ঢাকা, বুধবার 26 September 2018, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শিম্পাঞ্জির রাজনীতি: শিখতে পারে মানুষও

শিম্পাঞ্জিদের আচরণ থেকে আধুনিক রাজনীতিকরা অনেক কিছু শিখতে পারে

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

আমাদের রাজনৈতিক জীবনের সাথে বানর প্রজাতির যে সব প্রাণী রয়েছে তাদের রাজনৈতিক জীবনের অবিশ্বাস্য মিল রয়েছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির অধ্যাপক জেমস টিলে তার গবেষণায় দেখেছেন শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা যায়, তা থেকে মানুষ অনেক কিছু শিখতে পারে।

১. বন্ধুদের কাছে রাখো, কিন্তু শত্রুকে রাখো আরো কাছে

বিশ্বাস হচ্ছে না আমি আর তুমি একসাথে রাজনীতি করছি!

শিম্পাঞ্জিদের রাজনীতিতে হরদম দলবদল চলতে থাকে।

ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছুতে তারা বন্ধুকে বাদ দিয়ে শত্রুর সাথে মিত্রতা করে। তবে অধিকাংশ সময় শুধুমাত্র নিজের সুবিধার জন্য তারা শত্রুর সাথে সমঝোতা করে।

২. জোট গঠনের জন্য তোমার চেয়ে দুর্বল কাউকে বাছো

শক্তিতে সমান সমান হলে, ভাগাভাগিও হয় সমান সমান

শিম্পাঞ্জিরা জেতার জন্য কোয়ালিশন তৈরি করে, কিন্তু সেই জোটে একজন দুর্বল শিম্পাঞ্জি তার চেয়ে শক্তিধর কাউকে নেয় না।

যেটা বরঞ্চ দেখা যায় - দুটি দুর্বল শিম্পাঞ্জি এক হয়ে তাদের চেয়ে শক্তিধর কারো পেছনে লাগছে।

কারণটা খুব সহজ - আমি যদি আমার চেয়ে দুর্বলতর কারো সাথে জোট করি এবং সেই জোট গঠনের যে প্রাপ্তি, তার ভাগাভাগিতে আমার অংশে বেশিটা আসবে। জোটের সদস্য আমার চেয়ে শক্তিধর হলে আমার ভাগে কম আসবে।

৩. ভীতিকর ইমেজ ভালো, কিন্তু আরো ভালো প্রিয়পাত্র হওয়া

প্রিয়পাত্র হতে পারলে, রাজনীতিতে সুবিধা হয়

শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে দল নেতারা শক্তি, নিষ্ঠুরতা দেখিয়ে শাসন করে, কিন্তু এসব নেতা বেশিদিন টেকে না।

সেই দলনেতারাই সফল হয়, তারাই বেশিদিন টেকে, যারা দলের ভেতর সমর্থক তৈরির চেষ্টা করে, সমর্থকদের নিয়ে দলের মধ্যে নিজের একটি জোট তৈরির চেষ্টা করে। শিম্পাঞ্জি দল নেতারা জানে, বেশিদিন প্রাধান্য টিকিয়ে রাখতে শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি তাকে নমনীয় এবং সহিষ্ণু হতে হবে।

৪. প্রিয়পাত্র হওয়া ভালো, কিন্তু উপহার উৎকোচও দিতে হবে

শুধু তোমার জন্য বন্ধু

শিম্পাঞ্জিদের মধ্যে যে দলনেতারা অনেকদিন নেতৃত্ব বজায় রাখে তাদেরকে সমর্থন কিনতে হয়। শিকারের খাবার নিয়ে এসে দলের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করতে হয়।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ বছর নেতৃত্ব করেছিল এমন এক দলনেতা শিকার করে এনে সেই মাংস দলের অন্যদের ভাগ দিতো।

৫. বাইরের হুমকি নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে

বহিঃশত্রু, বাইরের হুমকি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখে

বানর প্রজাতির মধ্যে দেখা যায়, বাইরে থেকে যখন হুমকি আসে তখন দলের মধ্যে বিভেদ রেষারেষি ভুলে তারা একতাবদ্ধ হয়ে ওঠে।

তবে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বহিঃশত্রুর কৃত্রিম হুমকি মানুষের সমাজে তেমন কাজ করে না - এমন দৃষ্টান্ত বহু রয়েছে। মানুষ শত্রুতা ভুলে তখনই ঐক্যবদ্ধ হয়, যখন সে সত্যিকারের হুমকি দেখে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ