ছে। চাইলে গরুর বাসায় পৌছে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়,চাইলে তারা গরুর কেটে শুধু রান্নার উপযোগি কওে গোস্ত পৌছে দিচ্ছেন। এতে বাড়তি কোন জামেলা নেই। তাই এই মার্কেটে ক্রেতার পরিমান বাড়ছেই। বড় বড় কোম্পানিগুলো এ হাট থেকেই গরু ক্রয় করছে। তারা বলছেন এতে ঝামেলাও অনেক কম।
এদিকে চট্টগ্রামের সব কয়টি গরুর হাটই জমে উঠেছে। এখানেও একই চিত্র দেখা গেছে। তবে গরুর দাম বেশি বলছেন ক্রেতারা। গরুর হাটের পাশাপাশি জমে উঠেছে চট্টগ্রামে নগরের সবচেয়ে বড় দেওয়ানহাট ছাগলের বাজারও। কয়েকদিন আগ থেকেই চট্টগ্রামের আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, পটিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা ছাগল বাজারে উঠেছে। বাজারে দেশের পাশাপাশি ভারত থেকেও অনেক ছাগল আনা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বাজারে বিক্রি বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। তারা জানান, দাম নাগালের মধ্যে থাকায় কুরবানির পশু হিসেবে ছাগলকে বেছে নিচ্ছেন অনেকে।
বাজারের ইজারাদার মো. আশরাফ উদ্দিন শাহীন বলেন, ‘এবার কুরবানির আগে সনাতন ধর্মালম্বীদের মনসা পূজা থাকায় ছাগালের বাজার একটু আগে ভাগে জমেছে। এখন কুরবানির জন্য ছাগল বিক্রি হচ্ছে। যারা ছাগল কেনেন তারা আগে ভাগে পশু কিনতে চান না। তাই এই শেষ মুহূর্তে বিক্রি বেড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ