ঢাকা, মঙ্গলবার 21 August 2018, ৬ ভাদ্র ১৪২৫, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

টাকা তুলতে ব্যাংকে গ্রাহকের দীর্ঘ লাইন

স্টাফ রিপোর্টার: কাল ২২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদের আগে গতকাল (সোমবার) ছিল শেষ কার্যদিবস। তাই ঈদের খরচ ও  কোরবানির পশু কেনার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে ব্যাংকে ভিড় করেছিলেন অনেক গ্রাহক। ফলে অনেক শাখায় দেখা গেছে গ্রাহকের দীর্ঘ লাইন। ব্যস্ত সময় পার করেছেন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, পল্টন, দৈনিক বাংলাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাংকের শাখাগুলোতে দেখা গেছে এমন চিত্র।
ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার থেকে ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেছে। এবার সপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এ কারণে অনেক গ্রাহকই তাদের প্রয়োজনীয় লেনদেন সারতে এসেছিলেন। এর মধ্যে অনেকেই এসেছিলেন নতুন টাকা নিতে। তবে শুধু টাকা তোলার জন্য নয়, জমা দেয়ার জন্যও এসেছিলেন অনেক গ্রাহক।
মতিঝিল সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ঈদের আগে আজ শেষ কার্যদিবস। তাই অন্যান্য দিনের তুলনায় তিন-চার গুণ বেশি লেনদেন হয়েছে। সকাল থেকে গ্রাহকের ভিড় ছিল। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের সেবা দিতে হিমশিম খেয়েছেন।
তিনি বলেন, এবারও নগদ টাকার সমস্যা নেই। তাই লেনদেনেও কোনো সমস্যা হয়নি। গ্রাহকের চাহিদা মতো পরিশোধ করা হয়েছে। সাধারণ লেনদেনের পাশাপাশি গ্রাহকদের নতুন টাকা বিনিময় করা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল(আজ) যেহেতু শেষ কার্যদিবস তাই গ্রাহক যতক্ষণ পর্যন্ত থাকবে ততক্ষণ লেনদেন হবে।
ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের মান্ডা শাখায় গ্রাহকের লাইন রাস্তায় এসে ঠেকে। বেশিরভাগই এসেছিলেন টাকা তুলতে ও জমা দিতে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিল পরিশোধ করতেও এসেছিলেন অনেকে।
লাইনে দাঁড়ানো আবির হোসেন বলেন, ঈদের আগে ব্যাংকে আর লেনদেন করা যাবে না। কোরবানির গরু কিনতে হবে, তাই টাকা তুলতে এসেছি। এক ঘণ্টা হয়েছে এসেছি। আরও কতক্ষণ লাগবে জানি না।
এই শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, সকাল থেকেই গ্রাহকের ভিড় ছিল। দম ফেলার কোনো সময় পাইনি। টাকা জমা দেয়ার চেয়ে উত্তোলনের পরিমাণ বেশি ছিল বলে জানান তিনি। ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও কোরবানির পশু কেনাসহ নানা কারণে ব্যাংকে নগদ টাকার চাপ সামলাতে ব্যাংকগুলোকে যেতে হয়েছে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে (কলমানি মার্কেট)। তবে পরিমাণের দিক থেকে কলমানির চাহিদা বাড়লেও সুদহার বাড়েনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ৮ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত কলমানি মার্কেটে প্রতিদিনই লেনদেন বেড়েছে। এ সময়ে কলমানি মার্কেটে ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণ হিসাবে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৫ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক টু ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদহার ছিল সাড়ে ৪ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ব্যাংক টু ব্যাংকের গড় কলমানির গড় সুদহার ছিল ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় সুদহার ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, কোরবানির পশু কেনাসহ বাড়তি কেনাকাটায় নগট টাকা তুলতে ব্যাংকগুলোতে ভিড় ছিল। ঈদের সময় লেনদেন বেড়ে যায়। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সঙ্কট নেই।
লেনদেন বাড়লেও কলমানি মার্কেটে সুদহার স্থিতিশীল রয়েছে উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, নগদ টাকার সরবারহ পর্যাপ্ত রয়েছে। আশা করছি নগদ টাকা লেনদেনে কোনো সমস্যা হবে না।
এ ছাড়াও ঈদের ছুটিতে গ্রাহকদের লেনদেনের সুবিধার্থে সব ব্যাংকের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি এটিএম ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) নেটওয়ার্ক সার্বক্ষণিক সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ