ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ধর্মীয় শিক্ষাই পারে থামাতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড

আজহার মাহমুদ:নারী অধিকার নিয়ে সর্বত্র আলোচনা, সমালোচনা, বক্তৃতা চলছেই। তারপও বেড়ে চলছে ধর্ষণের সংখ্যা। কিন্তু কেন? মুহূর্তে একটি মেয়ের সুন্দর জীবনটা ধ্বংস। একজন ধর্ষকের সামান্য সময়ে কর্মকা-ের জন্য একজন মেয়ের জীবনে নেমে আসে অপরিসীম দুর্যোগ। অনেকেই আত্মহত্যার শরণাপন্ন হয়, কেউ আবার ধর্ষকের হাতেই খুন হন। ধর্ষিতা এবং তার পরিবারে নেমে আসে অভিশাপের কালো হাত। ওদিকে ধর্ষণকারী এক মহান কাজ শেষ করে হেঁটে বেড়ান সমাজের নাকের ডগা দিয়ে। বিচার চাইতে গেলে ধর্ষককে কিছু না বলে উল্টা মেয়ের ঘাড়েই দোষ চাপান। অভিযোগ, মেয়ে পর্দা করে না, মেয়ের চলা ভালো না, মেয়ে উগ্র স্বভাবের, মেয়ে যার তার সঙ্গে কথা বলে ইত্যাদি আরো কত কথা। যা শুনে একজন মানবিক সভ্য মানুষ কিছুতেই নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারবে না। অথচ আমরা দিব্যি আছি! কিছুদিন এটা নিয়ে আলোচনা চলে। তারপর একটা সময় সবকিছুই আগের মতো। থানাতেও আস্তে আস্তে সেই ফাইলটা নিচে পড়ে ধুলো জমে যায়। ব্যাস শেষ, বেকসুর খালাস। বিচার আর হয় না। এভাবেই ধর্ষণ দেশের মাটিতে শেকড় গেড়ে বসে। ধর্ষক পেয়ে যায় পশ্রয়। দেশ হয়ে যায় ধর্ষণের অভয়ারণ্য। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? আর কত মেয়েরা এভাবে নিজকে বলি দেবে? আর কতকাল এসব নরপশু ধর্ষণ করার পরও সমাজে বুক ফুলিয়ে হেঁটে বেড়াবে? কোনো উত্তর আছে আপনার কাছে? জানি থাকবে না। উত্তর দিতে পারলে তো তনু হত্যার পরেও দিতে পারতেন। এখনও তো সেই ধর্ষণের বিচারও হয়নি। চলে যাচ্ছে তো সব কিছু আগের মতো। থেমে আছে শুধু সেইসব ধর্ষিত নারীর জীবন। সমাজের সবস্থানেই লাঞ্ছনা আর অপমানের শিকার এ সকল নারী। এই জন্য আমি পোশাকের কোনো দোষ দিবোনা। ধর্ষকদের সামনে আপনি বোরকা পরে গেলেও ধর্ষণ করবে। তাই বলে এই নয় যে আমি বোরকা খুলে রাস্তায় হাঁটতে বলছি। যার যার রুচি অনুযায়ী সে পোশাক পরবে, এখানে আমার আপনার হস্তেক্ষেপ করার কনো অধিকার নেই। এজন্য প্রয়েজন সঠিক মানসিকতা এবং পারিবারিক শিক্ষা। সেই সাথে ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মকে বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা করলে এই পথে কোনো পুরুষ কখনোই যেতে পারে না। তবে এর মানে এই নয় যে ধর্ষণের মূল কারণ পুরুষরা। আমার মতে ধর্ষণের পিছনে নারীরও অনেক ভুল রয়েছে। এদরে নিজেদের কারণেও অনেক সময় এসব হয়ে থাকে। আপনি মধ্যরাতে একটা ছেলের সাথে ফ্লাটে থাকবেন আর সকালে উঠে যদি বলেন ছেলেটা আপনাকে ধর্ষণ করেছে এখানে আপনি আর ছেলেটা সমান অপরাধী। আমাদের ভেতর যদি ধর্মীয় শিক্ষা থাকতো তবে হয়তো এসব বিষয় থেকে আমরা সহজেই মুক্তি পেতাম। এর জন্য নিজেদের সচেতনতাই মূখ্য। তবু কিছু কিছু নোংরামি আমাদের সমাজে হয়ে থাকে যা বন্ধ করার জন্য সমাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা একান্ত জরুরি। খবরের কাগজে যখন দেখা যায় শিক্ষক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে তখন মানবতার মুখোশ খসে পড়ে হৃদয় থেকে। মনে হয় যেনো আমি এক অসভ্য সমাজে বাস করছি। গত ৭ জুলাই পাচঁ বখাটে মিলে একটি কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করার খবর দেখেও অবাক। এখন ধর্ষণ করাও একটা পেশা এবং নেশা। 

জানা যায়, ওই বখাটেরা পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঘরে ঢুকে মারধর করে একজন ছাত্রীকে ধর্ষণ করে সেটা ভিডিও করে। সেই সাথে প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ করে ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে অবশ্য তার পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। তবে একটা মেয়ের সম্মান যে তারা নষ্ট করে ফেলেছে তা ফিরিয়ে দিতে পারবে না কেউ। এ সকল বখাটেরাও কোনো না কোনো পরিবারের সন্তান। তাদের যদি আজ পারিবারিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় জ্ঞান থাকতো, তবে তাদের ভেতর এমন মানসিকতা কখনোই জন্মাতো না। তাই আমি মনে করি এসকল অপরাধ বন্ধ করতে হলে পারিবারিকভাবে সচেতন হতে হবে। ছেলে মেয়ে উভয়ের বাবা-মা, আত্বীয়-স্বজন সকলের নজর রাখতে হবে। সচেতন থাকতে হবে সকলের। 

পরিবার থেকে এই বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে। বখাটের সাথে মিশে আপনার সন্তানও বখাটে হয়ে এমন কর্মকাণ্ড করতে পারে। তাই আপনার সন্তানের প্রতি সর্বদা নজর রাখুন। ধর্মীয় শিক্ষা দিন বেশী বেশী করে। যে ধর্মেরই হোক না কেনো এমন অপরাধের শাস্তি প্রতিটি ধর্মেই রয়েছে। এছাড়াও ধর্ষকদের শাস্তি দিতে হবে কঠিন এবং ভয়ংকরভাবে। যাতে আর জীবনেও এমন সাহস কেউ করতে না পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ