ঢাকা, মঙ্গলবার 21 August 2018, ৬ ভাদ্র ১৪২৫, ৯ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পুলিশ ওয়ারেন্টের আসামী ধরতে যাওয়ার জের ধরে প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলা

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা: পাঁচবিবিতে কেশবপুরে পুলিশ ওয়ারেন্টের আসামী ধরতে যাওয়ার জের ধরে প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলা, লুটপাট নির্মমভাবে মারপিট করে ফেলে যায়। স্থানীয়রা মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। সংবাদ পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা কেশবপুর গ্রামের তহির উদ্দিনের পুত্র ইলিয়াস আলী ও তার আত্মীয়স্বজন জানান, পাঁচবিবি থানার এসআই রেজাউল ও এএসআই দেলোয়ার হোসেন সঙ্গীয় পুুলিশ সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কেশবপুর গ্রামের ওয়ারেন্টের আসামী মৃত মজিবর রহমান (মজির) এর পুত্র মিজানুর রহমান (৩৫) কে ধরার জন্য তার বাড়ি ঘেরাও করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিজানুর রহমান বাড়ির দেওয়াল টপকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এসময়  সে সামান্য আহত হয়। পুলিশ এ অবস্থায় তাকে ধরে ফেলে। পরে আদালত থেকে জামিনের থাকার কাগজ দেখিয়ে পুলিশের নিকট থেকে ছাড়া পায়। ঘটনার ১ ঘন্টা পরেই মিজানুর তার ভাই আমিনুর (২৮), শফিকুল (২৬) চাচাতো ভাই আরাফাত (৩০), মৃত আছির উদ্দিনের পুত্র শফিকুল ইসলাম মিন্টু (৩৬), মিজানুরের মা মিছিলা বেওয়া ও স্ত্রী তাছলিমা (২৪) সহ একটি সংঘবদ্ধ দল প্রতিবেশী ইলিয়াসের বাড়ি ঘেরাও করে উচ্চস্বরে গালিগালাজ করে বলতে থাকে “তুই পুলিশকে আমাদের বাড়ি দেখে দিয়েছিস তোকে মেরেই ফেলব, মেরে ফেলে কত টাকা খরচ করতে হয় তা করব”। এ সময় ইলিয়াস থানা পুলিশকে মোবাইল ফোনে পরিস্থিতী জানাতে থাকলে তারা মিজানুরের দল পিছু হটে যায়। শুক্রবার সকালে ইলিয়াস বাড়িতে একা আছে বুঝতে পেরে মিজানুর তার দলবল নিয়ে ইলিয়াসের বাড়ির দরজা, জানালা ভেঙ্গে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে ইলিয়াসকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে এসে নির্মম ভাবে মারপিট করতে থাকে। তাদের মারপিটে ইলিয়াসের সারা শরীর থেতলে যায়, রক্তাক্ত জখম হয় এবং মারাত্মক ভাবে মাথা ফেটে যায়। এ সময় ইলিয়াসের আত্ম চিৎকারে প্রতিবেশী ভাই আসলাম ও গ্রামবাসীরা এগিয়ে আসতে থাকলে মিজানুর বাহিনীরা পালিয়ে যায়। পরে আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসী ইলিয়াসকে মুমূর্ষ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দিয়েছে। ইলিয়াসের সংবাদ নিতে সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা মিজানুর ও তার ভাই শফিকুল সাংবাদিকদের নিকট ইলিয়াসকে মারপিট করার অভিযোগ স্বীকার করে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে। ঘটনার বিষয়ে এএসআই দেলোয়ারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন ঘটনা আমরা জানি, রক্তাক্ত অবস্থায় মিজানুরকে দেখেছি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইলিয়াসের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অনুসন্ধানে জানা যায় মাদক মামলার আসামী ও ব্যবসায়ী মিজানুর তাদের সাথে ইলিয়াসের জমি জমার বিরোধ রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ