ঢাকা, মঙ্গলবার 21 August 2018, ৬ ভাদ্র ১৪২৫, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

“ত্রুটিপূর্ণ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও তার প্রতিফল”

শারমিলি তাসনিম শামসি : সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তা -ভাবনা করে, গবেষণা করে। অজানা সম্পর্কে জানতে চাওয়ার, শিক্ষা অর্জনের আকাক্সক্ষা মানুষের চিরন্তন। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, বিভিন্নদিক পেশার মানুষ তৈরীর জন্য শিক্ষা দেয়া হয়। কিন্তু তারা কি সত্যিই মানুষ হচ্ছে?
মানুষ ভালো মন্দ উভয় গুণেই সৃষ্ট। কিন্তু ভালো গুণের প্রকাশ ঘটলেই তাকে মানুষ বলা হয়, আর খারাপ গুণের প্রকাশ ঘটলে তাকে পশুর সাথে তুলনা করা হয়। মানুষকে মানুষে পরিণত করার জন্য যে শিক্ষা দেয়া দরকার সমাজের দায়িত্বশীল লোকেরা হয়তো তা ভুলে গেছে। মানুষকে পশুর বংশধর প্রমাণ করার অপচেষ্টা চলছে সর্বত্র। স্যাটেলাইট ব্যবহার করে প্রত্যেকের ঘরে সংস্কৃতির নামে  অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। মানুষকে পশুর মত লজ্জাহীন, আবরণ মুক্ত হওয়ার শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।
 শয়তান আদম হাওয়াকে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেতে  প্ররোচিত করেছিল। ফলে তারা বিবস্ত্র হয়ে যায়। অর্থ্যাৎ মানুষের লজ্জার উপরে শয়তান প্রথম আঘাত হেনেছিলো। তাইতো লজ্জাকে ঈমানের অর্ধাংশ বলা হয়েছে। কারণ লজ্জাশীল মানুষ কখনো খারাপ কাজ করতে পারেনা। কিন্তু অশ্লীল সংস্কৃতির কারণে মানুষ দিন দিন পশু হয়ে যাচ্ছে। পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, স্নেহের জায়গা  দখল করে নিয়েছে অশ্রদ্ধা, হিংসা খুনোখুনি। বেড়ে গেছে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি। সব মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঠকবাজ মানুষকে স্মার্ট হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
যারা মানুষকে মানুষ হতে ডাকছে, কুরআনের শিক্ষা দিচ্ছে, সৎ, ত্যাগী, সেবাপরায়ণ হতে বলছে তাদের উপর নেমে আসছে মিথ্যা অপবাদ, জেল, জুলুম। সমাজে চলছে পশুর রাজত্ব। এখানে মানুষ হতে চাওয়াও দন্ডনীয় অপরাধ। দক্ষ মানুষ নয় দক্ষ পশু হওয়ার শিক্ষাই যেন পাচ্ছি আমরা।
 মানুষ হওয়ার জন্য  তার মধ্যে অবশ্যই আল্লার ভয় থাকতে হবে। কারণ যেখানে আইনের চোখ যায়না সেখানেও মানুষ আল্লার ভয়ে অপরাধ থেকে ফিরে থাকে। আফসোস! মানুষ  ধর্মীয় শিক্ষাকে দুনিয়াবী শিক্ষা থেকে আলাদা করেছে। কেউ ভাবছে স্মার্ট হতে গেলে ধর্মকে বাদ দিতে হবে। ব্যবসায়ীরা অশ্লীলতার ব্যবসা করে বিলিয়নিয়ার হচ্ছে আর আমরা অশ্লীলতা কিনে নিজেদের জীবনকে নরক বানাচ্ছি। আবার অনেক ধার্মীক লোক দুনিয়াবী শিক্ষা অর্জনকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ফলে অসৎ লোকেরা সমাজ পরিচালনা করছে। অথচ আল্লাহ তার সৃষ্টি নিয়েও কুরআনে গবেষণা করতে বলেছেন। অনেক মুসলিম বিজ্ঞানী ইবাদত হিসাবে গবেষণা করত। ইবনে সিনা ছিলেন হাফেজ এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক।
ভালো মানুষ হওয়ার জন্য দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়কালের জ্ঞান অর্জন  জরুরি, এটি মানুষ যত তাড়াতাড়ি বুঝবে, তত তাড়াতাড়ি  এই পচে গলে যাওয়া সমাজের ক্ষত সমাজ তলিয়ে যাবে অন্ধকারের অতল গহ্বরে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ