ঢাকা, শনিবার 25 August 2018, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চামড়াশিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে হবে

ডাঃ মোঃ মুহিব্বুল্লাহ: ধর্মগতভাবে তামাম জাহানের অন্য সকল ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় মুসলিম জাতিই বেশি আমিষ তথা মাংসভোজী। এ কারণে এদেশে প্রচুর প্রাণীর চামড়ার সম্ভাবনা হওয়াই স্বাভাবিক। আমাদের প্রতিবেশী দেশের মতো কোনো দেশে এদেশের মুসলিম জনসংখ্যার চেয়ে বেশি মুসলমান বসবাস করলেও ধর্মীয় বৈষম্য বা অসহিষ্ণু পরিবেশ ও সাম্প্রদায়িক অসম্প্রীতির কারণে সে সকল দেশে এতোটা গোমাংসের প্রচলন রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। 

যেসব দেশে গোরক্ষার আন্দোলনের নামে প্রাই মুসলিম হত্যা ও নির্যাতন লেগেই থাকে। যার কারণে এমন দেশগুলোর মুসলিম জাতি গণনায় বেশ বড় অংকের হলেও তাদের খাদ্যখাবার ও তাহজিব তামদ্দুনে সরকারি ও জাতিগত বিধিনিষেধ বা আগ্রাসনের কারণে সেদেশে চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা দারুণ ক্ষিণ বলেই সবাইকে স্বীকার করে নিতে হয়। 

তবে মুসলিম ও অমুসলিম সকল মানুষের মধ্যেই চামড়ার প্রয়োজনীয়তা সমান। ভ্যানিটিব্যাগ, লেদার, ব্রিফকেস,  জুতা, বেল্ট, ঢোল-তবলা ও হরেক প্রকার আসবাবপত্রের কাভারসহ নানান রকম চামড়াজাত সামগ্রী কার না প্রয়োজন। তামাম জাহানের মধ্যে মাংস ও গোমাংসভোজী ব্যক্তি ও জাতি পাওয়া না যেতে পারে। কিন্তু চামড়াজাত পণ্য ব্যবহার করে না এমন কোনো ব্যক্তি ও জাতি গোষ্ঠি পাওয়া যায় না। 

যে কারণে সারা বিশ্বের মধ্যে চামড়া শিল্পের জন্য বাংলাদেশের সম্ভাবনাই উজ্জ্বলতম। এমনকি আমরা আমাদের দেশকে বিশ্বের মধ্যের চামড়ার খনি হিসেবেও অভিহিত করতে পারি। সারা বছর এদেশের মানুষ গোমাংস ভক্ষণ করে থাকে। এছাড়াও ঈদুল আজহা এলে আমাদের এদেশে চামড়ার মৌসুম এসেছে বলেও বলা চলে। মুসমিলদের ধর্মীয় এবাদাত কোরবানীর এ সিজেনে সামর্থ্যবান ছাড়াও অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান এ কোরবানী করে থাকে। আর যাদের মধ্যে একা হোক অথবা একাধিক ভাগীদারে হোক গরু কোরবানীর প্রবণতা ও প্রচলনটাই বেশি পরিলক্ষিত হয়। যে গরুর চামড়াই মানুষের বেশী প্রয়োজনীয় চামড়াজাত দ্রব্যের চাহিদা পুরণ করে থাকে। ঊট, গরু, মহিষ, দুম্বা, ছাগল, ভেড়া ও হরিণের মতো নানান প্রাণী মানুষ খেয়ে থাকলেও চামড়াজাত দ্রব্যের চাহিদা মিটাতে গরুর চামড়ার তুলনাই নেই। সে জন্য বলা যায় এদেশের মুসলমানেরাই বেশি গরুভোজী হওয়ার কারণে এ শিল্পের সম্ভাবনা আরো উজ্জল থেকে উজ্জলতর। কিন্তু দুঃখের বিষয় এদেশের চামড়া শিল্প প্রায় ১০ বছর যাবত দারুণ প্রতিকুল স্রোতে উজান বাইতে বাইতে আজ একেবারে ধ্বংসের দারপ্রান্তে। প্রতি বছর চামড়ার মৌসুমে বছরব্যাপী লাভের আশা পুষে রাখা টানারি মালিকরা চামড়া পাচারকারীসহ নানান ধরনের এদেশের চামড়া শিল্পের বিরুদ্ধে ছলে বলে কলে কৌশলে লেগে থাকা দেশী বিদেশী চক্রান্ত ষড়যন্ত্রকারীদের করা ঘাতে সারা বছরের ঘানি টেনে আর পুশিয়ে উঠতে পারেনা। 

আবার বছর দুয়েক আগের থেকে ঢাকার হাজারিবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তরের কারণে টানারি মালিকরা আরো এক কোমরভাঙ্গা আঘাত খেয়ে পগু হয়ে পড়েছে। এতোদিনেও সকল টানারি গুলো পরিপূর্ণ ব্যবহারযোগ্য হয়ে গড়ে উঠে উৎপাদন আরম্ভ করতে পারিনি। যার ফলে ব্যাংক ঋণের ঘানি টানারি শিল্প মালিকদের গলায়বাধা মরণ কাঁটা হয়ে আজও আছেই। এরি প্রেক্ষিতে আরো বেশি চামড়া পাচার হওয়ার পথে ধাবিত হচ্ছে। এভাবে প্রতিটা চামড়ার মৌসুম যদি চামড়া পাচারকারীদের পদপিষ্ট হয় তাহলে আমাদের দেশের ঝরে যাওয়া অনেক শিল্পের মতো চামড়া শিল্পকেও অদুর ভবিষ্যতে বিদায়ের পথে পা রাখতেই হবে। দেশ নিয়ে একটু চিন্তা করলেই যা সকল দেশপ্রেমিক ভাবুকের জ্ঞানে নাড়া দেবেই। অথচ এতোটা উর্বর খাতে এদেশের দেশপ্রেমিক পরিচয় দিয়ে মঞ্চ কাপিয়ে বেড়ান একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষি রাজনীতিক ও দলীয় পৃষ্ঠপোষক মহল তারা নিজেদের দেশের শিল্পের আজরাইল বনে যেয়ে প্রতিবেশী দেশে চামড়া পাচার করে নানাবিধ সুবিধা অন্বেষণের কাজে ব্যস্ত রয়েছে। চামড়ার মৌসুম এলেই চামড়া শোধনের কাঁচামালগুলোর দামও হয়ে যায় আকাশচুম্বী। কারা করে এসব অসাধু কাজ? তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যকি কেউ নেই? নাকি জাতি যাদের প্রতি সেসকল চামড়া শিল্প বিধ্বংসী কর্মকান্ডে লিপ্ত দুর্নীতিকদের নিয়ন্ত্রণের আশা করার তারাই এহেন ঘৃণ্য কাজে জড়িত। 

এটাই যদি সত্যি হয় তাহলে জনতার উচিৎ তাদের দেশের সুজলাসুফলা সম্ভাবনাময় উর্বর বাগানকে গুটিকয় হুতুম পেচার অত্যাচারে নষ্ট না হতে দেয়া। চামড়া শিল্পকে উন্নত করে বিশ্বের মধ্যে দেশকে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে চামড়া পাচারকারী, চামড়া বাজারজাতকরণ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিকারী এবং এহেন অপকর্মের সাথে জড়িত ক্ষমতাবানদেরকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে সৎ, যোগ্য নীতিবানদেরকে বসিয়ে এই প্রিয় জন্মভূমির উন্নয়নে নিজেদেরকে নিয়োজিত করা। তাই আসুন আমরা চামড়া শিল্পের এই মৌসুম থেকেই সকল প্রকার অসাধুদেরকে উৎখাত করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে চামড়া শিল্প রক্ষার শপথ নিয়ে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিয়ে এ শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার কাজে লেগে পড়ি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ