ঢাকা,বুধবার 14 November 2018, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

‘শিয়া ও সুন্নি মাজহাবের মধ্যে বৈবাহিক ও সামাজিক সম্পর্ক গড়তে হবে’

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের শেকড় সন্ধানী কবি ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার শিয়া-সুন্নি বিভেদ ভুলে এবং ইরান-তুরান এক হয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। রাজধানীর মিরপুরে লালকুঠি দরবার শরীফ মিলনায়তনে নিয়মিত সাহিত্য সভায় তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।

লালকুঠি দরবার শরীফের পীর সাহেব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহ সূফি হযরত মাওলানা অধ্যাপক আহসানুল হাদীর সাম্প্রতিক ইরান সফরসহ ইতোপূর্বে যারা ইরান ভ্রমণ করেছেন তাদের স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা হয় ওই সাহিত্য সভায়।

ইরান সফরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, “আমাকে ইরানে শিয়া-সুন্নি বিষয়ে প্রশ্ন করলে বলেছিলাম ‘আমি মুসলমান’। আমি শিয়া-সুন্নি ঐক্যের বিষয়ে ইমাম খোমেনী (র)-এর সেই বাণী উল্লেখ করে বলেছিলাম, ‘যারা শিয়া ও সুন্নিদের মাঝে বিরোধ তৈরি করে তারা শিয়াও নয় সুন্নিও নয়, তারা সাম্রাজ্যবাদীদের দালাল।’ আমি বলেছিলাম যেকোনো মূল্যে এ বিভেদ দূর করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আহলে বাইতকে শিয়া-সুন্নি উভয়েই মহব্বত করে। কেবলমাত্র কারবালার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ গ্রুপটি ছাড়া। শিয়া-সুন্নি উভয় মাজহাবের মানুষ মিলেই মোঘলরা ভারতবর্ষ শাসন করেছে। শিয়া-সুন্নিদের মধ্যে আগে বৈবাহিক ও সামাজিক সম্পর্কও ছিল। সে সম্পর্ক আবার গড়ে তুলতে হবে।”

অধ্যাপক আহসানুল হাদী

সাংবাদিক নেতা আবদুল হাই শিকদার আরো বলেন, “শিয়া-সুন্নি ঐক্য বিনষ্টের জন্য সাম্রাজ্যবাদীরা নানা কুট-কৌশল হাতে নিয়েছে। তারা পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে বোমা হামলা করে পাকিস্তান ও ইরানের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চায়। আবার তুরস্কের সঙ্গে ইরানের বিরোধ তৈরি করার জন্য রাজনৈতিক চাল চালতে থাকে।”

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক আহসানুল হাদী তাঁর সাম্প্রতিক সফরসহ চারবারের ইরান সফরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিস্তারে এবং ধর্মীয় আধ্যাত্মিক জ্ঞান বিস্তারে ইরানের ইসলামী সরকারের ভূমিকা খুবই প্রশংসনীয়। ইরান যে আসলেই একটি আধ্যাত্মিক চেতনায় পরিপূর্ণ দেশ সেটি প্রমাণ হবে আপনি যদি ইরানে গিয়ে স্বচক্ষে অবলোকন করেন। তবে সে চোখ আপনার থাকতে হবে। সেদেশের আলেম উলামারা শুধু মসজিদের সাধারণ মোল্লাই নন, তারা আসলেই পূর্ণ যোগ্যতাসম্পন্ন লোক। আমি যতবার ইরানে গিয়েছি ততবারই পূর্ণতা প্রাপ্তি ঘটেছে আমার অন্তরের। আমি সমৃদ্ধ হয়েছি। আসলে আমার উচিত ছিল কোমে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করার। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি মাঝে মাঝেই আমি ইরানে গিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করে আসব।”

 

ইতিহাসবিদ আশরাফুল ইসলাম

তিনি আরও বলেন, “ইরানের ইসলামী বিপ্লব না হলে তাদের জাতীয় চেতনা ও ধর্মীয় আধ্যাত্মবোধকে বিশ্বময় সম্প্রসারণ করা কিছুতেই সম্ভব হতো না। কিন্তু কিছু মানুষকে লক্ষ্যভ্রষ্ট ও ধৈর্যচ্যুত করার জন্য বাইরে থেকে আমেরিকা ও ইসরাইলের অনুচররা চেষ্টা করে যাচ্ছে। অবরোধের পর অবরোধের ফলে জাগতিকভাবে ইরান একটু সমস্যায় পড়েছে এতে সন্দেহ নেই। সেকারণে বদর ওহুদ, খন্দক ও কারবালার চেতনায় জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে ও সেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মনোবল বৃদ্ধি করতে হবে। কুয়েত, সৌদি আরব ও ভোগবাদী আরব দেশগুলোর মতো তেল সম্পদ বিক্রি আর ভোগ বিলাসে জীবন পার করে দেয়ার নাম জীবন নয়। এই তেল সম্পদ ফুরিয়ে যাবে। কিন্তু জ্ঞানের শক্তি টিকে থাকবে। টিকে থাকবে ঈমানের শক্তি। এই জ্ঞান শক্তির বিকাশ ঘটিয়ে ইরানি জাতি আজ পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন জাতি হয়েছে। স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ ইরান অনেক আগেই এবং অনেকবার উড়িয়েছে নিজের উদ্যোগে এবং নিজস্ব প্রযুক্তির সহায়তায়। প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর অসহযোগিতা আর পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্র না থাকলে ইরানকে কেউ রুখতে পারত না। এখনো পারবে না ইনশাল্লাহ। ইরান অনেক অনেক দূর এগিয়ে গেছে শিক্ষা-দীক্ষায় ও বিজ্ঞান চর্চায়।”

কবি আমিন আল আসাদ

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাসবিদ আশরাফুল ইসলাম ও চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক কবি মুহিবুর রহিম। আলোচনায় অংশ নেন নজরুল ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লেখক গবেষক এমদাদুল হক চৌধুরী, ক্বারী আলমগীর হোসেন মোল্লাহ, রেডিও তেহরানের সাবেক সংবাদ পাঠক ও কবি শাহনেওয়াজ তাবীব।

আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি আমিন আল আসাদ। পবিত্র কালামেপাক থেকে তেলাওয়াত করেন শিল্পী ক্বারী হাবিবুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন নজরুল ফররুখ গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লেখক গবেষক এমদাদুল হক চৌধুরী, ক্বারী আলমগীর হোসেন মোল্লা, রেডিও তেহরানের সাবেক সংবাদ পাঠক মর্সিয়া লেখক শাহনেওয়াজ তাবীব। 

কবিতা পাঠে অংশ নেন কবি মুহিবুর রহিম, কবি তাজ ইসলাম, কবি ক্বারী ওবায়দুল্লাহ, কবি আমিন আল আসাদ,  কবি রহমান মাজিদ, কবি নাসিমা আক্তার নিঝুম, কবি আলমগীর হোসেন জোয়ারদার, কবি হুমায়ূন কবির, কবি জয়নাল আবেদিন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ