ঢাকা, মঙ্গলবার 21 August 2018, ৬ ভাদ্র ১৪২৫, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

“কুরবানী হোক সকল পশুত্বের ঠিকানা হোক আল্লাহ, একমাত্র দাসত্বের”

শায়লা তাইয়্যেবা : “শেষ পর্যন্ত যখন দু’জনই অনুগত হয়ে মাথা নত করে দিলেন, এবং ইব্রাহীম তার ছেলেকে উপুর করে শুইয়ে দিলেন, তখন আমি আওয়াজ দিলাম- হে ইব্রাহীম আপনি স্বপ্ন কে সত্য করে দেখিয়ে দিয়েছেন।
আমি নেক লোকদেরকে এ ভাবেই পুরস্কার দিয়ে থাকি।
নিশ্চয় এটা একটা স্পষ্ট পরিক্ষা ছিলো।” (সূরা সাফফাত-১০৩-১০৬)
কুরবানীর ইতিহাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় এর প্রকৃত অর্থ মূলত আল্লাহ তায়ালা এটাই চান, তার বান্দারা তার জন্যই জান ও মাল সব কুরবান করতে যেন প্রস্তুত থাকেন। আর যাকে যত বেশি ভালোবাসেন অর্থাৎ যে যত বেশি ঈমানদার, তার কুরবানীটা হয় ততটা উচ্চ মাপের। যেমনটা হয়েছিলো হযরত ইব্রাহীম (আ:)-এর সাথে।
আর কুরবানীর মূল উদ্দশ্য হলো-
১. এটা স্বীকার করে নেওয়া আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র মুনিব, ইবাদত পাওয়ার একমাত্র অধিকার তারই। তারই বিধান মানা ছাড়া অন্য বিধান মানা যাবে না, আর তার বিধানকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে কোন ত্যাগ, কুরবানীর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
২. পশুর সাথে সাথে নিজের ভিতরের পশুত্বকেও কুরবানী করা, অর্থাৎ, আমাদের মধ্যে আল্লাহর অপছন্দনীয় যে সকল অসৎ গুণাবলী, অসৎ চিন্তা-আচরণ, কাজ কর্ম আছে তা শুধু মাত্র আল্লাহর জন্য বর্জন করা।
“(কুরবানীর পশুদের) গোশত আল্লাহর কাছে পৌছে না, তাদের রক্ত পৌছে না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়াই শুধু পৌছে।” (সূরা হজ্জ-৩৭)
তাই আমাদের সমাজে যে ভাবে লোক দেখানোর জন্য প্রতিযোগিতা করে কুরবানী দেওয়ার মহড়া চলে তা সত্যিই ইসলাম পরিপন্থী ও আল্লাহর নিকট অগ্রহণযোগ্য।
এ জন্য আসুন,আমরা নিজেদের নিয়তকে পরিশুদ্ধ করে শুধু মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য পশু কুরবানী করি।
এর সাথে সাথে নিজেদের মাঝে যে পশুত্ব আছে সেটিকেও কুরবানী করে কুরবানীর মূল শিক্ষা অর্জন করি।
আর শপথ নেই আমাদের সব কিছু হবে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য,অন্য কোন/কারো জন্য নয়।
কারণ আল্লাহ তায়ালা প্রকৃত মুমিনের পরিচয় সম্পর্কে বলছেন- “নিশ্চয় আমার নামাজ,আমার যাবতীয় কুরবানী, আমার জীবন ও মৃত্যু একমাত্র বিশ্ব জাহানের রব মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের জন্য।” আনআম-১৬২)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ