ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানকে বন্ধু ভাবতে হবে ॥ ভৃত্য নয়

২৪ আগস্ট, ডন : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, তার দেশ মার্কিন নীতি মেনে চলতে বাধ্য নয় এবং ওয়াশিংটনের উচিত ইসলামাবাদকে বন্ধু মনে করা ভৃত্য নয়। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে ইসলামাবাদে আমেরিকার ব্যাপারে তার সরকারের নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আফগানিস্তান থেকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে পাকিস্তানের সহযোগিতার মুখাপেক্ষী আমেরিকা। এ অবস্থায় পাকিস্তানকে নিজের ভৃত্য মনে করলে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের সহযোগিতা পাবে না।

সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কথা উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তানের প্রায় আট হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হলেও আমেরিকা ইসলামাবাদকে মাত্র দুই হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও টেলিফোন করে ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পর পাক প্রধানমন্ত্রী এ বক্তব্য দিলেন। টেলিফোনালাপে ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন পম্পেও।

মার্কিন সরকার সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনা সদস্যদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ইসলামাবাদের প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যেও কাজ করছে ওয়াশিংটন।

ফোনালাপের বিবৃতি নিয়ে শোরগোল

অদ্ভুত এক গোলযোগের মধ্যে পড়েছে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্ক। গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর ফোনালাপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিবৃতিতে ভুল রয়েছে বলে সেটি শুধরে নেয়ার দাবি জানায় পাকিস্তান।

পাকিস্তানের একটি পত্রিকা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে পম্পেও পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে তার দেশের সব সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত ব্যবস্থা’ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র হিদার নাউয়ার্ট এক বিবৃতিতে বলেন, পম্পেও ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলার সময় পাকিস্তানের ভেতরে সক্রিয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত পদক্ষেপ’ নেয়া ও আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন পম্পেও।

কিন্তু পাকিস্তানের পররাষ্ট্র বিভাগ বলছে, পম্পেও ইমরান খানকে অভিনন্দন জানান এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আগ্রহের বিষয়ে কথা বলেন। কিন্তু ‘পাকিস্তানের ভেতরে সক্রিয় সন্ত্রাসীদের’ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র কার্যালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ ফাইসাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং সেক্রেটারি পম্পেওর মধ্যেকার ফোনালাপের বিষয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দেয়া ভুল তথ্য সম্বলিত বিবৃতির প্রতিবাদ জানাচ্ছে পাকিস্তান।’

‘পাকিস্তানে সক্রিয় সন্ত্রাসীদের কোনো উল্লেখই ছিল না তাদের কথোপকথনে। এটা এখনই শুধরানো উচিত’ বলেন ফাইসাল।

নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরানের সঙ্গে বৈঠকের জন্য পম্পেও সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পাকিস্তান সফরে আসবেন বলে জানায় পাকিস্তানের গণমাধ্যম। ৫ সেপ্টেম্বর পম্পেও পাকিস্তানে গেলে ইমরানের দেখা করা প্রথম বিদেশী প্রতিনিধি হবেন তিনি।

কেরালার বন্যার্তদের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইমরান

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে দুর্গতদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিবেশী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বৃহস্পতিবার এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, বন্যাদুর্গতদের মানবিক সাহায্য করতে আমরা প্রস্তুত। তিনি বন্যার্ত মানুষের জন্য প্রার্থনা ও কল্যাণ কামনা করেন। বন্যাকবলিত ১৩ লাখ মানুষ বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ৪২০ জন নিহত, নিখোঁজ রয়েছেন আরও বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাঠানো ১০ কোটি ডলারের অর্থসহায়তা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত, যা নিয়ে দেশটির সরকারকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, বিদেশীদের কাছ থেকে সাহায্য নেয়ার ক্ষেত্রে নিয়মের কোনো বাধা থাকলে তা সরিয়ে নেয়া উচিত। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে হতাশাজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন তারা।

এ বন্যায় এখন পর্যন্ত অর্ধলাখের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। অসংখ্য সড়ক ও সেতু নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভেসে যায় লাখ লাখ একর জমির ফসল। বৃষ্টির তোড় কমে এলে উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি শুরু হয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া।চলতি মাসের ৮ তারিখ থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির প্রভাবে কেরালা ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার শিকার হয়। প্রবল বৃষ্টিপাতে উপচেপড়া জলাধারের ফটক খুলে দেয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির মোকাবেলায় কেরালার সরকার কেন্দ্রের কাছ থেকে অন্তত দুই হাজার কোটি রুপি জরুরি সাহায্য চাইলেও মেলে মাত্র ৬০০ কোটি রুপির প্রতিশ্রুতি। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ